বাঁশখালীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস, প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিতে আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে বরণ করে নিতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সফরকালে বন্যায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গৃহহারা ১০০ পরিবারের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তাঁকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের টার্গেট নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাঁশখালীতে তারেক রহমানের এটিই প্রথম সফর বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন সরকারপ্রধান বাঁশখালী সফর করলেও তাঁদের কর্মসূচি ছিল প্রধান সড়ক ও এর আশপাশের এলাকায়। এবারই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান বাঁশখালীর উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকতে যাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।।ইতোমধ্যে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড। এর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ।
আয়োজকদের দাবি, বাঁশখালীতে এর আগে এত বড় মঞ্চ দেখা যায়নি। সমুদ্র সৈকতের বিশাল পরিসরেই লক্ষাধিক মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আকাশপথে হেলিকপ্টারে করে বাঁশখালীতে পৌঁছে সরাসরি কর্মসূচিস্থলে যাবেন তারেক রহমান। দ
বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি শেষে আকাশপথেই তিনি বাঁশখালী ত্যাগ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তাঁর আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাঁশখালী আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নেতৃত্বে চলছে প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার বাঁশখালী এসকেবি কনভেনশন সেন্টারে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও অংশ নেন।
স্থানীয় নেতারা জানান, তারেক রহমান সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাঁশখালীতে পৌঁছাতে পারেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি বাঁশখালীতে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে ইতোমধ্যে হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর পাশেই তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকেই বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মিত ১০০টি বাড়ির চাবিও হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১০০টি ঘর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি গুনাগারী থেকে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমার ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জনকে উপহার হিসেবে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তাঁর নজরে এলে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতেরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশা করছি।’
বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন বাঁশখালীবাসীর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। বন্যা শুরুর পর বাঁশখালীতে ডজনখানেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এসেছেন। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী আসছেন। এতে বাঁশখালীবাসী অনেক বেশি উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে কমপক্ষে এক লাখ মানুষ বাহারছড়ায় উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টার মধ্যেই সবাইকে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক সরাসরি প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করছেন। বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল হোক, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।’











