কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের

কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাত জন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারেরই ছয় জন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদেরই এক স্বজন।

জানা গেছে, ছুটি কাটাতে কক্সবাজার গিয়েছেন আশিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও স্ত্রীর ছোটবোন লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাগা আগুনে নিহত হন আশিকুল ইসলামের স্ত্রীসহ একই পরিবারের ছয় জন।

আশিকুল ইসলামের ভাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার ভাই (আশিক ইসলাম) ছিল। ভাই হচ্ছে বেঁচে আছে। সে হচ্ছে দুই তলা থেকে লাফ দিয়েছে। আমার ভাবিসহ বাকি ভাবির ফ্যামিলির, তার বোন...এরকম ছয়জন মারা গেছে।’

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বলেছেন, প্রথম দফায় ছয় জনের লাশ এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে টয়লেটে আশ্রয় নেওয়া আরও চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রিসোর্টে অনুসন্ধান কাজ এখনও চলমান আছে।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয় জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহমেদ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয় জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।




ইনানী পাটুয়ারটেকে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

ইনানী পাটুয়ারটেকে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ’ নামের একটি কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন নিহত হয়েছে। তারা সবাই পর্যটক। সমুদ্র দেখতে তারা ঘুরতে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য এ তথ্য জানান। 

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাফিজ ও নাবিলা। বাকি দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

সর্বশেষ উদ্ধার করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিহত ১০ জনের মধ্যে নাবিলাসহ ৬ জনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি)এর ১৫তম ব্যাচের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ রানা (৩০) ও সামিদা (৩২)।

আহাদ বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। আমাদের পরিবারের ছয়জন এ ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তারা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবারের মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত তিনজন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পাঠানো ছয়জনের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড, এসআরবি ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর আহত ব্যক্তি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।

সকালে আগুন লাগার পর রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার সকাল ১১টার দিকে জানান, রিসোর্টটিতে ২৭ জনের প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নয়জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিসোর্টে মোট কতজন ছিলেন এবং আর কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্থানীয়দের ধারণা, রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।




চকরিয়ায় শতাধিক পরিবারের চলাচলের পথে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

চকরিয়ায় শতাধিক পরিবারের চলাচলের পথে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতালপাড়ায় সিঙ্গার শোরুমের পাশে চলাচলের পথ জবরদখলের চেষ্টা এবং প্রতিবাদ করায় এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর এবং বসতঘর থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

অভিযোগকারী ছেনুয়ারা বেগম (৪১) চকরিয়া পৌরসভার হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার বিষয়ে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মো. সাকিব (২৫), জয়নাল আবেদীন (৫০), এম. মোবারক (২২), মো. এহেছান (২৪) ও ফোরকানুল ইসলামসহ (৪০) মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ছেনুয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁদের বসতঘরের পাশের চলাচলের পথ দিয়ে এলাকার প্রায় ১০০ পরিবারের লোকজন যাতায়াত করেন। অভিযুক্তরা ওই পথের পাশে ঘর নির্মাণ ও পাকা দালান তৈরির উদ্যোগ নিলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ ও বাক্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশি অস্ত্র, দা, লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অভিযোগকারী, তাঁর ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। হামলার সময় বসতঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, "আমার জায়গায় আমি স্থাপনা তৈরি করছি। উল্টো তারা আমার ঘরে হামলা চালিয়েছে।"

অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল রাজার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন, নিহত বেড়ে ১০

কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন, নিহত বেড়ে ১০
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে ইনানি বিচের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।  এর আগে ছয় জন নিহতের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। নিহতরা সবাই পর্যটক, সেখানে তারা ঘুরতে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য এ তথ্য জানান।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জন হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

এ ঘটনায় আহতদের প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ।

আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন বের হতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাকিদের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কক্সবাজারের ইনানী বিচের টুপ টুপ রিসোর্টে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পরে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৪ জন মারা যান।