রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে দেখাবেন, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে দেখাবেন, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে দেখাবেন, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকলে তার প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে ঘটাতে হবে, সরকারি অফিসে নয়—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমর্থন থাকাকে ব্যক্তিগতভাবে দোষের মনে করেন না। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন সরকারি কাজে থাকা উচিত নয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনে আপনাদের কী করা উচিত কিংবা উচিত নয়, এসব নিয়ে আপনাদের সামনে দীর্ঘ কোনো বক্তব্য দেওয়ার অবকাশ রয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ কী করা উচিত কিংবা উচিত নয়, আমি বিশ্বাস করি, সেটি অবশ্যই আপনারা নিজেরাই ভালো জানেন। বরং জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকাটাই জরুরি বিষয়।’

সরকারপ্রধান হিসেবে নবীন কর্মকর্তাদের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যে কোনো বয়সের একজন নাগরিক কোনো সহযোগিতার জন্য অফিস-আদালতে তাদের কাছে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে একটি ‘গোল্ডেন রুল’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রিট আদার্স হাউ ইউ ওয়ান্ট টু বি ট্রিটেড।’ অর্থাৎ, অন্যের সঙ্গে তেমন আচরণ করুন, যেমন আচরণ আপনি নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনে কখনো কখনো অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। সহযোগিতা পাওয়ার সময় অন্যের কাছ থেকে নিজের জন্য যে ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, কেউ সহযোগিতার জন্য এলে তার সঙ্গেও তেমন আচরণ করতে হবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আইন ও বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন কর্মকর্তাকে অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়মের আওতায় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে পুরো বিষয়টি সামলানোর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়েছে কি না, আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে এলে তাতে ভুল থাকলে তাকে ভুল সংশোধন করে আনতে বলা বেআইনি বা অন্যায় নয়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে দিয়ে কোথায়, কার কাছে গিয়ে সেটি সংশোধন করা যাবে, সেই পরামর্শ দিলে তা হবে মানবিকতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের জনগণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিকতাও আশা করে।

কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে হাজার হাজার পদ-পদবি রয়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য কেউ কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করেন।

তিনি বলেন, যে কোনো সময় দেশের যে কোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা চূড়ান্ত পেশাদারত্বের পরিচায়ক। সবার মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে সব মিলিয়ে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ কৃষি, কেউ ট্যাক্সেশন, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। কাজের ধরন ও কর্মস্থল আলাদা হতে পারে। প্রশাসনিক ক্যাডার ভিন্ন হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ইউ আর দেয়ার টু সার্ভ দ্য পিপল।’

সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং তা সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে পার্থক্য হলো, এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে তারা জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলেন। জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহার এখন দেশের জনগণের ইশতেহার, জনগণের দলিল। সেই ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনিক কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করেন তিনি।

সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা বেশি কার্যকর। এ বিষয়ে নবীন কর্মকর্তারা ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বক্তব্যের শুরুতে নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল তারা শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হবে, অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবন শুরু করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের অধিকাংশই সম্ভবত প্রথমবারের মতো পদায়ন পাচ্ছেন। তারা এখন রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের অংশ। সরকারি প্রশাসন যত বেশি দক্ষ হবে, সরকারের কার্যক্রমও তত বেশি সফল হবে। তাই সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন জরুরি। এসব বৈশিষ্ট্য শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ কর্মময় জীবনের সুখ, শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি। পরে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।




মালিবাগে সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

মালিবাগে সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান কার্যালয়ের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, সিআইডি ও এসবির প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ককটেলটি ভেতরে পার্কিং করে রাখা একটি গাড়ির বনেটের ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


সরেজমিনে সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিআইডি ও এসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।




প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমাস্যার সমাধান সম্ভব নয় : শামা ওবায়েদ

প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমাস্যার সমাধান সম্ভব নয় : শামা ওবায়েদ
ছবি সংগৃহীত।

প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়ে রো‌হিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জোর তৎপরতা চলছে।

রোববার ( ৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইস্যুটিকে সক্রিয় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি মূলত একটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু। তাই এর সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সর্বস্তরের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, এ লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি কাজ করছে।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করায় কক্সবাজারসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ ছাড়া, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানবপাচার, অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশি জেলেদের আটকের মতো ঘটনায় এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নতুন শিশুর জন্ম এবং পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

সংকট সমাধানে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও নতুন নতুন শরণার্থী সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যাকে সচল ও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।




রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন: ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সব সদস্য হারিয়ে নিশ্চিহ্ন ৩০০ পরিবার

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন: ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সব সদস্য হারিয়ে নিশ্চিহ্ন ৩০০ পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পুরো পরিবারের সবাই নিহত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায় মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স আরোহী এবং বাস যাত্রী হিসেবে একসঙ্গে পুরো পরিবার অথবা এক পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহতের প্রবণতা বাড়ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জানিয়েছে, গত ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে।

মোটরবাইক দুর্ঘটনা
মোটরবাইক আরোহী হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। অর্থাৎ ১৯৩টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং ১৫৯টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনা
অটোরিকশা যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২১১টি। ৩ জন নিহতের ঘটনা ১১৮টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৯২টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ৫৩টি, ৬ জন নিহতের ঘটনা ৩৮টি এবং ৭ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।

মোট ৫২৫টি দুর্ঘটনায় ১৭২৮ জন নিহত হয়েছেন।


মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা
মাইক্রোবাসের আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ৪৬টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৩৯টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ২৮টি, ৬ জন নিহতের ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহতের ঘটনা ৪টি এবং ১৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১টি। মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা
প্রাইভেটকার আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ৩১টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ২৪টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা
অ্যাম্বুলেন্স আরোহী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ১৫টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৯টি, ৫ জন নিহতের ঘটনা ৭টি, ৮ জন নিহতের ঘটনা ৩টি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত হয়েছেন।

বাস দুর্ঘটনা
বাস যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, ৩ জন নিহতের ঘটনা ৯টি, ৪ জন নিহতের ঘটনা ৬টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত।

পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনা
পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১টি।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ
পরিবারের সবাই একসাথে কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে; মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল; অধিকাংশ মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা; মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অদক্ষতা ও বিশ্রামহীন ড্রাইভিং করা; মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো; ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।

দুর্ঘটনা রোধে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন।

মোটরবাইক আরোহীদের ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার করা; ট্রাফিক আইন মেনে মোটরযান চালানো; সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ করা; গ্রামীণ সড়ক মহাসড়কে সরাসরি সংযুক্ত না করে নিরাপদ রোড ডিজাইন তৈরি করা; সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল নজরদারি করা; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা-সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।