সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

রাঙামাটির সাজেকে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সংস্থাটির অভিযোগ, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টায় গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেন অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল তাঁদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।

আইএসপিআরের অভিযোগ, আলোচনা চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১১টায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় আইএসপিআর।

অবরোধ ও সহিংসতাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে আইএসপিআর অভিযোগ করেছে, স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




তীব্র গরমে চাপে পোশাকশিল্প, উৎপাদন কমতে পারে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত

তীব্র গরমে চাপে পোশাকশিল্প, উৎপাদন কমতে পারে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত
ছবি সংগৃহীত।

তীব্র গরমে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কারখানার ভেতরে বাড়তি তাপমাত্রায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে কর্মক্ষমতা এবং বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে তাপজনিত চাপে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান এই খাতে গ্রীষ্মকালে কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা অনেক সময় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছায় বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২০২৫ সালে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের পোশাক কারখানার পরিবেশ অনুকরণ করে তীব্র গরমে শ্রমিকদের শারীরিক চাপ ও উৎপাদনশীলতার ওপর এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।

তাপের চাপে কমে উৎপাদনশীলতা

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ৪২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে মোট ২৪৭টি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৩৮ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অত্যন্ত গরম পরিস্থিতির অনুকরণ।

গবেষণায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের শারীরিক চাপ কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, উপযুক্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে তীব্র গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে গবেষণাগারে পাওয়া ফলাফল সব কারখানার বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি মেলে না।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, পুরো কারখানায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিবর্তে তুলনামূলক কম ব্যয়ের কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমেও শ্রমিকদের তাপজনিত চাপ কমানো সম্ভব। ফ্যানের ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান, বায়ু চলাচলের উন্নতি এবং ছাদের তাপ কমানোর ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাপজনিত ক্ষতির প্রভাব অর্থনীতিতেও

অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাব বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। ল্যানসেট কাউন্টডাউন-এর ২০২৫ সালের বাংলাদেশ তথ্যপত্রে তাপের কারণে কর্মঘণ্টা ও সম্ভাব্য আয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত তাপের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য ২৯ বিলিয়ন কর্মঘণ্টা হারিয়েছে, যা ১৯৯০-৯৯ সালের গড়ের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। সম্ভাব্য আয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

এই হিসাব দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের সম্মিলিত ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে। এর মধ্যে কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবাসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে। ফলে এই ক্ষতির পুরোটা তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

গরমে অসুস্থ হচ্ছেন শ্রমিকরা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক জরিপে অংশ নেওয়া ২১৫ জন পোশাকশ্রমিকের ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মের গরম বেড়েছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক গরমের কারণে দুর্বলতা বা অসুস্থতায় ভোগার কথাও বলেছেন।

শ্রমিক অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘তীব্র গরমে অনেক শ্রমিক ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান এবং অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন।’

অতিরিক্ত গরমে শারীরিক ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে কাজে ভুল এবং পোশাকের ত্রুটি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে গরম রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং দীর্ঘ যাতায়াতের ক্লান্তি শ্রমিকদের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার  বলেন, ‘গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকেরা ফ্যান বা এসির নিচে কাজ করার সুযোগ পেলেও কারখানা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তাদের আবার গরমের কষ্ট সহ্য করতে হয়। বাসায় ফিরে অনেক সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, গ্যাসের সংকটও থাকে। অথচ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচও বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাদের বর্তমান মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শ্রমিকদের সুস্থ রাখা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে মজুরি আরও বাড়াতে হবে।’

গরম সামলাতে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কারখানাগুলোতে ফ্যানের ব্যবহার বাড়ানো, বায়ু চলাচল উন্নত করা, নিরাপদ পানীয় জল ও খাবার স্যালাইন সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি পানের জন্য নির্দিষ্ট বিরতি এবং তীব্র গরমের সময় কাজের সূচিতে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এসব উদ্যোগের কারণে বিদ্যুৎ, বিকল্প জ্বালানি, পানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গ্রীষ্মের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে কারখানার পরিচালন বাজেট ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার যে হিসাব উল্লেখ করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট উৎস ও হিসাবপদ্ধতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ক্রেতাদের যৌথ বিনিয়োগের তাগিদ

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল  বলেন, ‘তীব্র গরম এখন শুধু শ্রমিকের স্বাস্থ্যের বিষয় নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, পরিচালন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ফ্যান বা শীতলীকরণ যন্ত্র বাড়ালে হবে না; কারখানার নকশা, বায়ু চলাচল, যন্ত্রপাতির বিন্যাস এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতার দিকেও নজর দিতে হবে। কোথায় তাপের চাপ বেশি, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ করা জরুরি।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘তাপঝুঁকি মোকাবিলার বাড়তি ব্যয় শুধু উৎপাদকদের বহন করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ, যৌক্তিক পণ্যমূল্য এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব নিতে হবে। এ জন্য সরকার, পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তাপঝুঁকি মোকাবিলায় নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন

কারখানায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ু চলাচল, পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং তাপজনিত অসুস্থতায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, তাপঝুঁকি মোকাবিলায় কারখানাভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২০২৪ সালে তাপ মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং বিজিএমইএর বিদ্যমান নির্দেশনা, পরিদর্শনব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে বৈশ্বিক পোশাকশিল্প

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান শ্রোডার্সের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, তীব্র গরম ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রফতানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১০ লাখ কমে যেতে পারে।

গবেষণাটি চার দেশের সম্মিলিত পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাতের ঝুঁকি নিয়ে করা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিনিয়োগ না বাড়ালে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে তাপঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের উপপরিচালক গ্রেফতার

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের উপপরিচালক গ্রেফতার
ছবি সংগৃহীত।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় সোহাগ ফকির (৩৮) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোহাগ ফকির মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি এলাকার বাসিন্দা।


বুধবার (২১ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।


মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগ ফকিরের অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডি। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোহাগ ফকির বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত।




সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর
ছবি সংগৃহীত।

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ শিশু নিহত হয়েছে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ ছিল পথচারী। পথচারী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জন নিহত হয়েছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেলে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩, রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশু।

বয়সভিত্তিক হিসাবে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে। আর বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় প্রাণ গেছে ৯৬২ শিশুর।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদে সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসাসংকট মৃত্যুর হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

সংস্থাটি বলছে, গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছাকাছি যানবাহন চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। এসব সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও সীমিত। ফলে শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুরা নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে, যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।