বাঁশখালীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস, প্রস্তুতি সম্পন্ন
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

বাঁশখালীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস, প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাঁশখালীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উচ্ছ্বাস, প্রস্তুতি সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিতে আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে বরণ করে নিতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

সফরকালে বন্যায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গৃহহারা ১০০ পরিবারের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তাঁকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের টার্গেট নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাঁশখালীতে তারেক রহমানের এটিই প্রথম সফর বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন সরকারপ্রধান বাঁশখালী সফর করলেও তাঁদের কর্মসূচি ছিল প্রধান সড়ক ও এর আশপাশের এলাকায়। এবারই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান বাঁশখালীর উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্র সৈকতে যাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।।ইতোমধ্যে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড। এর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ। 

আয়োজকদের দাবি, বাঁশখালীতে এর আগে এত বড় মঞ্চ দেখা যায়নি। সমুদ্র সৈকতের বিশাল পরিসরেই লক্ষাধিক মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আকাশপথে হেলিকপ্টারে করে বাঁশখালীতে পৌঁছে সরাসরি কর্মসূচিস্থলে যাবেন তারেক রহমান। দ

বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি শেষে আকাশপথেই তিনি বাঁশখালী ত্যাগ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তাঁর আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাঁশখালী আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নেতৃত্বে চলছে প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার বাঁশখালী এসকেবি কনভেনশন সেন্টারে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও অংশ নেন।

স্থানীয় নেতারা জানান, তারেক রহমান সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাঁশখালীতে পৌঁছাতে পারেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি বাঁশখালীতে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে ইতোমধ্যে হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর পাশেই তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকেই বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মিত ১০০টি বাড়ির চাবিও হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১০০টি ঘর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি গুনাগারী থেকে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমার ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জনকে উপহার হিসেবে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তাঁর নজরে এলে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতেরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশা করছি।’
বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন বাঁশখালীবাসীর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। বন্যা শুরুর পর বাঁশখালীতে ডজনখানেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এসেছেন। এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী আসছেন। এতে বাঁশখালীবাসী অনেক বেশি উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে কমপক্ষে এক লাখ মানুষ বাহারছড়ায় উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টার মধ্যেই সবাইকে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাঁশখালীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক সরাসরি প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করছেন। বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল হোক, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।’




বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মিত ঘরগুলোর মান নিম্ন হওয়ায় তা বসবাসের অনুপযোগী বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মিত ঘরগুলোর নিম্নমান ও নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশ এসব ঘরের অবকাঠামোকে অপ্রতুল উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার অর্ধেক মূল্যমানের কাজও হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বন্যা উপদ্রুত বাঁশখালী পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের খোঁজখবর নিতে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রথম ধাপে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০টি করে মোট ১০০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রবিবার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ হাত প্রস্থ ও ১২ হাত দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট দ্বিমুখী চালের (দ্বি-চালা) এসব ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ খুঁটি (পিলার), কাঠ ও টিন। ঘরে কোনো বারান্দা নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে তাড়াহুড়ো করে ঘরগুলো তৈরি করতে হয়েছে। ফলে শ্রমিক বাবদ খরচ অনেকটাই বেশি পড়েছে। এছাড়া দুর্গত ও কাদা-পানিপূর্ণ স্থানে তড়িঘড়ি নির্মাণ করায় অনেক ঘরের অবস্থা বেহাল, যা বর্তমানে বসবাসের প্রায় অনুপযোগী। শনিবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, “১ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘরগুলো আরও মানসম্মত ও টেকসই করা যেত। তাড়াহুড়ো করে যে কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করা কঠিন হবে।”

আবদুল মজিদ নামে অপর এক স্থানীয় অধিবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘরের মান কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণ টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনির এই সংকীর্ণ ঘরে একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।”

অভিযোগের বিষয়ে সারল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার জানান, “ঘরগুলো দুই কক্ষবিশিষ্ট। অত্যন্ত কম সময়ে দ্রুততম প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করতে হওয়ায় নান্দনিকতায় কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে, তবে একটি পরিবার স্বাভাবিকভাবে এখানে বসবাস করতে পারবে।” অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ১০টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১০টি ঘর তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদারকি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল হুদা জানান, বাঁশখালীতে প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সময় কম থাকায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ করতে হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ আসবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।




ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে বৈরাগে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে বৈরাগে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ইউনিয়নের সোনাইছড়ি চরপাড়া এলাকায় ‘এলাকাবাসীর’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেলের বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, শ্রমিক দল নেতা মো. সুমন, মো. ইদ্রিস, বদিউল আলম, মো. সোলেমান ও মো. একরাম। এ সময় ভুক্তভোগী মো. ওমর ফারুকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক গত ২ আগস্ট ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেল (৩৫) এবং তাঁর দুই সহযোগী সাজ্জাদ হাসান (২৭) ও ওমর কাদের সুজাতের (২৫) বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনোয়ারা থানাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, মামলাটি কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, "পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"




মা আসার ২০ বছর পর বাঁশখালীতে আসছেন ছেলে!

মা আসার ২০ বছর পর বাঁশখালীতে আসছেন ছেলে!
তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার আগমন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ।

২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট। আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে বাঁশখালীতে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ দুই দশক পর—ঠিক ২০ দিন কম ২০ বছর পর—আগামীকাল ৯ আগস্ট, রবিবার বাঁশখালীতে আসছেন তাঁর সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০০৬ সালে আমি দৈনিক ইনকিলাবে কর্মরত ছিলাম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষ্যে দৈনিক ইনকিলাবে আমার বাইলাইনে (Byline) অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখা থেকে আমাদের জন্য এক বিশেষ প্রবেশপাস দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বাঁশখালী জলদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও তার আশপাশের এলাকায় কয়েক লাখ মানুষের আগমন ঘটেছিল। পুরো বাঁশখালী জুড়ে সেদিন তৈরি হয়েছিল এক বিশাল জনস্রোত। তৈলারদ্বীপ থেকে চাম্বল পর্যন্ত সমগ্র বাঁশখালী সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; বলা চলে, পুরো সড়কই চলে গিয়েছিল জনতার দখলে।

সেদিন উদ্বোধন করা হয়েছিল বহু আকাঙ্ক্ষিত তৈলারদ্বীপ সেতু ও বাঁশখালী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।