পটিয়া হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ, জনবল ও ওষুধ সংকট নিরসনের আশ্বাস
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

পটিয়া হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ, জনবল ও ওষুধ সংকট নিরসনের আশ্বাস

পটিয়া হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ, জনবল ও ওষুধ সংকট নিরসনের আশ্বাস
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের ওয়ার্ড, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং ভর্তি রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, জনবল, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সংকটের কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পটিয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষের পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেন।

প্রতিদিন বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নেন এবং ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে সীমিত অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের জনবল সংকট মোকাবিলায় চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দরপত্র (টেন্ডার) কার্যক্রম শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ভর্তি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা হাসপাতাল থেকেই করার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ এবং খাবারের মান উন্নত করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম হাসপাতালের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় রসদগত (লজিস্টিক সাপোর্ট) সহায়তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, পটিয়া হাসপাতালের ওপর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও চিকিৎসার চাপ রয়েছে। তাই বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়বসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




গাউছিয়া কমিটি কুয়েত শাখার উদ্যোগে ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উদযাপন

গাউছিয়া কমিটি কুয়েত শাখার উদ্যোগে ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উদযাপন
কুয়েতে ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম ও অভিষেক অনুষ্ঠানে গাউছিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ

অলিফুল সম্রাট হযরত আবদুল কাদের জিলানীর ওফাত দিবস উপলক্ষে পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম উদযাপন এবং গাউছিয়া কমিটি কুয়েত হিজিল শাখার অভিষেক অনুষ্ঠান গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে কুয়েতের হিজিল শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। গাউছিয়া কমিটি হিজল শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সালাউদ্দিন ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহিমের যৌথ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব লোকমান আলী ওসমান। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা কামরুল হাসান আল কাদেরি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এস এম মহসিন কবির চৌধুরী ও মাওলানা আব্দুল মোস্তফা আবেদী। আলোচনা শেষে মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেন মাওলানা মহিউদ্দিন সোহাগ। এ সময় গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুয়েত শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ সোহেল, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, দিদার, আনোয়ার, আরাফাত, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, বাবর উদ্দিন, দিদার, ইউসুফ পারভেজ, আসিফ নজরুল, নেজাম, বজল, মিশর জামাল, শহীদ, সোহানসহ গাউছিয়া কমিটি কুয়েতের ফাহাহিল শাখা এবং আঞ্জুমান খোদ্দামুল মুসলেমিন কুয়েত শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে বক্তারা গাউসে পাক আবদুল কাদের জিলানীর জীবনাদর্শ ও রেখে যাওয়া তরিকা-এ কাদেরিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরে দোয়া, মোনাজাত এবং তাবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি হয়।




সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল

সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল
সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে বিশাল মিছিলের নেতৃত্বে ইকবাল হায়দার চৌধুরী

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিএনপির চার সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সারা দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সভা ও গণমিছিলে বড় একটি মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হায়দার চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এ. জে. চৌধুরী কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপির সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইকবাল হায়দারের নেতৃত্বে হলুদ টুপি পরিহিত এই মিছিল সমাবেশে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে।

মিছিল ও সমাবেশ সম্পর্কে ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, "দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদেই আজকের এই সমাবেশ। কোনো মিছিল, পোস্টার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপিকে শঙ্কিত করা যাবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ আছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। যারা নির্বাচনের সময় ধানের শীষের বিরোধিতা করেছে, তাদের এখন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত নয়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মোকাবিলা করব।"




উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন

উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন
আনোয়ারায় পুনর্বাসনের দাবিতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন জমিতে বসবাসকারী মানুষেরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন; যেখানে প্রায় সাড়ে চার শ পরিবারের নারী-পুরুষ অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মেরিন একাডেমি থেকে শাহাদাতনগর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী বখতিয়ার খান, মো. হান্নান, মো. মিজাজ, মো. সাগর, মো. বাপ্পু, মো. বাদশা, মো. নাদির, মো. ইউনুস, মো. সিদ্দিকা, মো. সিরাজ, মো. জালাল, মো. আকতার উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন, মো. ইদ্রিস, মো. আফজাল, মো. জাহাঙ্গীর, মো. ইয়াকুব ও মো. মাসুদ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ মুহূর্তে পরিবারের নারী ও শিশুদের নিয়ে আমরা কোথায় যাব, ভেবে পাচ্ছি না। আমরা উচ্ছেদের আগে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিষয়ের কথা আমরা জেনেছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনেক আগেই এসব জায়গা লিজ দেওয়া হয়েছে। ইজারাদার ইজারাকৃত জায়গায় কাজ করলে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”