বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাতের শুরুতেই তিনি সালাম দিয়ে বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেফাজত আমির। একপর্যায়ে তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ হয়। পরে সেখানে দেশের আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময়সভায় নির্বাচনের সময় আলেমদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে দেশ গঠনে তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।
বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে যান। দুজন পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। এ সময় বাবুনগরী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত আলেম ও নেতাদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
এর আগে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মোড় সিঅ্যান্ডবি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাসে করে বাবুনগর মাদ্রাসায় যান তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় হেফাজতে ইসলামের আমিরসহ আলেমরা যেভাবে পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। দেশ গঠনের কাজেও তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর সরকারের বিভিন্ন কাজ, রমজান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কার কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ততার কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একজন মুসলমান হিসেবে অঙ্গীকার রক্ষা করা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কথা রাখতে না পারলে কাজের কোনো মূল্য থাকে না।
তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ ফ্যাসিবাদের সময় মানুষের ওপর অত্যাচার, দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্নভাবে এসেছে।
মতবিনিময়সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী উপস্থিত ছিলেন।







