একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে

একই নাম্বারে চলছে দুইটি বাস, ধরা পড়লো পুলিশের হাতে
ছবি সংগৃহীত।

নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলত ‘সারা এক্সপ্রেস’ প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি বাস (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতির মাধ্যমে একই নাম্বারপ্লেট লাগিয়ে কক্সবাজার-ঢাকা মহাসড়কে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক আরেকটি বাস। যা মোটরযান আধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ইতোমধ্যে জালিয়াত বাসটি জেলগেট এলাকার একটি পার্কিং থেকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।

সারা এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কক্সবাজার জোন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের মালিকানাধীন বাসের নম্বর (ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতি করে প্রায় দেড় মাস যাবত মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস। বিষয়টি তারা অবগত হয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে ট্রাফিক পুলিশকে অভিযোগ করেন। এরপরও অবৈধ চলাচল বন্ধ না হওয়ায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে বাসটি সনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই গাড়ি ‘জব্দ’ অবস্থায় পুলিশ লাইনে রয়েছে।

জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা এক্সপ্রেসের একই নাম্বার ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাসে ব্যবহারের বিষয়টি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। যার কারণে মূল মালিককে ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়।

তিনি জানান, কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করতে ভয়ংকর একটি জালিয়াতচক্র মহাসড়কে নাম-বেনাবে বিভিন্ন বাস নামিয়ে দিয়েছে। এসবের কারণে কোম্পানির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

নকল নাম্বার প্লেটধারী বাসগুলো সনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন পরিবহন মালিকগণ।

নাম্বার প্লেট জালিয়াতির অভিযোগে গাড়ি জব্দের বিষয়ে অবগত বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শামীম জানান, অভিযুক্ত বাসটি জব্দমূলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগমূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন নাম্বার প্লেটের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করবে আদালত।




চকরিয়ায় পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

চকরিয়ায় পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার চেয়ে থানায় মালিক
ছবি সংগৃহীত।

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক বিড়াল মালিক।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড কাজির পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সামশুল আলম বিড়ালটিকে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে সামশুল আলম তার পালিত ছাগল বাড়ির পেছনে খালি চারণভূমিতে বেধে দিতে গেলে বিড়ালটি পেছন পেছন চল যায়। এ সময় প্রতিবেশী ফরিজা বেগম পালিত কুকুর তার বিড়ালকে কামর দেয়ার চেষ্টা করলে সামশুল আলম কুকুর টিকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেন। এতে ফরিজা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি হাতে নিয়ে এসে বিড়ালটিকে এলোপাতাড়ি পেটায়। এতে বিড়ালটি গুরুতর আহত হয়ে মারা যায়।  ঘটনার সাথে সাথে বিড়াল টিকে উদ্ধার করে চকরিয়া পশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিড়ালটি কে মৃত ঘোষণা করেন।

বিড়ালের মালিক সামশুল আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,সে শুধু একটা বিড়াল ছিল না,ও আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিল। কোনো অপরাধ ছাড়াই ওকে এভাবে নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলা হলো। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো অবলা প্রাণীর ওপর এমন অত্যাচার করার সাহস না পায়।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,একটি বিড়ালকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের ‘প্রাণীকল্যাণ আইন,২০১৯’ অনুযায়ী অবলা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতা দণ্ডনীয় অপরাধ।




রামুতে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ খুন

রামুতে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ খুন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নজির আহমদ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পুত্রবধু নাতি ও সন্তানদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গর্জনিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নজির আহমদ ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নজির আহমদের সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ, নাতি ও সন্তানদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এ ঘটনায় গর্জনিয়াপাড়া এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।




ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে দিন-দুপুরে দুই দফা ডাকাতি

ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে দিন-দুপুরে দুই দফা ডাকাতি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের হিমছড়ি ঢালায় এক দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ও দুপুরে পৃথক এ ঘটনায় যাত্রীদের মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় মোহাম্মদ তারেক নামে এক যাত্রী ডাকাতির শিকার হন। তিনি রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ডাকাতরা তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ওই স্থানে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঈদগড় মুক্তি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টিং কর্মকর্তা আবদুল হাকিমসহ কয়েকজন ডাকাতের কবলে পড়েন। তাঁদের মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই স্থানে এক দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে পরপর এমন ঘটনার খবরে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।