গ্রাম থেকে অলিগলি—সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলবে ম্যারাথন: সারোয়ার আলমগীর
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

গ্রাম থেকে অলিগলি—সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলবে ম্যারাথন: সারোয়ার আলমগীর

গ্রাম থেকে অলিগলি—সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলবে ম্যারাথন: সারোয়ার আলমগীর
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও অলিগলিতে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর। আগামী প্রজন্মকে মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই প্রচারণাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আজ থেকে চট্টগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকার ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর—এই দুই উপজেলায় সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী প্রচারণা চলবে। প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও অলিগলিতে এই ম্যারাথন অব্যাহত থাকবে।’

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। মাগরিবের পর সন্তানরা যেন অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক ও কর্মমুখী জীবনে ফিরতে উৎসাহ দিতে হবে। সচেতন পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই একজন মাদকাসক্ত মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে মাদকবিরোধী র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিবিরহাট বাজারের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।




ফটিকছড়ির কুতুবছড়িতে বালু লুট, অভিযানে ড্রেজার জব্দ

ফটিকছড়ির কুতুবছড়িতে বালু লুট, অভিযানে ড্রেজার জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবৈধভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় কুতুবছড়ি খাল থেকে তুলে রাখা সাড়ে ১১ হাজার ঘনফুট বালু এবং বালু তোলায় ব্যবহৃত একটি ড্রেজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা বালু তাৎক্ষণিক নিলামে বিক্রি করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী চা-বাগানসংলগ্ন কুতুবছড়ি খালে এ অভিযান চালানো হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাঈদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফটিকছড়ি থানার পুলিশের একটি দল ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র কিছুদিন ধরে কুতুবছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় খাল থেকে তুলে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বালু ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ইউএনও মো. সাঈদ ইব্রাহিম বলেন, ‘কুতুবছড়ি খালে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বালু ও ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’




ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একখুলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো—একখুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জাহিদ (৮) ও আবদুর শুক্করের ছেলে তাহসিন (৮)। তারা স্থানীয় একখুলিয়া দারুস সুন্নাহ নূরানী মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদ্রাসা ছুটির পর চার বন্ধু একসঙ্গে বাড়ি ফেরে। পরে তারা স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। চার শিশুর কেউই সাঁতার জানত না। একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যেতে থাকলে চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুজন কোনোভাবে পুকুরের পাড়ে উঠতে পারলেও জাহিদ ও তাহসিন পানিতে তলিয়ে যায়।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাদের দ্রুত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী নিরঞ্জন সরকার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুকুরে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।




ফটিকছড়িতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ, কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ, কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩টি গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার ভোররাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষা সূত্রে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।

গ্রেপ্তার কালা মোবারক ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর হাছি চৌধুরীর বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে। অপর তিনজন হলেন মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। তাঁরা সবাই ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ মিমি পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলভার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ মিমি পিস্তলের ১৮টি, ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের পাঁচটি গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই হত্যা মামলায় এর আগে আফছার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ মিমি পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি ‘তরাস’ পিস্তল। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে অপরাধীদের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁকে ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর একজন শুটার হিসেবেও চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং চট্টগ্রাম নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের উপস্থিতির প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান এবং তিন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।