নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা পাচার রোধে বিজিবির ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেকট্রোমিটার’ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা পাচার রোধে বিজিবির ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেকট্রোমিটার’ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা পাচার রোধে বিজিবির ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেকট্রোমিটার’ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১১ ব্যাটালিয়ন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির আদর্শগ্রাম চেকপোস্টে আধুনিক ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেকট্রোমিটার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবিরের দিকনির্দেশনায় আদর্শগ্রাম চেকপোস্টে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজন পণ্য ও সামগ্রী পরীক্ষা করে দ্রুত মাদক শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদক পাচারকারীরা প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর আড়ালে ইয়াবাসহ নানা ধরনের নিষিদ্ধ মাদক পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে থাকে। এ ধরনের কৌশল নস্যাৎ করতে চেকপোস্টে সন্দেহভাজন যানবাহন ও মালামাল তল্লাশির পাশাপাশি এই প্রযুক্তিনির্ভর শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি।

উল্লেখ্য, এর আগে আদর্শগ্রাম চেকপোস্টে লেবুভর্তি বস্তার ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছিল বিজিবি। ওই ঘটনার পর মাদক পাচারের নতুন কৌশল প্রতিরোধে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।

১১ বিজিবির এই তৎপরতার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মাদক পাচার ও চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধে বিজিবির এই কঠোর তল্লাশি, নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র।




দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বান্দরবান সেক্টরে বিজিবির ১২ প্লাটুন টহল

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বান্দরবান সেক্টরে বিজিবির ১২ প্লাটুন টহল
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষে বান্দরবান সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্যের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনার পাশাপাশি ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর, বান্দরবান থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তর এবং এর অধীন রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি), বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) ও আলীকদম ব্যাটালিয়নের (৫৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে নয়টি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা কার্যক্রমে টহলের সময় বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি বিজিবির ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা এবং সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে সেক্টর কমান্ডার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।

বিজিবি আশা প্রকাশ করেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে। এ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়েছে বাহিনীটি।




জমকালো আয়োজনে লামায় দৈনিক কালবেলার বর্ষপূর্তি উদযাপন

জমকালো আয়োজনে লামায় দৈনিক কালবেলার বর্ষপূর্তি উদযাপন
ছবি সংগৃহীত।

জমকালো আয়োজনে বান্দরবানের লামায় দৈনিক কালবেলার ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে লামা প্রেস ক্লাবের ৩য় তলার হলরুমে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে দৈনিক কালবেলার লামা প্রতিনিধি বিপ্লব দাশের আয়োজনে ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল হামিদ, লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম আরমান, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও জিটিভি প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন রিটু, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি তৈয়ব আলী, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সাঙ্গু প্রতিনিধি বেলাল আহমদ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণ প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও আলোকিত সকাল প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুল হাসেম, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সহ-সভাপতি উজ্জ্বল বড়ুয়া, সিনিয়র সাংবাদিক এস কে খগেশ চন্দ্র খোকন, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, কালবেলার আলীকদম প্রতিনিধি সুজন চৌধুরী, দৈনিক দৈনন্দিন প্রতিনিধি মো. হাসান, দৈনিক সংবাদ দিগন্ত প্রতিনিধি ইনতাজ হোসেন, সাংবাদিক আব্দুল ওহাব, টিআই মাহামুদ, এস এম আকাশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আরমানসহ অন্যান্যরা।

দৈনিক কালবেলার লামা প্রতিনিধি বিপ্লব দাশ বলেন, "কালবেলার নবযাত্রার চার বছরে পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে পাঠকের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতায় জনগণের পক্ষেই পত্রিকাটি সংবাদ পরিবেশন করে আসছে।"

সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচার করা অত্যন্ত জরুরি। কালবেলা তার প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও পাঠকদের দ্রুত সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতেও দৈনিক কালবেলা কোনো অন্যায়ের কাছে আপস না করে, গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তার এই সাহসী অভিযাত্রা অব্যাহত রাখবে।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ বলেন, "বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য কালবেলা ইতোমধ্যে পাঠকের মনে স্থান করে নিয়েছে। কালবেলা সেই নীতি অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করছে, যা প্রশংসনীয়।" তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।




শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সদা প্রস্তুত বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সদা প্রস্তুত বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বান্দরবানের থানচিতে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়কের সার্বিক নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে পূজাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী বান্দরবান সদর ও থানচি উপজেলার ৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ৩টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার, নিয়মিত টহল পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হবে।

১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় বান্দরবান সদর ও থানচি উপজেলায় ব্যাটালিয়নের মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন (বিপিএমএস, পদাতিক) বলেন, “ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ব্যাটালিয়ন পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিকটস্থ বিজিবি বেইজ ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”