রিজার্ভ কমছে, বাড়ছে ডলারের দাম
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

রিজার্ভ কমছে, বাড়ছে ডলারের দাম

রিজার্ভ কমছে, বাড়ছে ডলারের দাম
ছবি সংগৃহীত।

একদিকে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, অন্যদিকে বাড়ছে ডলারের দাম। আমদানি ব্যয় পরিশোধের চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের ডলার বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের পরও ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামছে না।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের আমদানি বিল বাবদ ১৬৪ কোটি ডলার পরিশোধের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিন শেষে দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ নেমেছে ২৯ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারে।

অথচ আকুর বিল পরিশোধের আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক দিনের ব্যবধানে আকুর দায় পরিশোধের কারণে রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার কমে গেছে।

রিজার্ভ কমার পাশাপাশি ডলারের দামও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায়। আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের দাম উঠেছে ১২৪ টাকা ৮০ পয়সায়। অন্যদিকে বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৯ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় খোলাবাজারে প্রতি ডলারে প্রায় ৪ টাকা ২০ পয়সা বেশি দিতে হচ্ছে।

ব্যাংকারদের মতে, জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বিল পরিশোধ এবং রপ্তানি ও প্রবাসী আয় থেকে ডলার আসার তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও চাপ সামলানো যাচ্ছে না

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে সম্প্রতি আবারও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গত সপ্তাহে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।

তবে বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এসব উদ্যোগে ডলারের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে না। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় ৮০ কোটি ডলারের চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে মাত্র ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম আহ্বান করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। ব্যাংকারদের ধারণা, ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত দর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থাকায় ওই নিলামে ডলার বিক্রি করা হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ সময় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রি বন্ধ রাখা এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভে উন্নতি দেখা যায়। চলতি বছরের ২৯ জুন প্রথমবারের মতো গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। কিন্তু এরপর থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে।

আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাহিদা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে ইপিজেডসহ এফওবি মূল্যে আমদানি ব্যয় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রফতানি আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ। রফতানি আয় হয়েছে ১১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম জানান, জুলাই-আগস্টে আমদানি ব্যয় ছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক মাসেই আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রফতানি আয় বাড়েনি। ফলে আমদানি ও রফতানির মধ্যকার ব্যবধান বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ও কাঁচামালের দাম বেশি থাকায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে।

বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয় ডলারের বাজারে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলার বৈদেশিক বিল পরিশোধের চাপও ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। একই মাসে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি।

রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়েও নেই স্বস্তি

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি উৎস রেমিট্যান্স ও রফতানি। এই দুই খাত থেকে আয় এলেও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় সরবরাহ যথেষ্ট না হওয়ায় বাজারে ডলারের সংকট তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে ২৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবরে তা বেড়ে ২৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহে কিছুটা মন্থরতা রয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগের তুলনায় কমেছে। রফতানি আয়ও আশানুরূপ নয়। এর সঙ্গে সরকারি এলসির বিল পরিশোধের বাড়তি চাপ রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কম এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের চাপ বেশি থাকায় ডলারের দাম বাড়ছে।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৮২১ মিলিয়ন ডলার।

খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৯ টাকা

ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে। বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১২৯ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অথচ আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা।

ব্যাংকারদের মতে, বিদেশে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের জন্য নগদ ডলারের চাহিদাও খোলাবাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে দামের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতি ডলার ১২৮ টাকা ১০ পয়সার বেশি দামে বিক্রি না করার নির্দেশনা দিয়েছে। এর বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও খোলাবাজারে ১২৯ টাকা দরে ডলার বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সামনে আরও  চাপের আশঙ্কা

অর্থনীতিসংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য না ফিরলে রিজার্ভ এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেশি থাকলে এবং রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে ডলারের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডলারের দাম বাড়লে আমদানি করা জ্বালানি, ভোজ্যতেল, গম, চিনি, ডাল ও শিল্পের কাঁচামাল কেনার খরচ বেড়ে যায়। আমদানিকারকেরা এই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে সমন্বয় করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও চাপ পড়ে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্পকারখানার কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানো, রফতানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন বাড়ানোও জরুরি।

কারণ, ডলারের চাহিদা মেটাতে একদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি দায় পরিশোধে রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব ওয়ালীউল দামান। এর ফলে ৭ নভেম্বর দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সাধারণ ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

এতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিবসটি প্রতিবছর সরকারি ছুটির আওতায় পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রিসভার ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি আগামী ৭ নভেম্বর কারখানাগুলোতে ছুটি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে।




ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশ, এনপিএসবি থেকে ‘ডিজিপে’ বিচ্ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশ, এনপিএসবি থেকে ‘ডিজিপে’ বিচ্ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি সংগৃহীত।

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশসহ বেশকিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘ডিজিপে’কে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় বেশকিছু নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ডিজিপে’র দাবি, কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে এনপিএসবির মাধ্যমে তাদের লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের অন্যান্য সেবা চালু আছে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
তদন্তে সময় লাগে বলে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিপেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ জানান, তাদের জনবল ও ভারতে থাকা ডেভেলপার নিয়ে মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব। তাদের ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে আলাদা কোনো কর্মী নেই। অন্য দায়িত্ব পালন করা এক কর্মীই এটি সামলান। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী চায় তারা।

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিপের সিস্টেম ভারতের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ডেভেলপারদের শুধু নির্ধারিত উন্নয়ন কাজের জন্যই সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রাশেদ মাহমুদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ভারতীয়’ শুনেই আপত্তি জানিয়েছে। তারা প্রশ্ন করেছে, কেন প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে না। তার মতে, বাংলাদেশে কাজ করা অনেক কোম্পানির সিস্টেম বা ডেটা ভারতসহ অন্যান্য দেশে রয়েছে।




তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ: একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ: একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এ দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (২০২৭) একনেকের ষষ্ঠ সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

তিতাসে দুটি নতুন গ্যাসকূপ খনন

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ (অ্যাপ্রেইজাল-কাম-ডেভেলপমেন্ট ওয়েল) খনন করা হবে। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যেতে পারে। কোম্পানির বর্তমান কূপমুখের দামে এসব গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূলত ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দামে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের পরিচালনাধীন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএফসিএল চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে এসব জরিপের তথ্য পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি ইনফিল কূপ এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি কূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে দুটি কূপ খনন, দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ করা হবে।

২০২৬ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য প্রকল্প

এদিনের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প এবং প্রতিরক্ষা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট-স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প, ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি) এবং ৩ হাজার ৯৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (তৃতীয় সংশোধিত)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করে বাস্তবায়ন করবে। এ পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৫২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন বলে একনেক সভায় জানানো হয়।

প্রকল্পগুলো হলো, দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হৃদ্রোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যান চলাচলের অবকাঠামো ও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত), ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন (প্রথম সংশোধিত) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আধুনিক যানবাহন ও সরঞ্জাম কেনা।

সভায় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা সভায় অংশ নেন।

বাসস