সেন্টমার্টিন দ্বীপে খতনা ক্যাম্পে তাড়াহুড়ো, দুই দিনেই ৫০ শিশুর ইনফেকশন
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সেন্টমার্টিন দ্বীপে খতনা ক্যাম্পে তাড়াহুড়ো, দুই দিনেই ৫০ শিশুর ইনফেকশন

সেন্টমার্টিন দ্বীপে খতনা ক্যাম্পে তাড়াহুড়ো, দুই দিনেই ৫০ শিশুর ইনফেকশন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একদিনে ২১০ শিশুর সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মাথায় অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুদের পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকদের একজনের ভাষ্য, খতনা করানোর সময় তাড়াহুড়োর কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করা হয়নি। এতে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

জানা যায়, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি ২১০ শিশুর খতনা করে। কর্মসূচি শেষে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।

কিন্তু কর্মসূচির দুই দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকাল থেকে একের পর এক শিশু ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণ নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, দিনভর এমন অন্তত ৫০ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামে দুই শিশুর অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর ছিল। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে রেফার করা হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। অনেকের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর পর থেকেই শিশুদের কারও কারও ক্ষতস্থানে ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজ দেখা দেয়। পরে কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, খতনা করার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত সতর্কতা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। শিশুদের ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের প্রকৃত কারণও এখনো চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত নয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, একটি মেডিকেল টিম ২১০ শিশুর বিনামূল্যে খতনা করেছে। দুই দিন পর কিছু শিশুর রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে সবাই সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। টেকনাফ হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল সেন্টমার্টিনে গিয়ে শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে একটি মেডিকেল টিম দুই শতাধিক শিশুর খতনা করেছে। এর মধ্যে ৫০ শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। আমাদের একটি দল সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় যে পরিমাণ ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করার প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে করা হয়নি। এ কারণে কিছুটা ঘাটতি হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে।’ শিশুদের সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের একটি দল সেন্টমার্টিনে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’




কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু: জেলায় ৬ লাখ ৫১ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ কর্মী

কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু: জেলায় ৬ লাখ ৫১ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ কর্মী
ছবি সংগৃহীত।

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে কক্সবাজারে ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় জেলায় ৮৫৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ১১১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী একযোগে এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) শাহেদুল আলম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কেন্দ্রীয় সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার ১১টি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা ইউনিটের আওতায় মোট ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪ জন মানুষ এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ১১১ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জেলায় ১৭০টি ট্যাব সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাব ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পর্যায়ে ৪ ও ৫ অক্টোবর প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলা পর্যায়ে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ে ১৭০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

জেলার ১১টি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা ইউনিটের নির্দিষ্ট ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী, ভারুয়াখালী ও চৌফলদণ্ডী; রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও ঈদগড়; উখিয়ার রাজাপালং, জালিয়াপালং ও হলদিয়াপালং; টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা ও বাহারছড়া; চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, ডুলাহাজারা ও লক্ষ্যারচর; মাতামুহুরীর কোনাখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া; পেকুয়ার রাজাখালী, উজানটিয়া ও মগনামা; কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ ও উত্তর ধুরুং; মহেশখালীর ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী ও কুতুবজোম; ঈদগাঁওয়ের ইসলামপুর, পোকখালী ও জালালাবাদ এবং শহর সমাজসেবা ইউনিটের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে।

কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৬ মে। চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচালিত এ কার্যক্রমে ৩০৪ জন উপকারভোগী নির্বাচিত হন। পাইলট কর্মসূচির জেলা বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জুলাই।

দেশব্যাপী পাইলট কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য স্কোরিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের ভিত্তিতে শহর ও গ্রামীণ এলাকার জন্য পৃথক ডোমেইনে স্কোর নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি পরিবারের স্কোর নির্ধারণ করা হবে এবং সেই স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসূচির মূল দর্শন হলো—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। এর মাধ্যমে পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ সাংবিধানিক দায়িত্বের আলোকে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা দেওয়াই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন।




দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটনে অবদানের তিন পুরস্কার সায়মান হোটেল পরিবারের

দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটনে অবদানের তিন পুরস্কার সায়মান হোটেল পরিবারের
ছবি সংগৃহীত।

দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটন পুরস্কারের দশম আসর ২০২৬-এ তিনটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে এক গৌরবময় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান সায়মান হোটেল ব্র্যান্ড । এর মধ্য দিয়ে টানা অষ্টম বছরের মতো এই আয়োজনে পুরস্কার অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও ২০২৬-এ তিনটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দশকের ঐতিহ্য উদযাপন করল সায়মান হোটেল পরিবার।

সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সায়মন বিচ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ৮ অক্টোবর মালদ্বীপের মালে শহরে আয়োজিত সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সায়মানের পক্ষে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন সায়মানের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার মি. পূবূদূ ফার্নান্দো।

সায়মানের অর্জিত তিনটি পুরস্কার হলো- ১. বাংলাদেশের শীর্ষ রিসোর্ট ও হোটেল ব্র্যান্ড, ২. সায়মান বিচ রিসোর্ট বাংলাদেশের শীর্ষ সমুদ্রসৈকত হোটেল ও ৩. সায়মান হেরিটেজ বাংলাদেশের শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী হোটেল ও রিসোর্ট। টানা আট বছর এই পুরস্কার অর্জন বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে সায়মানের সুদীর্ঘ উপস্থিতি, সেবার ধারাবাহিকতা এবং অতিথিদের স্মরণীয় আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

কক্সবাজারে অবস্থিত সায়মান বিচ রিসোর্ট অতিথিদের আধুনিক সমুদ্রসৈকত কেন্দ্রিক অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা প্রদান করে। অন্যদিকে, সায়মান হেরিটেজ ঐতিহাসিক সায়মান নামের ঐতিহ্য ও গৌরবময় উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ছয় দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য ধারণ করে প্রতিষ্ঠান দুটি ঐতিহ্য ও আধুনিক আতিথেয়তার এক অনন্য সমন্বয় তুলে ধরছে।

সায়মান বিচ রিসোর্ট ও সাইমান হেরিটেজ—উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে মি. পূবূদূ ফার্নান্দো বলেন,“আমি বিশ্বাস করি, এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত সাফল্য। আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিদিন নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার ফলেই এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। দলগত কাজই আমাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি। আমরা সবাই মিলে এমন আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অতিথিবৎসল আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা তৈরি করে চলেছি, যা বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্পের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোকে তুলে ধরে। আমাদের নিবেদিত প্রাণ সহকর্মী, সম্মানিত অতিথি, বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক অংশীদার এবং শুভাখাঙকীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কারগুলো আমাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে, আরও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাইমানের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে উৎসাহিত করে। আমরা একসঙ্গে বাংলাদেশের আতিথেয়তার উষ্ণতা নিয়ে বিশ্বকে স্বাগত জানাতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গর্বের সঙ্গে কক্সবাজারের এবং সায়মানের পরিচিতি ও সুনাম আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা সায়মান বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি সুপরিচিত নাম কক্সবাজারে অবস্থিত সায়মান বিচ রিসোর্ট ও সায়মান হেরিটেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক রিসোর্ট অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র আতিথেয়তার সমন্বয় ঘটিয়ে আসছে।




কক্সবাজারে অটোরিকশায় তল্লাশি, মালিকবিহীন ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করলো এসআরবি

কক্সবাজারে অটোরিকশায় তল্লাশি, মালিকবিহীন ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করলো এসআরবি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।  তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারি ছলিম উল্লাহ ও তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে যান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর থানার দক্ষিণ খুরুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১৫ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। এ সময় আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারি ছলিম উল্লাহ ও তাঁর এক অজ্ঞাতনামা সহযোগী মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান।

পরে পরিত্যক্ত সিএনজি অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিন লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় পলাতক ছলিম উল্লাহ ও তাঁর অজ্ঞাতনামা সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কক্সবাজার সদর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ করা যানবাহন সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।