বাঁশখালীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৪ মাদক কারবারি আটক
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

বাঁশখালীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

বাঁশখালীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৪ মাদক কারবারি আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ চারজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বৈলছড়ি এবং দুপুরে চাম্বল এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃতদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত তালিকাভুক্ত অপরাধীও রয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টায় বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি ও তালিকাভুক্ত অপরাধী বদিউল আলমকে (৫০) আটক করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে ১৪৯ পিস ইয়াবা, ৬০ লিটার দেশীয় মদ এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে অর্থদাতা ও সহযোগী দীপেশ চক্রবর্তীকে (৩৫) আটক করে সেনাবাহিনী। দীপেশের বাড়ি থেকে ৯টি রামদা, ১৫টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একনলা বন্দুকের ১০ রাউন্ড খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

620810278_4245974932347191_2419664132648988296_n


 

 

এদিকে, দুপুরে চাম্বল বাজারে পরিচালিত অপর এক অভিযানে ৪৮৭ পিস ইয়াবাসহ মো. সেকান্দার (৪০) ও মো. ফারহাদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আটককৃতদের কেউ কেউ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬-কে কেন্দ্র করে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার পরিকল্পনা করছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, মাদক ও আটককৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




সাতকানিয়ায় নেজাম-ছালেক হত্যাসহ ১৩ মামলার আসামি মাহমুদুল গ্রেপ্তার

সাতকানিয়ায় নেজাম-ছালেক হত্যাসহ ১৩ মামলার আসামি মাহমুদুল গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের আলোচিত ১৩ মামলার আসামি মাহফুজুল হক প্রকাশ মাহমুদুল হক মেম্বারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর একটার দিকে এওচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছনখোলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে সাতকানিয়া থানা-পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হক এওচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছনখোলা এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হক বহুল আলোচিত ছনখোলার নেজাম ও ছালেক হত্যা মামলার ৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ১৩টি মামলার আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের দুটি পৃথক মামলা (২০১২ ও ২০১৫) রয়েছে; যার মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ নম্বর মামলায় তদন্ত শেষে ইতিমধ্যে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১৫ সালের একাধিক মারামারি, দ্রুত বিচার ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন মামলায় (মামলা নং— ১, ৪ ও ১৫) পুলিশ তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। তবে ২০২৩ সালের ২৯ মে দায়ের করা একটি মামলায় (মামলা নং— ৪০) তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেয় পুলিশ। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দায়ের করা একটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলায় (মামলা নং— ৪) বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

থানা-পুলিশ আরও জানায়, সাতকানিয়ার বাইরে বোয়ালখালী থানায় ২০০৭ সালে দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় (মামলা নং— ০৩) মাহমুদুল হক অব্যাহতি পেলেও, বাঁশখালী থানায় দায়ের করা ২০২৪ সালের একটি বন মামলায় (সিআর নং— ৩৩০/১১) বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে সাজা প্রদান করেন।

তবে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত মাহমুদুল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলা আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা। নেজাম ও ছালেক হত্যা মামলা থেকেও আমি ইতিমধ্যে খালাস পেয়েছি। সম্প্রতি একটি ওয়ারেন্ট দেখিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি টানা তিনবার এলাকার মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি; কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে।




মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ পার্কে শোভাবর্ধন কাজ বাস্তবায়ন ও প্রতিবন্ধী পরিবারকে নতুন ঘর দিল পৌরসভা

মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ পার্কে শোভাবর্ধন কাজ বাস্তবায়ন ও প্রতিবন্ধী পরিবারকে নতুন ঘর দিল পৌরসভা
ছবি সংগৃহীত।

বোয়ালখালী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ পার্কে শোভাবর্ধন কাজ বাস্তবায়ন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন এবং একটি প্রতিবন্ধী পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করেছে বোয়ালখালী পৌরসভা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ পার্ক পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। এ সময় ফিতা কেটে নবনির্মিত নৌঘাট উদ্বোধন করেন তিনি।

পরে বোয়ালখালী পৌরসভার কধুরখীল ১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিন ধরে ঝড়-বৃষ্টিতে মানবেতর জীবনযাপন করা প্রতিবন্ধী শ্যামল দাশ ও নির্মল দাশের হাতে বোয়ালখালী পৌরসভার অর্থায়নে নির্মিত নতুন ঘরের চাবি ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন পৌর প্রশাসক এবং বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা।

এ সময় দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, ইউপি সদস্য এনামুল হক সজীব, পৌর প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি ধর, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




বাঁশখালীতে সীমানা বিরোধে হামলা, বৃদ্ধ নিহত

বাঁশখালীতে সীমানা বিরোধে হামলা, বৃদ্ধ নিহত
নিহত আবদুল মালেক।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে সীমানা বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় আবদুল মালেক (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত আবদুল মালেক শেখেরখীল ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বোচারপাড়ার মৃত মকবুল সোবহানের ছেলে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

জানা গেছে, বুধবার সকালে সীমানা বিরোধ নিয়ে নিহত আবদুল মালেকের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই মৃত নজির আহমদের ছেলে জাকের হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় জাকের হোসেন প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন। দুপুর ২টার দিকে আবদুল মালেক মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা জাকের হোসেন আবদুল মালেকের ওপর হামলা চালান। জাকেরের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই আবদুল মালেক মাটিতে ঢলে পড়েন।

নিহতের অপর চাচাতো ভাই ফরিদুল আলম জানান, “নিহত এবং হামলাকারী দুজনই আমার চাচাতো ভাই। সীমানা বিরোধের জের ধরে জাকের হোসেনের হামলায় ঘটনাস্থলেই আবদুল মালেক প্রাণ হারান।”

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, নিহত আবদুল মালেকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।