গজালিয়া আনসার ভিডিপি কমান্ডারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ উঠেছে
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

গজালিয়া আনসার ভিডিপি কমান্ডারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ উঠেছে

গজালিয়া আনসার ভিডিপি কমান্ডারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ উঠেছে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি প্লাটুন কমান্ডার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৭ ফ্রেরুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে গজালিয়া এলাকায় ​সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুর রহমান ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, চাকরি দেওয়া এবং পদমর্যাদা (র‍্যাংক) বৃদ্ধির নাম করে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও প্রতিহিংসার জেরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সদস্যদের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান। প্লাটুনের আওতাধীন এলাকার মূল্যবান গাছ কাটা ও চুরির মতো ফৌজদারি অপরাধে লিপ্ত হওয়া। সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার। অধস্তন সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানসিক নির্যাতন চালানো। নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘সোর্স’, মানবাধিকার কর্মী কিংবা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ এনে, এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রশাসনিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে আমাদের বিরুদ্ধে গজালিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান ও যুবলীগ সদস্য নুরুল আলম ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং তারা আমাদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য এটি করেছে।
​সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার হাজেরা আক্তার জানান,বিষয়টি আমরা জেনেছি আমাদের তদন্ত টিম এলাকা পরিদর্শন করেছে তদন্তশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব

কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ: বান্দরবানে বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক মাঝের পাড়া উপজাতীয় উধ্যুসীত আবাসিক এলাকার মত বির্তকিত জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনে ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছে জেলা প্রশাসন। এই বির্তকিত ভুমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিয়েছে কোটি টাকার বেশী।
জানা যায়,সারা দেশে ২৩ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া জনবসতিপুর্ন এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়। উক্ত জমি অধিগ্রহনের আপত্তি জানিয়ে এলাকাবাসী শিক্ষা উপদেষ্টা,  শিক্ষা সচিব, কারিগরি  বোর্ড চেয়ারম্যান, প্রকল্প পরিচালক ,  জেলা প্রশাসক ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন। 
আবেদনে তারা বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে অনুপযোগী এই জমি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই এই বির্তকিত জমির প্রস্তাব করেন। এই জমির মালিক ফ্যসিস্ট সরকারে মন্ত্রীর এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরীর ভাই জাহেদ হোসেন চৌধুরী সহ ১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত কয়েকজন স্কুল শিক্ষক। এই চক্রটি আ'লীগ সরকারের আমলে সস্তায় পাহাড়ী জমি ক্রয় করে এবং সকারের প্রভাব বিস্তার করে উক্ত ভুমি অধিগ্রহণে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 
এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবী, এই জমিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন হলে,  স্থানীয় উপজাতীদের সাথে সার্বক্ষণিক ছাত্র/ ছাত্রীদের সংর্ঘষ সহ নানান সমস্যা হতে পারে।  যা জেলায় আইন শৃঙ্খলার মারাত্নক অবনতি ঘটবে। এলাকার বাসিন্দারা আরো বলেন, অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত জমি মহাসড়কের একেবারে সন্নিকটে। যা জেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই সড়কের পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে,  সড়কটি সবদিক থেকে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাবে। 
মাঝের পাড়ার বাসিন্দা ঘন্জ মেম্বার বলেন, যে জায়গাটি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়েছে অধিকাংশ পাহাড়। অবশিষ্ট ভুমি পাহাড়ী ছরা। এই এলাকায় যদি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে একদিকে পাহাড় কাটতে হবে অন্যদিকে পাহাড়ী ছরা বন্ধ করতে হবে। এতে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানিয়েছে,এই বির্তকিত জমি দ্রুত ভুমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তাদের সাথে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার সচেতন মহল এই জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া বন্ধ করে নতুন কোন জমি নির্বাচনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।




ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ

ফলোআপ: নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আসা" আরকান আর্মির ৩ সদস্যকে আদালতে প্রেরণ
ছবি সংগৃহীত।

মিয়ানমারের ওয়ালিদং ট্রনিং ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সেই ৩ আরকান আর্মি কমান্ডোকে  কোর্টে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 
বুধবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারী)  সকালে তাদেরকে বান্দরবান কোর্টে প্রেরণ করেন। 
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবদুল বাতেন মৃধা।  
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,আটক ৩ জনকে ৩৪ বিজিবি জোয়ানরা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা আমতলী 
এলাকার লম্বামাঠ থেকে আটক করে সোমবার সন্ধ্যায়। তাদের কাছে ছিল পৌঁনে ২ লাখ  কিয়েত ( বর্মী টাকা)।
পরে তাদের বিষয়ে ৩৪ বিজিবির চাকঢালা বিওপির হাবিলদার জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-১৩ তারিখ -২৪/২/২০২৬ ইংরেজি।
কারণ তারা ৩ জনই বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলার নাগরিক। তারা যে জন্যেই সেখানে ( মিযানমারে) যাক না কেন,তারা ভিনদেশে গিয়েছে। টাকার লেন-দেন করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকাই তা প্রমান করে। যুদ্ধদের পোষাক বা অস্ত্র অথবা অন্য কোন ডকুমেন্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলা দেয়া হতো।
এখন দেয়া হয়েছে চোরাকারবার মামলা। যার ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি/২৬ বি ধারা। 
স্থানীয় আলী আকবর,মো:সোলেমান ও আবদুসচ্ছালাম বলেন ৩ আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাকে চোরাচালান মামলায় কোর্টে পাঠানোর জন্যে। আবার  অনেকে মাঝে  চাপা ক্ষোপের সৃষ্টিও  হয়েছে এ বিষয়ে।

তারা আরো বলেন সোমবার বিকেলে প্রথমে তাদেরকে স্থানীয়রা ধৃত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপকটে স্বীকার করেন,তারা ৩ জনই আরকান আর্মির কমান্ডো সদস্য। ওয়ালিদং নামক যুদ্ধ ঘাঁটি থেকে তারা পালিয়ে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে । 
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ফরিদুল আলম বলেন, অন্তত ৩ মাস তারা কমান্ডো ট্রেনিং দিয়েছে বলেছে স্থানীয়দের স্বীকার করেছে এ ৩ যুবক। পরে তাদের বিরুদ্ধে চোরাকারবার মামলা হয়। যা নিয়ে অনেকে হতাশ।  
অপর দিকে গ্রাম পুলিশ আলী হোসেন বলেন,তারা আরকান আর্মির সদস্য বলে আটকের প্রথম অবস্থাতেই  স্বীকার করেন তারা । এবং তারা কমান্ডোও নাকি । ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে মন্ডু শহরে যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলায় ভয়ে
তারা গোপনে পালিয়ে এসেছে । এছাড়া সেখানে তীব্র খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।

আমতলী মাঠ সীমান্তের কৃষক মো:সোলাইমান এ প্রতিবেদককে বলেন,
এই ৩ উপজাতীয় যুবক মিয়ানমান সীমান্ত পার হওয়ার প্রথম দৃশ্য দেখেন তিনি। তখন সময় ৪ টা। তারা ৩ জনে ২ টি ব্যাগ কাঁদে নিয়ে তার সামনে দিয়ে বাংরাদেশে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা বলেন ,ওয়ালিদং ট্রনিং সেন্টার থেকে তার পালিয়ে আসে এপারে। 
উল্লেখ্য,গত সোমবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কিয়েত সহ ৩ উপজাতীয় যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যারা আরকান আর্মির সদস্য বলে দাবী করেন তারা। আটককৃত এ যুবকরা হলেন, রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা থুইনুমং মার্মার ছেলে উয়ইমং মার্মা (২৫), বান্দরবানের রুমা উপজেলার মিলুচিং মার্মার ছেলে হ্লাচিং থোয়াই মার্মা (২৪) এবং একই এলাকার মংক্যাচিং মার্মার ছেলে গরাইমং মার্মা (৩০)।




বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ

বান্দরবানে বন বিভাগের অভিযানে জ্বালানি কাঠভর্তি ট্রাক জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি কাঠসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলা এলাকায় টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল পাহাড়ি সড়কে ওত পেতে থাকে। গভীর রাতে পাচারকারীরা ট্রাকযোগে কাঠ পাচারের চেষ্টা করলে কদুখোলা এলাকায় সেটিকে আটক করা হয়। অভিযানে ট্রাকটি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫৫০ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদার বলেন, “বনজ সম্পদ রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করছি। পাচারকারীরা কৌশলে ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও আমাদের নজরদারি এড়াতে পারেনি। অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেই এই পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছে।”

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ট্রাক ও কাঠের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাচার চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড় রোধে এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।