সড়ক বিভাগের টেন্ডারে প্রভাব ও পদবাণিজ্যের অভিযোগ: ৫ আগস্টের পর মনিরের 'উত্থান' ঘিরে তোলপাড়

বান্দরবান জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ভূঁইয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলীয় পদ পেতে অর্থ লেনদেন, সড়ক বিভাগের সরকারি উন্নয়নকাজের টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার, উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ভাঙা-গড়ায় হস্তক্ষেপ, থানায় গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব দেখানো এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর মনির হোসেন ভূঁইয়ার রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। একসময়ে বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে রান্নার কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা মনির অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। তাঁর আয়-সম্পদ ও অর্থের উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

মনির হোসেন ভূঁইয়াকে ঘিরে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আলীকদম উপজেলা কৃষক দলের নেতাকর্মীরা বান্দরবান জেলা কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা এবং জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিরাগত বলেও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা। একই সময়ে লামা উপজেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে মনির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেন হয়েছে। শুধু জেলা পর্যায়ের পদ নয়, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিটের কমিটি গঠন ও বাতিলের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে সড়ক বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার নিয়েও মনিরের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়। নিজের নামে অথবা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ নেওয়া কিংবা অন্যদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একজন রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কেন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে না—এ প্রশ্নও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
মনির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ঘটনা ও বিরোধের ক্ষেত্রে থানায় গিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সংবাদকর্মীদের যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সব মিলিয়ে দলীয় পদ, সরকারি টেন্ডার, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ৫ আগস্টের পর কথিত দ্রুত উত্থান—এসব বিষয় নিয়ে মনির হোসেন ভূঁইয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীরা তাঁর বর্তমান সম্পদ, আয়ের উৎস, টেন্ডার-সংশ্লিষ্টতা এবং দলীয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হবে।










