ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে

ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে
ছবি সংগৃহীত।

ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। একটি রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রফতানি চুক্তির গোপন নথির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা কেটিআরভি-র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভিম্পেল স্টেট মেশিন বিল্ডিং ডিজাইন ব্যুরো-র কিছু নথি হাতে পেয়েছে। যেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনের সময়সূচিতে ‘কে-১০’ কোডধারী ক্রেতার জন্য ৯০টি এপিইউ-এল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের অর্ডারের উল্লেখ রয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা নথিতে এই কোডটি ইরানকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া চীনের জন্য ১৯২টি এপিইউ-৩০৫ লঞ্চারের অর্ডারসহ সাতজন রুশ ক্রেতার নামও নথিগুলোতে রয়েছে।

রাশিয়ার এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী এই লঞ্চারগুলো ইজদেলিয়ে ৩০৫ নামক হালকা বহুমুখী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা ১৪ কিলোমিটার (৮.৭ মাইল) দূরের চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডালাস অ্যানালিটিক্স এই নথিগুলো এফটি-কে সরবরাহ করে এবং পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরান পেয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো তেহরানকে অস্ত্র, স্যাটেলাইট তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে মে মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া তেহরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ করছে না।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো-তেহরান সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার সুখই ৩৫ যুদ্ধবিমান, এমআই-২৮ হেলিকপ্টার ও ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল ইরান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, সুখই-৩৫ জেটের ক্রয় সম্পন্ন হলেও তা চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হস্তান্তরিত হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর ফোরামের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধের শুরুতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূমিকায় পুতিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন।

সূত্র: আল-মনিটর




পারমাণবিক হামলা হলে আমরা প্রস্তুত আছি: ইরানের রাষ্ট্রদূত

পারমাণবিক হামলা হলে আমরা প্রস্তুত আছি: ইরানের রাষ্ট্রদূত
ছবি সংগৃহীত।

ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা সফলতার দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। এখনও যেকোনও মুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পারমাণবিক হামলা করলে ইরান প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাস আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানের বর্তমান অবস্থান, পারমাণবিক ইস্যু, হরমুজ প্রণালি এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলেন।

৯ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে, লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ঘোষণা করেছিলেন যে আলোচনা সফলতার দিকে যাচ্ছে। আর সকালে আমেরিকা ও ইসরায়েল আমাদের ওপর হামলা করলো। আমাদের উপলব্ধি হলো, আমেরিকা ও ইসরায়েল যুক্তির ভাষা বোঝে না। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ।’

তিনি দাবি করেন, ‘গত ৯ মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। পরিকল্পনা ছিল আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করবে, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিরোধীদের ইরানে ঢোকাবে, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করবে, আমাদের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নিয়ে যাবে। এর কোনোটিই ঘটেনি। আমেরিকার সব ঘাঁটি এখন আমাদের হামলার আওতায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সামরিক কমান্ডারসহ ৪৫০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন।’ তার মতে, ‘এর মধ্য দিয়ে আমেরিকা বিশ্বে নিজের আধিপত্যের শেষের দিকে যাচ্ছে।’

তার ভাষায়, ‘আমার পূর্বাভাস, আবারও যুদ্ধ হবে। আলোচনা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে। তবে আমরা গণতন্ত্র ও আলোচনায় বিশ্বাসী। আমেরিকা যুদ্ধে যা অর্জন করতে পারেনি, তা এখন আলোচনার টেবিলে পেতে চায়। আমরা নতুন যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সৎভাবে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছি।’

পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আমেরিকা পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকার ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নজির আছে। তাই তারা আবারও এই অপরাধ করতে পারে। আমেরিকা এখন কঠিন পরিস্থিতিতে আছে, তাদের বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে। নিজেকে বাঁচাতে তারা যেকোনও অপরাধ করতে পারে, পারমাণবিক হামলাও।’

আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানের বড় শত্রু কে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না। আমাদের দৃষ্টিতে ইসরায়েল আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য। ইসরায়েলই আমেরিকার নীতি নির্ধারণ করে। আমেরিকার অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি সবকিছু জায়নবাদীরা পরিচালনা করে।’

