ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের আলামত পাওয়া গেছে: জাতিসংঘ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের আলামত পাওয়া গেছে: জাতিসংঘ

ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের আলামত পাওয়া গেছে: জাতিসংঘ
ছবি সংগৃহীত।

ইরানে একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালানো ওই দুই হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ছিল।

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২০ জন শিশু ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একই দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। সেখানে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন।


তদন্ত মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনাবের স্কুলটি একটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কোনও প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি। কিন্তু হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল, যাতে ওই স্থানে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ওই তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলটির লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্য কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করার বিষয়টি শুধু অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত মিশনের মতে, হামলার সময় বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার যথেষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত ছিল।

মিনাবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, হামলার ফলে স্কুল ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর ভিত্তিতে তারা মনে করছেন, হামলাটি ছিল নির্বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।


অন্যদিকে, লামের্দে চালানো হামলায় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্ত মিশন জানিয়েছে, ওই হামলাতেও বেসামরিক হতাহত হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার ছিল বলে তাদের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই তদন্তের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পেন্টাগনও প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে বলে আসছেন, দেশটির সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই পরিচালিত হয়।

জাতিসংঘের একই তদন্তে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে আইনি জবাবদিহির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি




ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ছবি সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

আলোচনায় থাকা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পাবেন। তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না।

বরং স্বর্ণের মজুত জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। এই অর্থ সরকারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি গত জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রথম বাস্তব ফলগুলোর একটি হতে পারে এই সমঝোতা। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে স্বর্ণ নিয়ে সাত বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন জাতীয় পরিষদের প্রধান ও বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিরোধ শুরু হয়। এরপর বিরোধী পক্ষ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এ নিয়ে আইনি বিরোধ একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

আলোচনায় যুক্ত বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, ‘স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, কিন্তু দেলসি সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।’

ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে জানিয়েছিল, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ খুলতে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। তবে সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা বিরোধী পক্ষ স্বর্ণের মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করবে। দেশটির সরকার ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের বর্তমান প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ আসছে বলে মন্তব্য করেন।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নের অবস্থানে নেই। কার স্বর্ণের হিসাবের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

ভেনেজুয়েলায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার লক্ষ্য নতুন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। তবে বিরোধী পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পুনঃসম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এরপর দেশটির অর্থনীতির ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এপ্রিলে সাত বছর পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এর ফলে কারাকাসের সরকার আইএমএফে থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পায়।

জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পথ খুঁজছেন। ভূমিকম্পের আগেই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির ছিল।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্বর্ণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং ব্যবহারের ওপর তদারকি থাকবে বলে আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস




সৌদি আরবের অনুরোধে ইরানকে চাপ চীনের

সৌদি আরবের অনুরোধে ইরানকে চাপ চীনের
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের অনুরোধের পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান জানিয়েছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, গত এক সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর রিয়াদ চীনের সহায়তা চায়। হুথিদের এই তৎপরতায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।


প্রকাশ্যে চীন সংঘাতের বিষয়ে সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেওয়া বার্তায় চীন আরও সরাসরি অবস্থান নিয়েছে বলে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীন চায়, হুথিদের ওপর ইরানের যে প্রভাব রয়েছে, তা ব্যবহার করে সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয়। বিশেষ করে চীনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক নৌপথে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বেইজিং এ উদ্যোগ নিয়েছে।


সূত্রগুলো জানায়, চীনের এই বার্তা কীভাবে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে চীনকে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, হুথিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কোনো হুমকি চীন দেয়নি।


রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এটি তারা চায় না। তাদের মতে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানো কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।

চীন আরও বলেছে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।


এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।

আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

চীন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতাও চীন। পণ্যবাজারবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। এর পরিমাণ ছিল গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।


অঞ্চলটির এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করার মতো সক্ষমতা এখনো যেসব দেশের রয়েছে, চীন তাদের অন্যতম।

১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সুন্নি ধর্মীয় প্রভাবের বিরোধিতা করে হুথি আন্দোলনের উত্থান ঘটে। ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, গোষ্ঠীটি ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থসহায়তা পেয়ে থাকে। হুথিরা ইরানের পশ্চিমবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এরও অংশ।

সূত্র: রয়টার্স




মক্কায় ড্রোন ছুড়ল হুথিরা, আটকে দিয়ে ধ্বংস করল সৌদি

মক্কায় ড্রোন ছুড়ল হুথিরা, আটকে দিয়ে ধ্বংস করল সৌদি
ছবি সংগৃহীত।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি, তবে সেই ড্রোন মক্কার কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মাধ্যমে সেই ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সৌদি-ইয়েমেন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল মালকি এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত কাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে) মক্কার আকাশসীমায় একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন শনাক্ত করে সেটি সেটি ধ্বংস করেছে।

“কাবা, মসজিদে নববি এবং দুই পবিত্র মসজিদে আগত মুসল্লিরা সৌদি আরবের রেড লাইন। যে কোনো মূল্যে আমরা তাদের রক্ষা করব”, বিবৃতিতে বলেছেন তুরকি আল মালকি।

সৌদি জোটের মুখপাত্র আরও বলেন, এবারই প্রথম নয়; এর আগেও মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছে হুথিরা। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কা লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল হুথি বাহিনী এবং সেই ক্ষেপণাস্ত্রটিকেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আটকে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।

এদিকে মক্কায় ড্রোন হামলা সংক্রান্ত অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি বাহিনী। তুরকি আল মালকি এ বিবৃতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই হুথি গোষ্ঠীর একটি বিবৃতি প্রচার করে ইয়েমেনি বার্তাসংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সি। বিবৃতিতে হুথি বাহিনীর হাইকমান্ড বলেছে, “মক্কায় হুথি বাহিনীর হামলার যে তথ্য প্রচার হয়েছে— তা পুরোপুরি ভুয়া এবং অসত্য। ইয়েমেনের তরফ থেকে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি রয়েছে— এমন অভিযোগ আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি।”

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সৌদি আরবের তিন শহর খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছিল হুথিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে।

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি