আনোয়ারায় ছেলের হাতে বাবা-মা খুন

মাদকাসক্ত ছেলেকে দুই দফা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেও শেষ রক্ষা হলো না বাবা-মার। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বসতঘরে ছুরিকাঘাতে প্রথমে মাকে ও পরে বাবাকে খুন করে ছেলে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের কুনিরবিল এলাকার মহাজন বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন স্থানীয় মৃত রেবতি দাশ গুপ্তের ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৭০) এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)। ঘাতক হলেন তাঁদের একমাত্র ছেলে রুমি রাজ দাশ গুপ্ত (৩০)। পুলিশ ঘাতক রুমি রাজকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত স্বপন দাশের ভাইয়ের স্ত্রী মেরি বিশ্বাস বলেন, “দুপুরে তাঁদের ঘরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমি ঘর থেকে দৌড়ে বের হই। এ সময় দেখি রুমি রাজ দাশ তার মায়ের গলা কাঁচি দিয়ে কেটে দিচ্ছে। আমার চিৎকারে রুমি রাজের বাবা স্বপন দাশ দৌড়ে এসে তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশকে বাঁচাতে গেলে ছেলে রুমি রাজ তাঁর বাবা স্বপন দাশকেও কাঁচি দিয়ে আঘাত করে। কল্পনা দাশ গুপ্ত ঘটনাস্থলেই মারা যান আর স্বপন দাশ গুপ্তকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।”
তিনি আরও বলেন, “ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল, দুই বার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও ভর্তি করানো হয়েছিল। মাদকের নেশা হলে সে কখন কী করবে বুঝে উঠতে পারত না। আগেও একাধিকবার ওই ছেলে তার বাবা-মাকে মারধর করেছিল।”
আনোয়ারার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেকে (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) প্রেরণের সময় তাঁর মৃত্যু হয়।”
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলেটিকে আটক করেছি। ঘটনাস্থল থেকে নিহত কল্পনা দাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং স্বপন দাশের মরদেহ রয়েছে হাসপাতালে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”












