ইরানের দুই ট্যাংকার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন

ইরানের দুই ট্যাংকার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দুই ট্যাংকার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবি সংগৃহীত।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের তেলবাহী দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এ সময় দুটি ট্যাংকারকে টার্গেট করা হয়।

সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এবারই প্রথমবারের মতো ইরানি জাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। এরআগে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র চলাচলে বাধা দেওয়া হতো।

মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার’ নীতির অনুমোদন দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই ইরানিদের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

অর্থাৎ ইরান যদি এখন কোনো ট্যাংকারে হামলা চালায় তাহলে পাল্টা হামলা হিসেবে তাদের ট্যাংকারকে টার্গেট করবে মার্কিনিরা।

যে দুটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো ইরানের উপকূলে মার্কিন বাহিনীর নৌ-অবরোধের উত্তর দিকে অবস্থান করছিল। এ সময় এগুলোর ওপর ড্রোন ও মিসাইল ছোড়া হয়। যা ট্যাংকারগুলোর ইঞ্জিন রুমে আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য ইউনিট সেন্টকম জানিয়েছে, ইরান গত কয়েকদিনে যেসব ট্যাংকার ও তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে সেটির প্রতিশোধ হিসেবেই গতকাল রাতে তাদের ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তাদের রাডার ও মিসাইল সক্ষমতা পুনর্গঠন না করতে পারে সেজন্য বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্যাংকারে হামলা এই পরিকল্পনারই অংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল রাতে ইরানের প্রায় ১০০ হামলা চালানো হয়েচে।

সূত্র: এক্সিওস




অগ্ন্যুৎপাত : ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা

অগ্ন্যুৎপাত : ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা
ছবি সংগৃহীত।

ইন্দোনেশিয়ার দুই প্রধান দ্বীপ জাভা ও সুমাত্রাকে পৃথক করা সুন্দা প্রণালির একটি দ্বীপে অবস্থিত আগ্নেয় পর্বত আনাক ক্রাকাতাউয়ের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং বিপুর পরিমাণে লাভা, গ্যাস এবং ছাইয়ের উদ্গীরণের জেরে রাজধানী জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাট্টাসহ ৮টি বিমানবন্দরে উড্ডয়ন-অবতরণসহ যাবতীয় অপারেশন স্থগিত রেখেছে ইন্দোনেশিয়া।

এতে দেশটির আটটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী। আজ সোমবারও বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিপর্যয়কর পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার ৫৫৮ টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন-অবতরণের শিডিউল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে আনাক ক্রাকাতাউ পর্বত। এর জেরে ইন্দোনেশিয়ার বিশাল অংশজুড়ে শুরু হয় ‍নিম্নমত্রার ভূকম্পন এবং পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে শুরু হয় অগ্ন্যুৎপাত, গ্যাস ও লাভার উদ্গীরণ। গতকাল রোববার দু’দফা উদ্গীরণ হয়েছে আনাক ক্রাকাতাউ পর্বতে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়া যাত্রীদের অধিকাংশই সিঙ্গাপুর, দোহা, সিডনি এবং কুয়ালালামপুর রুটের যাত্রী।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগনাদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিম জাভা দ্বীপেও অগ্নুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ছে— এই তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট অপারেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যেসব যাত্রী আটকা পড়েছেন, তারা চাইলে টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। সেই সঙ্গে, ফ্লাইট অপারেশন ফের চালু হওয়ার পর যেন সঙ্গে সঙ্গে তা যাত্রীদের জানানো হয়— সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোকে।

সূত্র : বিবিসি




যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলার সক্ষমতা নিয়ে ইরান এখন আরও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দেশটি এখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ব্যাপারে আগ্রহী। যেন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ানোর কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা সীমিত অবস্থায় আছে। কিন্তু ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসকে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে আরও বেশি বুঝতে পেরেছে এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে এ বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এ মুহূর্তে তাদের চুক্তিতে পৌঁছানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এরসঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান খারাপ করে দিতেও চায়।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যেতে পারে। এরমধ্যে গত জুলাইয়ের মতো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামোকে টার্গেট করতে পারে তারা।

এরসঙ্গে ইরানি হ্যাকাররা আবারও পুনর্গঠিত হয়ে তারা সাইবার হামলার চেষ্টা করতে পারে। যার লক্ষ্য থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস




নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই : কাদায় চাপা পড়েছে সব

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই : কাদায় চাপা পড়েছে সব
ছবি সংগৃহীত।

নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউই বেঁচে নেই। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসে তা নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। আর কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করার সম্ভাবনাও সেখানে নেই। ফলে ওই সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজ শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করেছিল। নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। নেপালি সেনার একটি দলও সেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছিল।

এপিএফ-এর সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘গোটা প্রকল্পটির প্রত্যেক অংশ কাদা আর মাটিতে চাপা পড়ে গিয়েছে। কোনও কোনও অংশ পাথরে ভরে রয়েছে। আমরা সুড়ঙ্গের ভিতর হামাগুড়ি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়েছি। যেখানেই খুঁজেছি, শুধু কাদা আর মাটি পেয়েছি।’’ বানের পানির চাপে ওই সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ধসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
গত ২৬ অগস্ট বুধবার সকালে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে যখন আকস্মিক বন্যা আসে, সে সময় নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রতি ক্ষেত্রেই সুড়ঙ্গ কেটে মাটির নীচে বানানো হয়েছিল পাওয়ারহাউস। প্রত্যেকটি প্রকল্প বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু সুড়ঙ্গেই ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যম।

এই পরিস্থিতিতে সর্বত্র জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছিল। কাদা এবং মাটির স্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের খোঁজ করছেন নেপালি সেনা ও পুলিশের আধিকারিকেরা। ন’দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে দু’জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে। একই সুড়ঙ্গ থেকে পাওয়া গিয়েছে এক শ্রমিকের দেহও।

উদ্ধার দুই শ্রমিকদের নাম সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। তাদের যখন উদ্ধার করা হচ্ছিল, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

কিন্তু উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে দেখে এসেছেন, আর কেউ সেখানে নেই। সঞ্জয় এবং কবীরকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় জানিয়েছেন, বান আসছে শুনে সুড়ঙ্গ থেকে অন্যদের বার করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তাতেই দেরি হয়ে যায় এবং তিনি নিজে আর বেরোতে পারেননি। ন’দিন টানা সুড়ঙ্গের ভিতরে মন্ত্র জপ করেছেন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। বেঁচে যে বেরোতে পারবেন, ভাবেননি।

শুক্রবার পর্যন্ত হড়পা বানে নেপালে ১২৮৭টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৫৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ।