রাতদিন চলছে বালু উত্তোলন, অভিযোগের তীর জহির গংয়ের দিকে

রাজনীতির আড়ালে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ও চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে জাহেদুল ইসলাম জহির ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সরকারি জমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশপাশের এলাকা, কৃষিজমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুটিবিলা এলাকার ইব্রাহিম ও মোহছেন (প্রকাশ মহাসিন ডাক্তার)-এর দখলীয় জমি, সরকারি পিএফ জমি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রিজার্ভ এলাকা, নলুবিল, ডলুখাল, হরি খাল, আন্দারি খাল ও পুলং খালসহ অন্তত ১৫-২০টি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সমানতালে এসব পয়েন্ট থেকে বালু তুলে ডাম্পার ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগ রয়েছে, চুনতি ইউনিয়ন ছাত্রদলের পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জহির ও তার সহযোগীরা এসব বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসব অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রন করছেন ছাত্রদল নামধারী জহির।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, খালপাড় ও আশপাশের ভূমিতে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ডাম্পার ও ড্রাম ট্রাকের কারণে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন সড়কে গর্ত সৃষ্টি ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলাম জহিরকে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ২০০ টাকার মালিক, এমবি খরচ লাগলে বলেন, আমি দিবো। আমার বিরুদ্ধে নিউজ লিখেন, দেখি আমার কী করতে পারেন। বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমির আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। তারা অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হলে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক ও জনজীবনও সুরক্ষিত হবে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যেকোনো দলের বা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।