পারমাণবিক হামলা ঠেকাতে ইরানের পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে যৌক্তিকতা দেখি না। তাই এই হামলা ঠেকানো যাবে না। কিন্তু যদি এমন হামলা হয়, তাহলে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে আমরা কঠিন জবাব দেবো।’

হরমুজ প্রণালি খোলার শর্ত

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওমান ও কাতারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনই খোলা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা ইরানের ওপর অবরোধ না ভাঙবে, ততক্ষণ হরমুজ নতুন করে খোলা হবে না। আমরা আমেরিকাকে যে প্রস্তাব দিয়েছি, সেখানে বলেছি— অবরোধ তুলে নেওয়া, পুনরায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতিসহ আগের ঘোষিত শর্তগুলো মানলে আমরা হরমুজ খুলে দিতে প্রস্তুত।’

বাংলাদেশের জাহাজ ও জ্বালানি প্রসঙ্গ

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশের মতো দেশ, যার জ্বালানি সরবরাহ হরমুজের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কীভাবে সহায়তা করবে ইরান— এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সত্যি কথা হলো, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে কারো জন্যই কিছু করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের কোনও জাহাজ যদি হরমুজ পার হতে চায়, দুটি শর্ত মানলে আমাদের পক্ষ থেকে কোনও সমস্যা নেই।’

শর্ত দুটি হলো— ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করা এবং ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ রুট মেনে চলা।

তিনি দাবি করেন, ‘এখনও প্রতিদিন জাহাজ চলাচল করছে। যেসব জাহাজ হামলার শিকার হচ্ছে বা মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, তারা আমাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত রুটে গেলে এবং আমাদের জানালে কোনও সমস্যা নেই।’

বাংলাদেশের কোনও জ্বালানিবাহী জাহাজ এই রুট ব্যবহার করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য আপনাদের সরকারের কাছে আছে। আমরা জাহাজ চলাচলের তথ্য রাখি, কিন্তু কোন দেশের কোন জাহাজ কী উদ্দেশ্যে যাচ্ছে, সেটা আমরা প্রকাশ করতে চাই না যাতে দেশগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি না হয়। তবে আপনাদের দেশে এখনও টহল আছে এবং আপনাদের কোনও জাহাজে হামলা হয়নি, এটাই প্রমাণ করে যে প্রক্রিয়াটি চলছে।’ 




যুদ্ধের ইতি টানতে খসড়া প্রস্তাব, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা

যুদ্ধের ইতি টানতে খসড়া প্রস্তাব, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা ইরানি আলোচকরা দোহা ত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে এবং পরবর্তীতে আবারও বৈঠক হতে পারে। সোমবার বৈঠকের বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রোববার ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ত্যাগ করেছেন। তবে বৈঠকে আলোচনায় কোনো ধরনের জটিলতার কারণে তারা দোহা ত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের তৈরি সাত দফার একটি পরিকল্পনা ঘিরে ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমঝোতা চুক্তির অধীনে এই প্রস্তাব আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বার্তা আদান-প্রদান সহজতর করার লক্ষ্যে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।

ইরানি এই মুখপাত্র বলেন, “আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত। মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, ইরানের সব দাবির প্রতি সম্মান এবং ইরানের ন্যায্য প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও চুক্তি সই হবে না। এমনকি এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত বা সুরক্ষিত করাও সম্ভব নয়।”

শনিবার কাতারের সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি নিয়ে যে সাত দিনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা কমিয়ে দুই দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা যেতে পারে।

ইরানের দেওয়া এই প্রাথমিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত ফের বেড়ে যেতে পারে; এমন উদ্বেগের মাঝেই সর্বশেষ দফায় ওই কূটনৈতিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে বাঘাই বলেন, নির্বাচনে নতুন একটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে বলে তেহরান মনে করে না।

ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র এবং তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যদিও তিনি ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি।

সূত্র: রয়টার্স।




আমিরাতে এইচএসসিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, ৬ জনের জিপিএ-৫

আমিরাতে এইচএসসিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, ৬ জনের জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। এর মধ্যে আবুধাবির শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে শতভাগ পাসের সাফল্য এসেছে।

অন্যদিকে, রাস আল খাইমার বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয় শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, আবুধাবির শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ১৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন A, তিনজন A- এবং একজন B গ্রেড অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, রাস আল খাইমার বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয়জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।