উত্তর ফটিকছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে নারী-শিশুসহ চাকমা পরিবার
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

উত্তর ফটিকছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে নারী-শিশুসহ চাকমা পরিবার

উত্তর ফটিকছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে নারী-শিশুসহ চাকমা পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের লক্ষ্মীছড়ি জোনের বার্মাছড়ি এলাকার নারী ও শিশুসহ চার জন চাকমা ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুর জামিয়া আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আল ইসলামিয়ার জামে মসজিদে দাঈ ও সমাজসেবক আল্লামা শেখ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদীর হাতে কালেমা পাঠের মাধ্যমে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর তাঁদের নতুন নাম রাখা হয়—শিমুল কান্তি চাকমার নাম মোহাম্মদ ইউসুফ, জীবন চাকমার নাম মোহাম্মদ, মিনা চাকমার নাম আয়েশা এবং শিশু সুদত্ত চাকমার নাম আবদুল্লাহ।

ইসলাম গ্রহণকারী শিমুল কান্তি চাকমা ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফের পিতা ধনঞ্জয় চাকমা এবং মাতা ভানুপতি চাকমা। মিনা চাকমা ওরফে আয়েশা তাঁর স্ত্রী। তাঁর পিতার নাম রবি শান্তি এবং মাতার নাম গুরিমালা চাকমা। তাঁদের বাড়ি বার্মাছড়ি এলাকায়। শিশু সুদত্ত চাকমা ওরফে আবদুল্লাহর পিতা শিমুল কান্তি চাকমা ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফ।

অপর ইসলাম গ্রহণকারী জীবন চাকমা ওরফে মোহাম্মদের পিতা বরত চাকমা এবং মাতা ছকি চাকমা।

তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের লক্ষ্মীছড়ি জোনের বার্মাছড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আইয়ুব হাসান ও রিপনের উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় তাঁরা ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানার পর ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা জাহেদুল্লাহ বিন হাজি ইউনুস, মুফতি মিজানুর রহমান ইসলামাবাদী, মাওলানা এম. নিজাম উদ্দিন, মাওলানা আইয়ুব, মাওলানা হাবিবুল্লাহ দিদু, মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মাওলানা আজগর সালেহী, মাওলানা নুরুল আবছার ও কারি নাসির উদ্দীনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে ইসলাম গ্রহণকারীদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করা হয়।




ফটিকছড়িতে ছিঁচকে চুরির অভিযোগে চারজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ফটিকছড়িতে ছিঁচকে চুরির অভিযোগে চারজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিল জনতা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার পাইন্দং গ্রামের এমকে ইটভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন সুন্দরপুরের আহম্মদ রশিদের ছেলে আকবর আলী (৩৩), উত্তর পাইন্দংয়ের মো. আলমগীরের ছেলে মো. মোরশেদ (৩০), একই গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মো. সাইমন (২৪) এবং হাইদচকিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রায়হান (৩৩)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে ইটভাটা সংলগ্ন একটি বাড়ির আশপাশে ওই চারজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। একই সময়ে স্থানীয় একটি পরিবার থেকে কয়েকটি মুরগি চুরি হয়। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে চারজনকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে এবং রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

পুলিশ আহত অবস্থায় চারজনকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা নাসরিন বলেন, “চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, “চুরির ঘটনায় এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, “ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে চুরি, গরু, হাঁস-মুরগি, টিউবওয়েলের নল ও মোটর চুরির ঘটনা এলাকায় সম্প্রতি বেড়েছে।”

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, “ছিঁচকে চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতা চারজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে তাঁদের থানায় এনে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”




হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড

হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদের ছড়ারকূল এলাকায় হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি নির্গমন করে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। সোমবার(৫অক্টোবর) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুবিন।এসময় তার নেতৃত্বে আল রাজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আল আমিন হোসেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সুত্রে জানা যায়, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ পরিবেশের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কেমিক্যাল গুদামজাতকরণ এবং কেমিক্যালযুক্ত পানি সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে ছড়ারকূল খালে নির্গমণ করে হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানির কারনে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক লক্ষ জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের প্রসিকিউশন টিম এবং হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।

হালদা নদীর পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর সংযুক্ত খাল-ছড়ায় কেমিক্যাল, অপরিশোধিত বর্জ্য কিংবা যেকোনো দূষণকারী পদার্থ নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনও আবদুল্লাহ আল মুবিন জানান।




হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার

হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং বাইতুছ ছালাম জামে মসজিদ ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) নূরানী মাদ্রাসা ও হিফজখানার সুপার ও পরিচালক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মফিজুল আলম। তিনি বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, ব্যাংক হিসাব না খোলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত না মানাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সভাপতি মফিজুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে মাসুম বিল্লাহকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত করার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে মোতোয়াল্লি ও পরিচালনা কমিটি অনুমোদন পেয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের রেজুলেশন করা হয়। কিন্তু এরপরও মাসুম বিল্লাহ প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও ব্যাংকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ভবন ও জায়গা ব্যবহারে অনিয়ম এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ঢাকা ওয়াকফ অফিস, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর মাসুম বিল্লাহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কারণে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রায় আড়াই মাসের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও মসজিদের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা না করার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন নানুপুরীকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা জুনায়েদকে নায়েবে মোহতামিম করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নুরুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম সওদাগর, আলহাজ শামসুল আলম, অর্থ সম্পাদক বদিউল আলম, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল হুদা কোম্পানি ও প্রবাসী তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।