সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
ছবি সংগৃহীত।

 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি।



বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে তিনি চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভার্চু্যয়ালি এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে।



এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ বোধ করায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, ‘উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চু্যয়ালি এ সভা হবে।

আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না, নিশ্চিত নই’।
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘উনি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন’।

এ বিষয়ে জানতে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপাচার্যের বক্তব্য জানা যায়নি।




মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন আদেশ জারি

মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন আদেশ জারি
ছবি সংগৃহীত।

মোটরসাইকেলের পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ জন্য প্রাথমিকভাবে মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ ও নকশা অনুসরণ করে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন করতে হবে।

মালিকদের নিজের উদ্যোগেই এ নম্বরপ্লেট বসাতে হবে। এর শেষ সময় আগামী ১৫ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয় বিআরটিএ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এখন থেকে পেছনের পাশাপাশি সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।

সামনের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেটের আকার মোটরসাইকেলের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। স্কুটারের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।

স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। এসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় লেখা যাবে। যেমন— ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২২৯।

নম্বরপ্লেট তৈরির উপকরণ ও নকশার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছে বিআরটিএ। প্লেটটি স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং অক্ষর ও সংখ্যা হবে কালো রঙের। নম্বরপ্লেটে কোনো ধরনের শোভামূলক উপাদান, অতিরিক্ত নকশা বা ডিজাইন রাখা যাবে না।




চট্টগ্রামে ফুডপান্ডা বয়কট অব্যাহত রাখার ঘোষণা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির

চট্টগ্রামে ফুডপান্ডা বয়কট অব্যাহত রাখার ঘোষণা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির
ছবি সংগৃহীত।


কমিশন, বিভিন্ন চার্জ ও একতরফা ব্যবসায়িক নীতিমালার কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামে ফুডপান্ডা বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা


অভিযোগের বিষয়ে ফুডপান্ডাকে দেওয়া আলটিমেটামের মেয়াদ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার নগরের বারকোড ফুড জাংশন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফুডপান্ডার কমিশন ও বিভিন্ন চার্জ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় বয়কট কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।


রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার কমিশন কাঠামো, বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ এবং ব্যবসায়িক নীতিমালার কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় ও আর্থিক চাপ বাড়ছে। এসব শর্তের কারণে বিক্রির অর্থ থেকে খরচ বাদ দেওয়ার পর রেস্তোরাঁগুলোর প্রকৃত আয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।

মালিকদের মতে, অনলাইন খাবার সরবরাহের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলেও কমিশন ও অন্যান্য চার্জের কারণে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে গিয়ে ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কমিশন ও চার্জের কাঠামো পর্যালোচনা এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার সেবা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


এর আগে, গত ২ অক্টোবর ফুডপান্ডার অতিরিক্ত কমিশন ও বিভিন্ন চার্জের প্রতিবাদে ৫ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম নগরের ছোট-বড় রেস্তোরাঁয় প্ল্যাটফর্মটির সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সমিতি।

সংগঠনটির অভিযোগ, কমিশন ও বিভিন্ন চার্জের কারণে রেস্তোরাঁগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাবারের দামেও পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কমিশন ও চার্জের হিসাব স্বচ্ছ করা এবং ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।




সংসদের সাউন্ড সিস্টেম কেনায় শত কোটি টাকা অনিয়ম, দুদকের অনুসন্ধান

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম কেনায় শত কোটি টাকা অনিয়ম, দুদকের অনুসন্ধান
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম (এসআইএস) স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।


তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপটে স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।’

অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তিনি খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।


সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়ম, জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

২০১৮ সাল থেকে সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার ওই সিস্টেমে বিভ্রাট দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারের মাধ্যমে সেটি মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাউন্ড সিস্টেমটি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে সিস্টেমটি সংস্কার ও মেরামতের কাজও তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করানো হয়।


দুদকের অভিযোগে বলা হয়, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এ কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ওই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করেছেন।