জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে পটিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তার

পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং ২টি মোবাইল ফোন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ২৪ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে পটিয়া থানাধীন কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কেলিশহর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্নারপাড়া এলাকার মৃত দুলা মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) এবং একই এলাকার নুরে আলম পুচুমের ছেলে মো. মহসিন (৩৩)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরের খাটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, ১টি দা, ১টি লোহা কাটার এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে একই ইউনিয়নের ছাতিভাঙ্গা এলাকার আফছারের গাছবাগানে অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ২টি একনলা বন্দুক ও ২টি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের সামগ্রিক তালিকায় রয়েছে—২টি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় তৈরি এলজি, ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, ১টি দা, ১টি লোহা কাটার এবং ২টি মোবাইল ফোন।
প্রাথমিক তদন্তে ডিবি পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, অপরাধ, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে পুলিশ।











