কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
ছবি সংগৃহীত।

রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক শেষে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে অংশ নেব। আমরা প্রার্থী দেবো। যেহেতু ১১ দল আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি পার্লামেন্টে এবং বাইরে গণভোটের জন্য, সেই জায়গায় আমাদের কমন প্রার্থী থাকবে, ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী থাকবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হবেন ১১ দলেরই শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। 
তিনি নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, ছয়বার তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। উনি ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী থাকবেন।

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলে আমরা মনে করি দেশের এই যে সংকট একটা চলছে, এই সময় দেশের যে ধরনের অভিভাবকত্ব প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমরা মনে করি কর্নেল অলি আহমেদ উপযুক্ত এবং উনার অভিভাবকত্বে বা উনার নেতৃত্বে এই সংকটগুলো নিরসন হওয়া সম্ভব।’

আজ ১১ দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে। বিশেষত বিএনপি সরকারের নির্বাচন পরবর্তী তাদের যে অবস্থান, আমাদের গণভোট, জুলাই সনদ, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সরকারের দ্বিচারিতা।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনের দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে, সেটার একটা নতুন ফর্মুলা প্রস্তাবিত হয়েছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একটা সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াও সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে নির্বাচনের পরে আসলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে জুলাই সনদ অনুযায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গণভোটের যে ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে, ৭০ শতাংশ জনগণ আমাদের দিয়েছিল। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুনভাবে সংস্কারকৃত সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে এবং তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়নের কোনো কিছু কোনো ধারাতেই নেই। সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নেয়নি, অধিবেশন ডাকেনি এবং সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করছে। আমাদের যে লড়াই ছিল, নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচন কমিশন, তা আমরা দেখলাম যে এই সরকারও আসলে পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রথম অধিবেশনের একদম প্রথম দিনই বলেছিলাম যে ফ্যাসিবাদের দোসর সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি থেকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, জুলাই সনদ অনুসারে। সেই রাষ্ট্রপতিকে তারা ছয় মাস রেখে দিলো এবং তাকে এখনও কোনো ধরনের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। এটাও আমাদের কাছে সন্দেহজনক।’

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ বছর যখন অতিক্রম হবে, এই রাষ্ট্রপতি সে সময় থাকবেন এবং তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে, এই রাষ্ট্রপতি যিনি রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, হবেন, তার ভূমিকা কী হবে, এই পুরো বিষয়টা কিন্তু জাতির সামনে একটা সন্দেহ তৈরি করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির অধীনে ইতিহাসে আমরা দেখেছি, তারা সবসময় চেষ্টা করেছে এই ট্রানজিশনের সময়গুলো যাতে নিজেদের হাতে ক্ষমতা থাকে, সেটা তারা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক সাংবিধানিক সংকট তারা তৈরি করেছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী বাস্তবে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়ম দেখে এসেছি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা থাকে, তাদের প্রাধান্য থাকে এবং তাদের ওই ভোটে কাস্টিং ভোটটাই মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।’

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, এই অংশগ্রহণটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মনে করি যে এই প্রক্রিয়াটা অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা.  শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির

বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত।

জনগণের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "গণভোটে আপনারা ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ' বলেছিলেন। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে এবং এই বিএনপিই তা করতে বাধ্য হবে। তারা পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে। সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজ ৮ দফা দাবি নিয়ে নেমেছি জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে এই ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।"

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসের টাঙ্গাইল সড়কে লংমার্চের পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, "সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশ্যে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, শিল্পের চাকা ঘোরানোর দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে এবং রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও টেম্পো স্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ।"

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "এগুলো আপনাদের দাবি কি না? আপনাদের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি, কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।"

সকাল ১০টায় ভোগড়া বাইপাসে বক্তব্য দেওয়া শেষে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লংমার্চটি। সকাল সাড় ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান।




ভারতের হাতে সুইচ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে আদানি: রিজভী

ভারতের হাতে সুইচ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে আদানি: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের শঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচ রয়েছে, তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ করে দিতে পারে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’- এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট ও গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ দেশের বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও সেখানে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।’

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয়?’

