চকরিয়া সেভরণ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের বিক্ষোভ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেভরণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জান্নাতুল মাওয়া লুচি (২২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল মাওয়া লুচি চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শেফায়েত মাসুম।
স্বজনদের দাবি, দালালের মাধ্যমে লুচিকে সেভরণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাঁকে রক্ত দেওয়ার সময় হঠাৎ শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে তিনি সন্ধ্যার দিকে মারা যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁরা রোগীকে দেওয়া রক্তের ব্যবহৃত ব্লাড ব্যাগ দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনরা জানান, লুচির সিজারিয়ান অপারেশনের সঙ্গে ডা. ইমরান উদ্দিন রুবেল ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিশাত ফারজানা সৌরভী সম্পৃক্ত ছিলেন। অপারেশনে সহযোগী হিসেবে হিরা বর্মন, নাজেম ও সাথী ছিলেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
তাঁদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালের কার্যালয় বন্ধ করে কর্তৃপক্ষের লোকজন সরে যান বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে সেভরণ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল কবিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের স্বজনদের আরও দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ‘সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নাম ব্যবহার করে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন পরিচালক দাবি করেন, হাসপাতালটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আলাদা এবং কয়েকজন মিলে এটি পরিচালনা করছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৬ মে সেভরণ হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে একই বছরের ৩ জুলাই মোবাইল কোর্টের অভিযানে হাসপাতালটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে সর্বশেষ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলেরও দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে চিকিৎসাসেবায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, "মৃত্যুর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"










