মনছুরের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লোহাগাড়ায় মানববন্ধন

সৌদি আরবের জিদ্দায় লোহাগাড়ার প্রবাসী মনছুর আলমের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হোটেল মাশাবির সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মনছুর আলমের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মনছুর লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ সুখছড়ি আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- খোরশেদ আলম, মো. সাব্বির, মু. শাহজাহান, জাহেদুল ইসলাম, সোলতানা ও খালেদা বেগম।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত রবিবার রাতে সৌদি আরবের রিয়াদে তার চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মনছুরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন সে দেশের পুলিশ। সৌদি আরবের মদিনায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মনছুর আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা মনছুর আলমের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে শওকত, রেজাউল ও সোহেলের নাম উল্লেখ করে তাদের সৌদি আরবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। একই সঙ্গে মনছুরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কেউ দায়ী হলে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা। তারা আরো বলেন মনছুর আলম (৩০) প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান। সেখানে মদিনায় কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে মুদি দোকানের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ব্যবসার হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে মনছুরের বিরোধ দেখা দেয়। পরে তার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয় এবং তাকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার পর তিনি মদিনা থেকে রিয়াদে তার চাচাতো ভাইয়ের কাছে চলে যান। সেখানেও ফোন ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে চাপ দেওয়া হতো বলে পরিবারের দাবি। এসব ঘটনায় মনছুর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে সৌদি আরবে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে মনছুরের ব্যবসায়িক অংশীদার শওকত, রেজাউল ও সোহেলের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।











