২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, বাদ কুমিরা স্টপেজ
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, বাদ কুমিরা স্টপেজ

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, বাদ কুমিরা স্টপেজ
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। এতে মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে নতুন রুটে ট্রেনটির 'কুমিরা স্টেশনে' যাত্রাবিরতি বাতিল করা হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২৬ অক্টোবর থেকে এ সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন সূচি অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর ট্রেন ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। সেখান থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছবে।

ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থের ব্যবস্থা থাকবে। ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ছাড়াও নাঙ্গলকোট, লাকসাম, কসবা, আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও ভৈরববাজার স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এ পথে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জোড়া হবে।

রেলওয়ের আদেশ অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ ও ১ হাজার ৩৬৬টি আসন থাকবে। ট্রেনটির চলাচল সময় প্রায় ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আশঙ্কা, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের একক রেললাইন ও কয়েকটি স্টেশনের ছোট লুপলাইনের কারণে ট্রেনের ক্রসিংয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে অন্য ট্রেনের সময়সূচিও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন রুটে কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় সেখানকার যাত্রীদের বিকল্প ট্রেন বা পরিবহন ব্যবহার করতে হবে।




এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা : জ্বালানি মন্ত্রী

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা : জ্বালানি মন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে সংকট চলছে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট করে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণ করা হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আজ বিশ্বে এই জ্বালানি খাতটা সাংঘাতিক একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং প্রাইসের কোনো ঠিকঠিকানা নেই।

তিনি বলেন, এখন সোর্স একমাত্র আমেরিকায় বাকি আছে, তা ছাড়া কোনো সোর্স ঠিক নেই। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি, যেন ভোক্তা পর্যায়ে, সহনীয় পর্যায়ে মূল্য রাখা যায়, সে সম্বন্ধে আলোচনা করছি।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ‌এই মুহূর্তে এরকম একটা অবস্থার মধ্যে যদি কেউ এই ধর্মঘট করার চেষ্টা করে, এসেন্সিয়াল এই পণ্য নিয়ে, আমাদের ১৯৫৬ সালে আইন আছে, আমরা সেই আইন প্রয়োগ করব। কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।

সরকার নির্ধারিত দামে কেনা যাচ্ছে না এলপিজি

তিনি আরও বলেন, এটা একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট, জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকারে এসেছি, আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণ যেন কোনো অসুবিধার মধ্যে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।

ধর্মঘটের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ধর্মঘটের কথা বলছেন, আমি মনে করি আলোচনার টেবিলে বসেন, আলোচনা করে সেটা যেন সমাধান করা হবে।

সরকার এলপিজির দাম ঠিক করে দেওয়ার পরও অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সেজন্যই তো আমরা বসেছি। আমরা সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।




ফৌজদারহাটে অবৈধ কাঠ পরিবহনের সন্দেহে ট্রাক আটক

ফৌজদারহাটে অবৈধ কাঠ পরিবহনের সন্দেহে ট্রাক আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ফৌজদারহাট বিটে অবৈধ কাঠ পরিবহনের সন্দেহে বান্দরবান থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠবাহী ট্রাক আটক করেছে বন বিভাগ। ট্রাকটির নম্বর চট্টমেট্রো-ট-১১-০৫৩৮। এর ট্রানজিট পাসের (টিপি) নম্বর ০৩/০০৩৫৩৭।

বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাঠবাহী ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। কাঠগুলোর মাপজোখ চলছে। মাপজোখ ও যাচাই শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে।

তিনি আরও জানান, আটক ট্রাকের কাঠের মালিক বান্দরবানের আবু মুছা।




চুয়েটে না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি

চুয়েটে না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

তবে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়তে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।