পাহাড়-পর্বতে ট্যুরিস্টের ভালোলাগার গল্প: মেঘ-পাহাড়ের হাতছানি, ঝরনার কলতান আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

পাহাড়-পর্বতে ট্যুরিস্টের ভালোলাগার গল্প: মেঘ-পাহাড়ের হাতছানি, ঝরনার কলতান আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

পাহাড়-পর্বতে ট্যুরিস্টের ভালোলাগার গল্প: মেঘ-পাহাড়ের হাতছানি, ঝরনার কলতান আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়ের গায়ে মেঘের আলিঙ্গন, দূরে নীলচে পর্বতমালা, সবুজ বন আর পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ জলের ছন্দ—প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। শহরের ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল পেছনে ফেলে পার্বত্য অঞ্চলে সবুজ পাহাড়ে এসে অনেকেরই মনে হয়, প্রকৃতির কাছে ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই নেই—সাঙ্গু পত্রিকার প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই বলছিলেন আব্দুল মান্নান নামের এক পর্যটক।

বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে পাহাড়, মেঘ, ঝরনা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা। ভোরের আলো ফুটতেই পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা, বিকেলে সূর্যের নরম আলো আর সন্ধ্যায় পাহাড়ের নীরবতা—সব মিলিয়ে পর্যটকদের মনে তৈরি হয় ভিন্ন এক অনুভূতি।

পর্যটক ইসমাইল হোসেন বলেন, পাহাড়ে এসে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখাই নয়, এখানকার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তাও ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তোলে। পাহাড়ি পথে হাঁটা, ঝরনার পানিতে পা ভেজানো কিংবা কোনো উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের বিস্তীর্ণ সবুজ দেখা—প্রতিটি মুহূর্তই যেন আলাদা গল্প হয়ে জমা হয় স্মৃতিতে।

বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। পাহাড়ের গায়ে নেমে আসে মেঘের আস্তরণ। কোথাও ঝরনা হয়ে নামে পাহাড়ি জলধারা, আবার কোথাও সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথে ছুটে চলে পর্যটকদের গাড়ি। প্রকৃতির এই রূপ মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করতেও ব্যস্ত থাকেন অনেকে।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে আসা রাকিব ইসলাম বলেন, শহরের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম। পাহাড়ে এসে মনে হচ্ছে, কয়েক দিনের জন্য অন্য এক জগতে চলে এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও দৃশ্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

আরেক পর্যটক নাসিমা আক্তার বলেন, পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে চারপাশের মেঘ ও সবুজ প্রকৃতি দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছবি তুলে রাখছি, কিন্তু বাস্তবে যে সৌন্দর্য দেখছি, ছবিতে তার পুরোটা ধরা যায় না।

রুমার ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সভাপতি মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন শ পর্যটক পাহাড়ে আসেন। পাহাড়ি এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য পাহাড়ি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রকৃতিকে ভালোবেসে ভ্রমণ এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন স্থানে কটেজ, যাত্রীছাউনি ও রেস্টুরেন্টসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাহাড় শুধু ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একধরনের নীরব সম্পর্ক তৈরির স্থান। পাহাড়ের নীরবতা, মেঘের ভেলা, ঝরনার শব্দ আর সবুজের মায়া অনেক পর্যটকের মনে তৈরি করে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। তাই ছুটির দিনে কিংবা অবসর পেলেই অনেকে আবারও ফিরে আসতে চান পাহাড়ের সেই চেনা-অচেনা সৌন্দর্যের কাছে।

প্রকৃতির এই টানেই পাহাড়ে আসা পর্যটকদের মুখে শোনা যায় একটাই কথা—পাহাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। আর সেই ভালোলাগার গল্পই বারবার মানুষকে টেনে নেয় পাহাড়-পর্বতের পথে।




নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি বিজিবির অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি বিজিবির অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল কর্তৃক মালিকবিহীন ১,০০,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
(৬ অক্টোবর মঙ্গলবার) সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির টহল দল কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩৬ হতে আনুমানিক ৪.৫ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টম নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ১,০০,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট এর ব্যাপারে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অধিনায়ক বলেন “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫

থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে ডিমপাহাড়-টিন্দুমুখ সড়কে একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকাল ৩.৪৫ টা সময় ডিমপাহাড় হতে টেন্ডুমুখ নৌঘাটের দিকে নামার সময় টেন্ডুমুখ নৌ চেকপোস্ট হতে আনুমানিক ৬০০ মিটার দূরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে ০২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং ০৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস এর নেতৃত্বে অধীনস্থ টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে আহত ০৫ জনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। নিহত দুজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানচি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। 
দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। 
 




লামায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর (সোমবার) পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ১৩টি মামলায় ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফাইতং এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।

প্রথম অভিযানে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় একটি মামলা করেন। এতে এক আসামিকে নগদ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

একই দিনে অপর একটি পৃথক অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫(১)(৫) ধারায় মোট ১২টি মামলা পরিচালনা করেন। এসব মামলায় ১২ জন আসামিকে সর্বমোট ২৪,০০,০০০ (চব্বিশ লাখ) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন জানান, ফাইতং এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত এই দুই অভিযানে সর্বমোট ১৩ জন আসামির কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।