শেখ হাসিনাসহ ১৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা খুনিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা করছে। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

এছাড়া উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কেএম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার।




যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, সেই সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু ধরা পড়ার পর দেখা গেল, তারা বিএনপির লোক।

তিনি বলেন, এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা সবাই বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিএনপিও এ কথা বলেছে, আমরাও বলেছি। ছয় মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে। সন্তানরা ভালো শিক্ষা পাবে, হাতে ভালো কাজ পাবে এবং তারা দেশ গড়বে। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু তার একটাও হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, তারা তখন বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায়নি, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন?

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল আসছে। গ্যাস দেবে না, কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। তেল পাই না, জ্বালানি পাই না। চারদিকে হাহাকার।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও হানাহানি চলছে। দলীয় আনুকূল্য ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাস ও চুরি-ছিনতাইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

লংমার্চের কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু প্রতিক্রিয়া আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলি– আমাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন।

‘আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য আন্দোলন শুরু করিনি। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো আমল করতে থাকে, তাহলে আমরা কি তাদের ইয়াসিন সূরা পড়ে পানি পড়া খাওয়াব? সেই পথেই সরকার হাঁটছে। আগের সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকারও একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ।’

জামায়াতের আমির বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। বলেন, এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন– আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।

চট্টগ্রামবাসী, এই তো একটা তাজা উদাহরণ দিলাম বাংলাদেশকে। এটা কি বৈষম্য নয়? তারা জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং তাদের সংস্কারের ৩১ দফায় ওয়াদা করেছিলেন যে, সমাজের সব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করবেন। এখন জায়গায় জায়গায় তারা যে প্রশাসক বসালেন, তারা কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি?

তিনি বলেন, আমাদের আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরের লংমার্চ এমন হবে না। এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাদের দলের প্রচুর লোক মারা গেছে, গুম হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত ও জীবনের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন, আমাদের সরকারটা শিশু সরকার। জনগণ কোন শিশুকে ভোট দিয়েছে? ২৫ বছরের আগে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারে না। উনারা কি ২৫ বছরের শিশু, নাকি প্রাপ্তবয়স্ক? জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে। আপনারা ওয়াদা করেছেন, কথা দিয়েছেন। এখন সেই সবকিছু আপনারা লঙ্ঘন করছেন।

তিনি বলেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে– এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভেতরেই তার ফয়সালা হবে। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা তাদের সঙ্গে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন, প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু টোপ দেওয়া হয়েছে, লোক দেওয়া হয়েছে– এটা করব, ওটা করব। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো লোভের প্রতি আমরা চোখ খুলেও তাকাব না। জনগণের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমরা তা আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এর আগে আমরা বিরতি দেব না, আমরা থামব না। এই লড়াই চলবে এবং বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ, বদলাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলানোর জন্য আপনারা কি তৈরি আছেন? তাহলে প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক, ইনশাআল্লাহ, আসবে। তবে এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ডাক আসবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা কনফিডেন্ট, আমরা আস্থাশীল– এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে, লুটেরা-লুটপাটকারীরা হেরে যাবে। যারা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তারা হেরে যাবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি শুধু জানতে চাই- আপনারা ১৫ বছরের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান? ১৫ বছর যত হত্যাকাণ্ড, যত গুম হয়েছে, সবগুলোর বিচার চান? আপনারা ’২৪-এর আন্দোলনের বীর শহীদদের হত্যার বিচার চান? যারা তাদের গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে, সেই খুনিদের বিচার চান? বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে যারা হত্যা করেছে, সেই খুনিদের বিচার চান? যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল, তাদের বিচার চান? জল্লাদদের বিচার চান?।আমরা কথা দিচ্ছি, সেই বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব। আর এই সরকার যদি এই বিচার না করে, তাহলে জনগণের সরকার কায়েমের মাধ্যমে সেই বিচার আমরা তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন– বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন– এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির মুখপাত্র মাওলানা নাজমুল ইসলাম তালুকদার, গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে এ সমাবেশ চলে।

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে– অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।