সৌদি আরব আর ‘নিরাপদ নয়’, আতঙ্কে প্রবাসীরা
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

সৌদি আরব আর ‘নিরাপদ নয়’, আতঙ্কে প্রবাসীরা

সৌদি আরব আর ‘নিরাপদ নয়’, আতঙ্কে প্রবাসীরা
ছবি সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। কিন্তু ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলায় সেই নিরাপত্তার ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, সৌদি আরবে তাদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত।


শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন দ্বিতীয় দফা হামলায় আরও একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন।

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জবাবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।


সৌদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-ইখবারিয়ায় প্রচারিত বিমানবন্দরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাদা পোশাক পরা যাত্রীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন। বিমানবন্দরের একটি অপেক্ষাকক্ষে ধুলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে মেঝেতে পড়তে দেখা যায়।

‘পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো’

সাত বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল বলেন, ধর্মীয় সফরে গিয়ে তীর্থযাত্রীদের কখনোই প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকতে হওয়া উচিত নয়।


তিনি বলেন, হুথিরা কোনোভাবেই এই হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো অজুহাত নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অতীতে যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সমর্থনযোগ্য নয়।

বিলাল জানান, সৌদি আরবে তার ভালো বেতনের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন রয়েছে। তাই দেশ ছেড়ে যাওয়া তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। তবে হামলার ব্যাপকতা ও ঘন ঘন আক্রমণের ঘটনায় প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে বেসামরিক স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। আমি ও আমার পরিবার এখানে জীবন গড়ে তুলেছি। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো কি না? অবশ্যই ভাববো।

গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে রিয়াদে বসবাস করেছেন আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ। তার কাছেও সৌদি আরব পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য নিরাপদ জায়গা ছিল। তবে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা ঠেকাতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন।

মোহাম্মদ বলেন, আমার সন্তানরাও এসব ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তাদের বোঝানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার কথায়, রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।


সৌদির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা

হুথিদের হামলা সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, পর্যটন ও বিনোদন খাতের কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে দেশটির সরকার।

রোববার রিয়াদে একটি বড় জ্বালানি সম্মেলনে প্রত্যাশার তুলনায় অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নেন। দুই সপ্তাহ পর সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক আয়োজন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ তুলে ধরতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। ২০১৪ সালে জ্বালানি ভর্তুকি কমানো নিয়ে অসন্তোষ এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়।

নতুন ফেডারেল কাঠামোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান-সমর্থিত হুথিরা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয় এবং রাজধানী সানা দখল করে। এতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।


এর জবাবে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করাই ছিল ঘোষিত লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা ও যুক্তরাজ্যের তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। দীর্ঘ সংঘাতে ক্ষুধা, রোগব্যাধি ও জরুরি পরিষেবা ভেঙে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন হিসাব ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরবর্তী সময়ে দেশটিকে বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বিনোদন ও পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু হুথিদের হামলা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন—দুই ঘটনাই সৌদির এসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার দুর্বলতা সামনে এনেছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগরকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু হুথিদের লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ফলে সেই পথও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এর আগে সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পর হুথিরা পাল্টা অবরোধের হুমকি দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার আকাশসীমা ও পরিবহনব্যবহারে বাধা দেওয়ার জবাবেই তারা সৌদি স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সংকট উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনও সামনে এনেছে।

বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো কিংবা সামরিক প্রবেশাধিকারের সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ওই অঞ্চলের প্রধান সামরিক অংশীদার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসাগরীয় বিশ্লেষকের মতে, এই সম্পর্ক এখন গুরুতর চাপে রয়েছে। তার বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ ছেড়ে যুদ্ধের পথে যাওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সৌদি আরব উদ্বিগ্ন ছিল। কারণ, এ সংঘাত সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক মিত্রদের এমন পরিণতির মুখে ফেলেছে, যে যুদ্ধ তারা নিজেরা বেছে নেয়নি।

রিয়াদে হামলার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াও সৌদি আরবের হতাশা বাড়িয়েছে বলে মনে করেন ওই বিশ্লেষক। ট্রাম্প বলেছিলেন, সৌদি আরব নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম।

বিশ্লেষক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছে। কিন্তু যখন হুমকি বাস্তবে দেখা দেয়, তখন সেটিকে সৌদি আরবের নিজের সামলে নেওয়ার বিষয় বলে উড়িয়ে দিলে ওই অংশীদারত্বের প্রকৃত মূল্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। চুক্তিটির লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা। তবে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাব্য সময় ও পরিসর এখনো অনিশ্চিত।

