কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক হত্যা: পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন অভিযুক্ত
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক হত্যা: পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন অভিযুক্ত

কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক হত্যা: পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন অভিযুক্ত
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮)  শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে এবং ওই যুবকরা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সোলাইমানকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




চকরিয়া সেভরণ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের বিক্ষোভ

চকরিয়া সেভরণ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের বিক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেভরণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জান্নাতুল মাওয়া লুচি (২২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

নিহত জান্নাতুল মাওয়া লুচি চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শেফায়েত মাসুম।

স্বজনদের দাবি, দালালের মাধ্যমে লুচিকে সেভরণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাঁকে রক্ত দেওয়ার সময় হঠাৎ শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে তিনি সন্ধ্যার দিকে মারা যান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁরা রোগীকে দেওয়া রক্তের ব্যবহৃত ব্লাড ব্যাগ দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্বজনরা জানান, লুচির সিজারিয়ান অপারেশনের সঙ্গে ডা. ইমরান উদ্দিন রুবেল ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিশাত ফারজানা সৌরভী সম্পৃক্ত ছিলেন। অপারেশনে সহযোগী হিসেবে হিরা বর্মন, নাজেম ও সাথী ছিলেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

তাঁদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

ঘটনার পর হাসপাতালের কার্যালয় বন্ধ করে কর্তৃপক্ষের লোকজন সরে যান বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে সেভরণ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল কবিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহতের স্বজনদের আরও দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ‘সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নাম ব্যবহার করে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন পরিচালক দাবি করেন, হাসপাতালটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আলাদা এবং কয়েকজন মিলে এটি পরিচালনা করছেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৬ মে সেভরণ হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে একই বছরের ৩ জুলাই মোবাইল কোর্টের অভিযানে হাসপাতালটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে সর্বশেষ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলেরও দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে চিকিৎসাসেবায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, "মৃত্যুর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"




চকরিয়ায় মানববন্ধনে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

চকরিয়ায় মানববন্ধনে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর কোচপাড়া রিয়াজুল জান্নাত জামে মসজিদসংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

রাহমানিয়া মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ কারি মোহাম্মদ হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ফরিদ হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন কোচপাড়া রিয়াজুল জান্নাত জামে মসজিদের খতিব ও কাকারা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মজিদ, সমাজ সরদার মাশুক আহমদ মেম্বার, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কাইছার হামিদ, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম, যুবনেতা নুরুল আবসার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসহাব উদ্দিন, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা ও মসজিদের সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন এবং মাওলানা ওসমান গনি।

বক্তারা বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় মাদক কারবার ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।




ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নাকের ডগায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, গড়ে উঠেছে মুরগির খামার

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নাকের ডগায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, গড়ে উঠেছে মুরগির খামার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের আওতাধীন ডুলাহাজারা বনবিটে সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে মুরগির খামারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের লাগোয়া মাদার ট্রি, গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়নের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বনভূমি দখল করে অবৈধ বসতি, মুরগির খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগেই সংরক্ষিত বনভূমিতে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। বনভূমি দখলের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হবে। এতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, "উক্ত জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।"

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান ও মামলা হওয়ার পরও কীভাবে একই এলাকায় নতুন করে মুরগির খামারসহ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে? বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।