গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি
ছবি সংগৃহীত।

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি। আজকে একটা নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকার চেষ্টা করছে অতিদ্রুততার সঙ্গে দেশকে কী করে একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়।

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম— আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তারা অনেকটা আপনার ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

গণতন্ত্র রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে যে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে— আমি মনে করি যে সরকারি দল, বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশনাল করা। তাকে যেন কাজ করে ঠিকমতো, সেইভাবে কাজ করার চেষ্টা করা। অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে। সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি মনে করি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করবার জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য একটা সত্যিকার অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাস যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি। এই বিষয়গুলো আমাদেরকে সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি। এই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বারবার বাধা পেয়েছে। আজকে সেই সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ আমরা কখনো অবহেলায় একে না হারাই। এ কথাটা সবসময় আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।

সিলেটের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের কিছু সমস্যার কথা আপনারা বলেছেন। আমার মনে হয় আপনাদের মন্ত্রীবর্গ যারা আছেন, আপনাদের সদস্য যারা আছেন, তারা যথেষ্ট যোগ্য। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা কথা বলছেন, কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে শুনলেন যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ ইতিমধ্যে সামনে চলে এসেছে। ইনশাআল্লাহ এই কাজগুলো এগিয়ে যাবে এবং এর মধ্যে দিয়ে আপনাদের জনগণের যে অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে নিশ্চয়ই।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: গুলশানে আ’লীগের মিছিলের বিষয়ে তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: গুলশানে আ’লীগের মিছিলের বিষয়ে তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি
ছবি সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়। এর অংশ হিসেবে ফজর নামাজের পর অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে মিছিল করে ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটছে। তাদের কিছু অপতৎপরতা মাঝেমধ্যে দৃশ্যমান হয়। ফজরের নামাজের পর তারা দু-একটি মিছিল করে ভিডিও-টিডিও করে। অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে এসব মিছিলের বিষয়টি আমরা দেখেছি।

গুলশানে মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, দিনে বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে সেখানে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সালহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল। কিন্তু শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে।

গুলশানের ঘটনাকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটাকে ব্যর্থতা বলার কোনো সুযোগ নাই। আমরা পরে ব্যবস্থা নিয়েছি, সেটা আপনারা জানেন।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন গলিতে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় দুজনকে গ্রেফতার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 




প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস: মঙ্গলবার রাত থেকেই সংকট দূর হয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ আগের অবস্থায় ফিরবে

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস: মঙ্গলবার রাত থেকেই সংকট দূর হয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ আগের অবস্থায় ফিরবে
ছবি সংগৃহীত।

নতুন করে তৈরি হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট আগামীকাল রাত থেকেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও ব্যবসায়ী ফজলুল হক।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

ফজলুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় আমরা কাল রাতে ফিরে যেতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের মনে হয় যে, আজকের এই বৈঠকের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি, সবচাইতে বড় স্বস্তির খবর।’




হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার

হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার
ছবি সংগৃহীত।

হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধান দিতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব অস্ত্র বা গোলাবারুদের তথ্য দিলে তথ্যদাতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সহায়তা করলে নির্ধারিত হারে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে র‍্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের (সিপিসি-৩) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যাবের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাইফেল, সাবমেশিন গান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও স্নাইপারের তথ্য দিয়ে উদ্ধারে সহায়তা করলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শটগান, পিস্তল ও গ্যাস গানের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার সেলের তথ্যের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সব ধরনের গোলাবারুদের ক্ষেত্রে প্রতি রাউন্ডের জন্য ৫০ টাকা হারে পুরস্কার দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিলে আইনি সুরক্ষাও মিলবে। তবে আগামী ১৫ নভেম্বরের পর কারও কাছে হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গেলে বা এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) ও র‍্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।