সাতকানিয়ায় পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণে হামলা, নারীসহ আহত ৫

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং এক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দাবি করেন, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টায় সাতকানিয়ার কেরানীহাটের একটি হলরুমে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহজাহান বলেন, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। পারিবারিকভাবে পৈত্রিক সম্পত্তি বণ্টনের পর প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে আমরা (তিনি) নিজেদের অংশে একটি পাকা বসতঘর নির্মাণ শুরু করি। কিন্তু প্রতিপক্ষ ওই জমিতে নিজেদের অংশ রয়েছে দাবি করে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে বাধা দিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলে নির্মাণাধীন ঘরের জায়গায় প্রতিপক্ষের কোনো অংশ নেই বলে প্রমাণিত হয়। এরপরও তারা সিদ্ধান্ত না মেনে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।
শাহজাহানের অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা ধারালো দা, লোহার রড, গাছের লাঠি ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্মাণাধীন ঘরে প্রবেশ করে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদ করলে তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভাই মো. ইউসুফের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, যাতে মাথা, কপাল, কান, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। অপর ভাই শাহ আলমের পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জাহেদা বেগম বলেন, ভাইকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। পরে মারধর করে পরনের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় তাঁর মা মোস্তফা খাতুন ও ভাগিনা মুরাদ হাসানও আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সবাইকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন ঘরের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, কাঠ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া প্রায় এক টন লোহার রড, রাজমিস্ত্রির সরঞ্জাম, ইট ও কংক্রিটসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলে—আবার ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে কিংবা থানায় বা আদালতে গেলে হত্যা, লাশ গুম এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।










