সাতকানিয়ায় যুবককে মাদকসেবী সাজিয়ে সাজা দেওয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মো. আলাউদ্দিন নামে এক যুবককে মাদক সেবন ও মাতলামির অভিযোগে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, তল্লাশির সময় তার কাছে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা বের করে তার কাছ থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে বলে তিনি ইউএনওর কাছে উপস্থাপনকালে প্রতিবাদ জানান।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতের ওই ঘটনার পর কারাভোগ শেষে আলাউদ্দিন ডোপ টেস্ট করিয়েছেন। তার দাবি, ওই পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনসহ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে তিনি ইউএনওর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আলাউদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তিনি তার ভাই নাইম উদ্দিন ও প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনকে নিয়ে সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান এলাকার ‘আল মক্কা’ হোটেলে নাস্তা করছিলেন। এ সময় ডিএসবি সাতকানিয়া জোনের কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন তাকে তল্লাশির কথা জানান। তল্লাশির কারণ জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক ওই তল্লাশিতে তার কাছ থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাকে এএসআই মতিন ও এএসআই নুর উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারাও তাকে তল্লাশি করেন এবং সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আলাউদ্দিন আরও দাবি করেন, তল্লাশির একপর্যায়ে কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন নিজের পকেট থেকে দুটি ইয়াবা ও দুই পুটলি গাঁজা বের করে ‘পাওয়া গেছে’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় তার ভাই নাইম উদ্দিনসহ উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এর প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগকারীর দাবি, তারা পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি তোমার পকেট থেকে এগুলো বের করেছ, আমরা তা দেখেছি।’ এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার ভাই ও স্থানীয় লোকজনকে মারধর করা হয়। জনগণের বাধা সত্ত্বেও তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, তাকে ইউএনওর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি তার বক্তব্য শোনেননি এবং কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়।
আলাউদ্দিনের দাবি, তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। কারাভোগ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে তিনি ডোপ টেস্ট করিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া নথির তালিকায় ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও রয়েছে।
পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদক গ্রহণের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং রিপোর্টটি নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। লিখিত অভিযোগে আলাউদ্দিন বলেন, পুলিশ সদস্যদের এই কর্মকাণ্ডের কারণে তার ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এলাকায় তাকে নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহლის বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে আলাউদ্দিন জানান, মাদক সেবনের অভিযোগে তাকে সাজা দেওয়া হলেও সাজার আগে তার কোনো ডোপ টেস্ট করানো হয়নি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথিপত্রেও ডোপ টেস্টের কোনো প্রতিবেদন সংযুক্ত ছিল না। এ অবস্থায় কেবল পুলিশ সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও উপস্থাপিত আলামতের ভিত্তিতে তাকে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলাউদ্দিন। একই সঙ্গে ইউএনও রাজীব দাশ পুরকায়স্থের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার এখতিয়ার ও ওই দিনের বিচারিক কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান আলাউদ্দিন। তার ভাষ্য, একজন নিরপরাধ মানুষকে মাদক মামলার সাজা দেওয়ার এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।