সৌদি আরবের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু সামরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবন, বিদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও।

সূত্র: দ্য মিডল ইস্ট আই




সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, মানতে হবে যেসব নিয়ম

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, মানতে হবে যেসব নিয়ম
ছবি সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা মেনে চলা এবং সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও কিংবা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, মোবাইলে সংরক্ষণ ও অন্যের সঙ্গে আদান-প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ মিশন।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে প্রবাসীদের বাংলাদেশ মিশনের নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে বাংলাদেশ মিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ অনুসরণ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার খবর প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং যাচাইহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থানসমূহ এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ প্রদান করা যাচ্ছে। যে কোন তথ্যের জন্য দূতাবাসের নিম্নোক্ত হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো- ৮০০১০০০১২৫ (শ্রম সংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর), ৮০০১০০০১২৬ (পাসপোর্ট সংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর), ৮০০১০০০১২৪ (ডিপ্লোম্যাটিক উইং সংক্রান্ত), মৃত্যু সংক্রান্ত হটলাইন নাম্বার +৯৬৬৫৭০২১২১৮০। এছাড়া নিয়মিত আপডেটের জন্য দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ফলো করুন। ভেরিফায়েড পেজের লিংকঃ https://www.facebook.com/bdembassyriyadh




দিল্লি ১ মাস মোতায়েন থাকবে ২০ হাজার আধাসামরিক সদস্য

দিল্লি ১ মাস মোতায়েন থাকবে ২০ হাজার আধাসামরিক সদস্য
ছবি সংগৃহীত।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি/সিজেপি), বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ও অন্যান্য সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য অন্তত এক মাস দিল্লিতে অবস্থান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভের পাশাপাশি সামনে উৎসবের মৌসুমের বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাজার ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাই বিপুলসংখ্যক আধাসামরিক সদস্যের মোতায়েন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভের জন্য নতুন করে তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। এতদিন শহরের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত যন্তর মন্তর ছিল বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান। তবে এখন থেকে সেই স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত নিরীক্ষা শেষ হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের দিকে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দিতে আজ সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এ পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির সীমান্ত, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া জমায়েত ঠেকানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শহরের সীমান্তবর্তী এলাকায় যানবাহনে তল্লাশি বাড়িয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি হোটেল, অতিথিশালা, লজ ও ধর্মশালায় পরিচয় যাচাইয়ের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।

২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে নয়াদিল্লি জেলা

আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্যকেও নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয়ের জন্য নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে।

প্রতিটি এলাকায় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার ও অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা

সোমবারের (১২ অক্টোবর) বিক্ষোভে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কৌশল পরিবর্তন করেছে ইন্ডিয়া জোট। কর্মসূচিটিকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে না ধরে ‘গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে পরে কর্মসূচির বার্তায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকেও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, বিক্ষোভস্থল পরিবর্তন ও বিপুলসংখ্যক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন—সব মিলিয়ে দিল্লিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি




শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কারণে তাকে সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

কমিটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যাকারীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয় সেটি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভেনথাম।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন বর্ণ বৈষম্য চলছিল তখন ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্ম হয় নাভেনথামের। তিনি পরবর্তীতে আইনজীবী ও আইনি ক্ষেত্রে অগ্রদূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি সমাজে থাকা অবকাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় বর্ণবাদবিরোধী নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্যদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন জীবনের শুরুতে। এরপর বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব আদালতে।

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কাজ করেছেন।


সম্প্রতি তিলি ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনেও কাজ করেছেন।

আর বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আছেন যেখানে গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমারের বিচার চলছে।

এরআগে গত বছর শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং দেশটিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় নোবেল কমিটি।

২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফ জাই। তার চেয়ে কম বয়সে আর কেউ নোবেলে ভূষিত হয়নি। অপরদিকে ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।

নোবেল কমিটি বলেছে এ বছর নাভেনথামকে নোবেলে ভূষিত করে তারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মিলে সেই সিস্টেম গড়ে তোলে যেগুলো দিয়ে আমরা অসহিংসভাবে দ্বন্দ্বের সমাধান এবং শান্তি সমুন্নত রাখতে পারি।