ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি নোটিশ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলকর জিল্লু আজ এই নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা হলেন— ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা উপ-পরিচালক, ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়ার ঝাইক্কাবিল এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিল, পূর্ব ফরাজিপাড়া, পশ্চিম পালাকাটা ও দক্ষিণ লরাবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একদল অসাধু ভূমিদস্যু এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। গভীর গর্তের কারণে পার্শ্ববর্তী আবাদি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
নোটিশে আরও বলা হয়, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির মাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। মাটির উপরিভাগের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ৬-১০ ইঞ্চি স্তর কেটে ফেলায় ওই জমি পুনরায় আবাদি হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তপূর্বক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টে রিট (Writ of Mandamus) দায়ের করা হবে।”








