ছদাহা আবুল হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস ও মা সমাবেশ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

ছদাহা আবুল হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস ও মা সমাবেশ

ছদাহা আবুল হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস ও মা সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা আবুল হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার সকালে (৫ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থান দিবস, মা সমাবেশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কৃতি শিক্ষার্থী এবং নবগঠিত পরিচালনা কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান বলেন, "জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবকদের, বিশেষ করে মায়েদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"

প্রধান বক্তা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে সৎ, সাহসী ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন কমিটি ও শিক্ষকেরা নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।"

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মিত ঘরগুলোর মান নিম্ন হওয়ায় তা বসবাসের অনুপযোগী বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মিত ঘরগুলোর নিম্নমান ও নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশ এসব ঘরের অবকাঠামোকে অপ্রতুল উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার অর্ধেক মূল্যমানের কাজও হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বন্যা উপদ্রুত বাঁশখালী পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের খোঁজখবর নিতে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে প্রথম ধাপে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০টি করে মোট ১০০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রবিবার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ হাত প্রস্থ ও ১২ হাত দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট দ্বিমুখী চালের (দ্বি-চালা) এসব ঘরে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ খুঁটি (পিলার), কাঠ ও টিন। ঘরে কোনো বারান্দা নেই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে তাড়াহুড়ো করে ঘরগুলো তৈরি করতে হয়েছে। ফলে শ্রমিক বাবদ খরচ অনেকটাই বেশি পড়েছে। এছাড়া দুর্গত ও কাদা-পানিপূর্ণ স্থানে তড়িঘড়ি নির্মাণ করায় অনেক ঘরের অবস্থা বেহাল, যা বর্তমানে বসবাসের প্রায় অনুপযোগী। শনিবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, “১ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘরগুলো আরও মানসম্মত ও টেকসই করা যেত। তাড়াহুড়ো করে যে কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করা কঠিন হবে।”

আবদুল মজিদ নামে অপর এক স্থানীয় অধিবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘরের মান কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণ টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনির এই সংকীর্ণ ঘরে একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।”

অভিযোগের বিষয়ে সারল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার জানান, “ঘরগুলো দুই কক্ষবিশিষ্ট। অত্যন্ত কম সময়ে দ্রুততম প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করতে হওয়ায় নান্দনিকতায় কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে, তবে একটি পরিবার স্বাভাবিকভাবে এখানে বসবাস করতে পারবে।” অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ১০টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১০টি ঘর তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদারকি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল হুদা জানান, বাঁশখালীতে প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এসব ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সময় কম থাকায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ করতে হয়েছে। পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ আসবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।




ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে বৈরাগে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে বৈরাগে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ইউনিয়নের সোনাইছড়ি চরপাড়া এলাকায় ‘এলাকাবাসীর’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেলের বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, শ্রমিক দল নেতা মো. সুমন, মো. ইদ্রিস, বদিউল আলম, মো. সোলেমান ও মো. একরাম। এ সময় ভুক্তভোগী মো. ওমর ফারুকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক গত ২ আগস্ট ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেল (৩৫) এবং তাঁর দুই সহযোগী সাজ্জাদ হাসান (২৭) ও ওমর কাদের সুজাতের (২৫) বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনোয়ারা থানাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, মামলাটি কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, "পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"




মা আসার ২০ বছর পর বাঁশখালীতে আসছেন ছেলে!

মা আসার ২০ বছর পর বাঁশখালীতে আসছেন ছেলে!
তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার আগমন নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ।

২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট। আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে বাঁশখালীতে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ দুই দশক পর—ঠিক ২০ দিন কম ২০ বছর পর—আগামীকাল ৯ আগস্ট, রবিবার বাঁশখালীতে আসছেন তাঁর সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০০৬ সালে আমি দৈনিক ইনকিলাবে কর্মরত ছিলাম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষ্যে দৈনিক ইনকিলাবে আমার বাইলাইনে (Byline) অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখা থেকে আমাদের জন্য এক বিশেষ প্রবেশপাস দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বাঁশখালী জলদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও তার আশপাশের এলাকায় কয়েক লাখ মানুষের আগমন ঘটেছিল। পুরো বাঁশখালী জুড়ে সেদিন তৈরি হয়েছিল এক বিশাল জনস্রোত। তৈলারদ্বীপ থেকে চাম্বল পর্যন্ত সমগ্র বাঁশখালী সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; বলা চলে, পুরো সড়কই চলে গিয়েছিল জনতার দখলে।

সেদিন উদ্বোধন করা হয়েছিল বহু আকাঙ্ক্ষিত তৈলারদ্বীপ সেতু ও বাঁশখালী টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।