চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মিত ঘরগুলোর নিম্নমান ও নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশ এসব ঘরের অবকাঠামোকে অপ্রতুল উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার অর্ধেক মূল্যমানের কাজও হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, বন্যা উপদ্রুত বাঁশখালী পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের খোঁজখবর নিতে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রথম ধাপে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০টি করে মোট ১০০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রবিবার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ হাত প্রস্থ ও ১২ হাত দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট দ্বিমুখী চালের (দ্বি-চালা) এসব ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ খুঁটি (পিলার), কাঠ ও টিন। ঘরে কোনো বারান্দা নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে তাড়াহুড়ো করে ঘরগুলো তৈরি করতে হয়েছে। ফলে শ্রমিক বাবদ খরচ অনেকটাই বেশি পড়েছে। এছাড়া দুর্গত ও কাদা-পানিপূর্ণ স্থানে তড়িঘড়ি নির্মাণ করায় অনেক ঘরের অবস্থা বেহাল, যা বর্তমানে বসবাসের প্রায় অনুপযোগী। শনিবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, “১ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘরগুলো আরও মানসম্মত ও টেকসই করা যেত। তাড়াহুড়ো করে যে কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করা কঠিন হবে।”
আবদুল মজিদ নামে অপর এক স্থানীয় অধিবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘরের মান কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণ টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনির এই সংকীর্ণ ঘরে একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে সারল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার জানান, “ঘরগুলো দুই কক্ষবিশিষ্ট। অত্যন্ত কম সময়ে দ্রুততম প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করতে হওয়ায় নান্দনিকতায় কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে, তবে একটি পরিবার স্বাভাবিকভাবে এখানে বসবাস করতে পারবে।” অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ১০টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১০টি ঘর তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদারকি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল হুদা জানান, বাঁশখালীতে প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সময় কম থাকায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ করতে হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ আসবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।