গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে পটিয়ায় বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে পটিয়ায় বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল

গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে পটিয়ায় বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল
ছবি সংগৃহীত।

ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিজয় দিবস উপলক্ষে পটিয়ায় উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় পটিয়া পৌরসভাস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে উপজেলা, পৌরসভা এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আলহাজ নুরুল ইসলাম সওদাগর। সমাবেশ পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম।

সমাবেশ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন এমএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আবুল ফয়েজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মনির আহমেদ সেলিম, এ. কে. এম. জসীম উদ্দীন, মো. মঈনুল আলম ছোটন ও মোজাম্মেল হক চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, হাজী আবুল কাশেম ও আবদুল মাবুদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর জাকের আহমেদ, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব নাছির উদ্দীন, বিএনপি নেতা আলহাজ ইসমাইল হোসেন ও জাহেদুল হক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত ইয়াসিন, সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক আবছার উদ্দীন সোহেল, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ওবায়দুল হক রিকু, সদস্য সচিব মো. জাহেদ, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মীর সাইফু, সদস্য সচিব আবদুল কাদের, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মাহবুল আলম পারভেজ, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, পৌরসভা কৃষক দলের আহ্বায়ক বুলবুল আহমেদ নান্নু, সদস্য সচিব আলমগীর আলম, উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ইব্রাহিম, মহিলা দলের সভাপতি সাজেদা ইয়াসমিন রেখা, সাধারণ সম্পাদক হালিমা বেগম, পৌরসভা মহিলা দলের সভাপতি আয়শা আক্তার, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. হোসেন নয়ন ও শাহাদাত হোসেন, রেজাউল করিম মিজানসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা, উপজেলা, পৌর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।




এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা
ফলাফলে সেরা বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আনোয়ারা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৭৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ১১টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৩টি কারিগরি (ভোকেশনাল) বিদ্যালয় থেকে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

এসএসসিতে উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন, দাখিলে ২৭ জন এবং ভোকেশনালে ২১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আনোয়ারায় এবার এসএসসিতে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাখিলে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৬ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ—যা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। ৫৮ জন পাস করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ জন পাস করেছে এবং ৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী স্কুলের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১০২ জন পাস করেছে এবং তাদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অন্যদিকে উপজেলার ১১টি মাদ্রাসার মধ্যে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৯ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ২০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদিয়া কুদ্দুসিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৪ জন পাস করেছে, যাদের মধ্যে ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ মাদ্রাসার পাসের হার ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ। পশ্চিম চাল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৯১ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

আনোয়ারায় ৩টি কারিগরি বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলো হলো—আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় ও তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়। এ তিনটির মধ্যে আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬ জন পাস করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার ৮৬ শতাংশ। অপর দুটির মধ্যে ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় এবং তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার উপজেলায় এসএসসিতে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯০২ জন, দাখিলে ১৭৩ জন এবং ভোকেশনালে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বসু জানান, সারা দেশের মতো এবার আনোয়ারা উপজেলায়ও ফলাফল তেমন ভালো হয়নি। আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জনে চেষ্টা করা হবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, "ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। এবার সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ভালো করতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বসব।"




পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের

পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের
ছবি সংগৃহীত।

জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে ঘরটির, সেই ঘরই এখন নেই। জলাবদ্ধতায় মাটির ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে রিকশাচালক অপু বিশ্বাসের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন নিজের বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে রাত কাটছে তাঁর।

পটিয়া উপজেলার মধ্যম কালিয়াইশ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শোভনদণ্ডী এলাকার মৃত বিশ্বেশ্বর বিশ্বাস ও বীণাপাণি বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস পেশায় একজন রিকশাচালক। দিনভর রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। এর মধ্যে টানা জলাবদ্ধতায় তাঁর একমাত্র মাটির ঘরটি ভেঙে পড়ায় পরিবারটি হয়ে পড়েছে আশ্রয়হীন।

ঘর হারানোর পর কয়েক দিন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অপু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে এখন কোনো ঘর নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়ও।

এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, বর্তমানে বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো অপুর পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।

মানবিক সংগঠক শফিকুল আলম বশর বলেন, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য অপুর বৃদ্ধ মাকে ঘিরে। ছেলের অসহায়ত্ব দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "বাবা, রাতে ঘুমানোর জায়গা নেই। আমার ছেলেকে একটা ঘর করে দে।" তিনি সরকার, বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে অপুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অপু বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরোবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয় কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিও তাঁর পরিবারের পাশে এগিয়ে আসেননি বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হন অপু। মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিলেও দিন শেষে নিজের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি। যে ঘরে ফিরে পরিবারের সঙ্গে রাত কাটানোর কথা, সেই ঘরটিই আজ তাঁর নেই।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অপুর প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়; প্রয়োজন একটি ছোট ঘর, যেখানে বৃদ্ধ মা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাবেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফেরা অপুও যেন বলতে পারেন, এটাই আমার ঘর, এটাই আমার ঠিকানা।




বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসর! সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা!

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসর! সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসরের অংশগ্রহণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিয়েছেন আওয়ামী লীগকর্মী এবং সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা।

খোদ সমাবেশ চলাকালেই এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে মোহাম্মদ হারুন নামে এক আওয়ামী লীগকর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিতে দেখা গেছে। খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী মোহাম্মদ হারুন জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি গ্রহণ করেন। তা ছাড়া তাঁর বাড়িটি বিধ্বস্ত না হলেও তাঁকে উপহারের ঘর দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জড়িত বলে জানিয়েছেন ক্ষোভ প্রকাশকারী নেতাকর্মীরা। তাঁরাই এই তালিকা করেছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আমিনকে দেখা গেছে সমাবেশ মঞ্চের সামনে। টিভি সাংবাদিকদের জন্য নির্মিত স্টেজে উঠে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাঁকে। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো ছবি তোলার স্টেজেরই চেয়ারে বসেছেন কালীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম। এ সময় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন সমাবেশে আগতরা।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাঁকে একাধিকবার নেমে যেতে বললেও তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, কালীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন একজন যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সর্বত্র বিচরণ করছেন এই আমিন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়েনি।

এদিকে সমাবেশমঞ্চের কার্ড বিতরণ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক ত্যাগী নেতাকে মঞ্চে যাওয়ার কার্ড দেওয়া হয়নি। বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে আসার আগে প্রচুর সময় ছিল। চাইলে এক-দুই মিনিট করে অনেক নেতা বক্তব্য দিতে পারতেন। কিন্তু ২-৩ জন সারাক্ষণ বক্তব্য দিয়ে মাইক ধরে রেখেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বহু নেতাকর্মীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে এখানে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এক আওয়ামী লীগকর্মী ও ডাকাত-সন্ত্রাসীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ঘরের চাবি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ছিলেন উপেক্ষিত।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিতরণের এই তালিকা একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তালিকায় কীভাবে আওয়ামী লীগের দোসরের নাম এল, তা আমার জানা নেই।