কক্সবাজারে সৈকতে ভেসে এলো আরও এক মরদেহ, নিহত বেড়ে ৪
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে সৈকতে ভেসে এলো আরও এক মরদেহ, নিহত বেড়ে ৪

কক্সবাজারে সৈকতে ভেসে এলো আরও এক মরদেহ, নিহত বেড়ে ৪
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ৫ পর্যটকের মধ্যে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো চারজনে। এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ওই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে অদূরের সৈকতে ভেসে আসা মরদেহটি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হারুনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনেরা।

এর আগে বুধবার বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টের পাশের সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ (২১)। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মস জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের দুটি পৃথক দল হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজু খাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে বেড়াতে যায়। বিকেলের দিকে সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হলে ধীরে ধীরে বালুচরটি পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে পুরো চরটি পানির নিচে চলে গেলে দুই দলের সদস্যরা সাগরের পানিতে আটকা পড়েন বলে জানান তিনি।

ইউএনও আরও বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হয় আরও একজনের মরদেহ।

জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. হেলালের ছেলে মোহাম্মদ আকাশ। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। এরপর পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং করা একটি রিসোর্টে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা রেজু খাল পেরিয়ে ওই বালুচরে যান। একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা আরেকটি পর্যটক দলও সেখানে অবস্থান করছিল। হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপদের মুখে পড়েন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, নিহত চারজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, নিখোঁজ একজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।




রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার-০৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ। বিশেষত কক্সবাজার, বহুমুখী সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যবসা করছে। সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। তাই তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমপি কাজল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত ‘উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ-নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদস্থ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও নাগরিক অধিকার হরণের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট কক্সবাজারসহ দেশের ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব।
জেলা সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক,, জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের মুহাদ্দিস মাওলানা ড. হারুন আজিজী নদভী। বিশেষ আলোচক ছিলেন, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, রামু জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত ছালাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সভাপতি মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরী, হাশেমিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আখতারুল আলম, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক চকোরী, এড. মোহাম্মদ নিজামুল হক, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেলাল তৌহিদ, ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ অলি উল্লাহ আরজু প্রমুখ।
বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে কক্সবাজারের পরিবেশ, বনভূমি, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক পাচার, অপহরণ, মানবপাচার, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম, জেলা খেলাফত মজলিস সভাপতি মাওলানা আবু মুসা, নেজামে ইসলাম নেতা মাওলানা খালেদ সাইফী, লেখক হাফেজ সাইফুল ইসলামসহ প্রতিনিধিত্বশীল আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।




কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টের পাশের সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

তিনি বলেন, দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি দুই পর্যটকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে

একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে
ছবি সংগৃহীত।

নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলত ‘সারা এক্সপ্রেস’ প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি বাস (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতির মাধ্যমে একই নাম্বারপ্লেট লাগিয়ে কক্সবাজার-ঢাকা মহাসড়কে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক আরেকটি বাস। যা মোটরযান আধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ইতোমধ্যে জালিয়াত বাসটি জেলগেট এলাকার একটি পার্কিং থেকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।

সারা এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কক্সবাজার জোন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের মালিকানাধীন বাসের নম্বর (ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতি করে প্রায় দেড় মাস যাবত মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস। বিষয়টি তারা অবগত হয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে ট্রাফিক পুলিশকে অভিযোগ করেন। এরপরও অবৈধ চলাচল বন্ধ না হওয়ায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে বাসটি সনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই গাড়ি ‘জব্দ’ অবস্থায় পুলিশ লাইনে রয়েছে।

জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা এক্সপ্রেসের একই নাম্বার ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাসে ব্যবহারের বিষয়টি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। যার কারণে মূল মালিককে ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়।

তিনি জানান, কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করতে ভয়ংকর একটি জালিয়াতচক্র মহাসড়কে নাম-বেনাবে বিভিন্ন বাস নামিয়ে দিয়েছে। এসবের কারণে কোম্পানির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

নকল নাম্বার প্লেটধারী বাসগুলো সনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন পরিবহন মালিকগণ।

নাম্বার প্লেট জালিয়াতির অভিযোগে গাড়ি জব্দের বিষয়ে অবগত বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শামীম জানান, অভিযুক্ত বাসটি জব্দমূলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগমূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন নাম্বার প্লেটের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করবে আদালত।