প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম
ছবি সংগৃহীত।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের চত্বর এখন পরিপাটি ও নান্দনিক। মাত্র চার দিন আগেও যে প্রাঙ্গণ ছিল কিছুটা বিবর্ণ, তা এখন সেজেছে বর্ণিল সাজে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে পুরো বন্দরনগরীতে বইছে আনন্দের আবহ। নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রূপে সাজিয়ে সরকারপ্রধানকে বরণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সার্বিক প্রস্তুতি এবং জে এম সেন হলের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ পরিদর্শনকালে এ কথা জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চসিক মেয়র বলেন, চার দিন আগের জে এম সেন হলের চিত্রের সঙ্গে আজকের অবস্থার আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সিটি করপোরেশনের নিরলস প্রচেষ্টায় জায়গাটিকে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। আমরা চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী এখানে পা রাখলেই যেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মোহনীয় রূপ দেখতে পান।

চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসের মতো ক্ষণজন্মা বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলো একসময় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে ছিল। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কার ও দৃষ্টিনন্দন উপায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং পুরো যাতায়াত পথকে চকচকে করা হয়েছে। বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে ভিআইপি সড়ক, সবখানেই চলছে বিশেষ সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সড়কের দুই ধার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সব ধরনের অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন। এছাড়া নবনির্মিত সাইকেল ট্র্যাক, বোট ক্লাব সড়ক এবং নগরীর প্রধান ধমনীগুলোতে বর্ষা-পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ এখন দৃশ্যমান।

সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অন্যরকম উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী মা-বোনেরাও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এই সফরটি একটি ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর আয়োজনে রূপ নেবে।’

জনপ্রিয় এলাকা জামালখানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র বলেন, নগরবাসীর অবসর সময় কাটানোর প্রিয় এই স্থানটিকে আরও বেশি জনবান্ধব, আকর্ষণীয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করে গড়ে তুলতে বিশেষ রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




৫৬৬ গ্রাম সোনাসহ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী আটক

৫৬৬ গ্রাম সোনাসহ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৪৬৬ গ্রাম ওজনের চারটি স্বর্ণের দণ্ড এবং তার কাছে থাকা ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ৫৬৬ গ্রাম। এ ঘটনায় মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আবুধাবি থেকে আসা একটি ফ্লাইটের ওই যাত্রীকে কাস্টমস হলে স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। পরে ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও কাস্টমস গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

আটক মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকায়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক কামরুলের ব্যাগেজে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডার ও বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে চারটি স্বর্ণের দণ্ড লুকানো ছিল। তল্লাশির সময় সেগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া যাত্রীর কাছে থাকা ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়িও জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণের রাজস্ব ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। উদ্ধারের পর এগুলো বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করে পতেঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সিএমপি কমিশনার

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সিএমপি কমিশনার
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সিএমপি কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় সভা হয়েছে।

সবাই মিলে দুর্গাপূজা ও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা

দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বুঝে নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। আগামী ১৫ বছরের জন্য পরিচালিত এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করা না হলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ১৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরকে এককালীন ৫ কোটি ডলার প্রদানসহ বছরে অন্তত ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে দেশীয় অপারেটরদের অধীনেই এই টার্মিনালে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা এই চুক্তির বিবরণ জনসমক্ষে না আসায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালটিতে একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। টানা আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, "এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে করা গোপন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আমরা সরকারকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিয়েছি; দাবি না মানলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে যাব।"

চুক্তির বিষয়ে অন্ধকারে থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক। তিনি বলেন, "বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তির লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত ছিল। তবে আমরা একেবারে অন্ধকারে রয়েছি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবা দ্রুত হলে ভালো, কিন্তু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে কেন চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করা হলো না?"

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ও বিদেশি সংস্থাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে শ্রমিক দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন দফায় দফায় কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালনা করে আসছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।