আনোয়ারায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম—“ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে”
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

আনোয়ারায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম—“ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে”

আনোয়ারায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম—“ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে”
আনোয়ারায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে, কমছে প্রাণহানিও।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না আমাদের কোনো একটা প্রাণও এভাবে হারিয়ে যাক। রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সহযোগিতায় চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার কিট সরবরাহ করছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক র‌্যালি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাধব চন্দ্র বসু। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসক নিজে মশকনিধনের ওষুধ ছিটান। এ সময় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়।




বাঁশখালীতে সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম

বাঁশখালীতে সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম
সরলের মিনজিরিতলায় দেখানো ধারণক্ষমতাহীন গোডাউন।

 

  • রিকশা গ্যারেজ ও সেলুনকেও দেখানো হয়েছে গোডাউন

  • টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ভূঁইফোঁড় ও অনভিজ্ঞদের তালিকা

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ভূঁইফোঁড় ও অনভিজ্ঞদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব গোডাউন ও ধারণক্ষমতাহীন দোকান, রিকশা গ্যারেজ এবং সেলুনকেও দেখানো হয়েছে গোডাউন হিসেবে। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকেও এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরাই। সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র খোদ সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নেতাদের কেউ কেউ উপজেলা কৃষি অফিস ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও কতিপয় বিএনপি নেতা ভাগাভাগি করে সার ডিলার নিয়োগে বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় বাঁশখালীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগেও উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

বাঁশখালীতে সারের এই ডিলার নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে এখন খোদ বিএনপি নেতাদের মাঝেই দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। অপরদিকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, সারা দেশের মতো বাঁশখালীতেও সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বাঁশখালীর একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের জন্য ১৫টি পদের বিপরীতে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তাবের আলোকে জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে এসব নিয়োগ দেওয়া হলেও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগের তীর উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাছাড়া দলের কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধেও নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হচ্ছে।

উপজেলার সবচেয়ে বেশি আলোচিত স্থানগুলো হচ্ছে গণ্ডামারা, চাম্বল, সরল, কাথারিয়া ও পৌরসভা। রীতিমতো নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা গ্রামে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সমর্থক। তাছাড়া গোডাউনের অবস্থাও খুবই খারাপ। রড-সিমেন্টের গোডাউনকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। ধারণক্ষমতা যা লেখা হয়েছে তা-ও মিথ্যা। বিধি লঙ্ঘন করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া নুরুল ইসলামের সার বিক্রির কোনো অভিজ্ঞতা নেই। টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে অন্য যারা আবেদন করেছিলেন, তাঁরা সকলেই ২০-২২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

গণ্ডামারা ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া হোসাইন ছিদ্দিকীর নিজস্ব কোনো গোডাউন নেই। তদন্তে তাঁর পরিচয় লেখা হয়েছিল লবণের কামলা। সেলুন, অটোরিকশা গ্যারেজ এমনকি মুরগির দোকানকে গোডাউন দেখিয়ে অবৈধ অর্থের মাধ্যমে নিয়োগ ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সার পরিবহনের জন্য যে রাস্তা, তার অবস্থাও খুব খারাপ। হোসাইন ছিদ্দিকীর রয়েছে ট্রেড লাইসেন্সগত সমস্যা। মালিকের সঙ্গে চুক্তিতে যে দোকান দেখানো হয়েছিল, সার ডিলারের আবেদনে সে দোকান দেখানো হয়নি। তাছাড়া তাঁর নামে মালিকের সরাসরি কোনো চুক্তিপত্র নেই।

তাছাড়া চাম্বল ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া সোহাইল এন্টারপ্রাইজের সোহাইল আনোয়ার, কাথারিয়া ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া নজরুল ইসলাম ও পৌরসভার আবু তাহেরের বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া হয়েছে একাধিক অভিযোগ।

অভিযোগকারীরা জানান, কৃষিপ্রধান বাঁশখালীতে সারের ডিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সরবরাহ চ্যানেল। এই নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর এই জনপদের কৃষিনির্ভর জনজীবনের অনেক কিছুই নির্ভর করে। এই কারণে দলীয় ত্যাগীদের মূল্যায়ন বাদ দিয়ে কিংবা টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ কোনোটাই কাম্য নয়। এইভাবে নিয়োগ হলে যে ব্যক্তি মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে ডিলারশিপ নিয়েছেন, তিনি চেষ্টা করবেন সারের কালোবাজারি করে তাঁর এই পুঁজি তুলতে। ফলে সার চলে যেতে পারে মিয়ানমারে কিংবা অবৈধ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে এতে সন্দেহ নেই।

এই বিষয়ে কাথারিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি না, বিএনপি সমর্থক।” তাছাড়া কাউকে টাকা-পয়সা দেওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “দরখাস্ত করেছি, আল্লাহর পক্ষ থেকে কাজ হয়ে গেছে।”

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবদুস সবুর জানান, সার ডিলার নিয়োগে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অর্থ লেনদেন প্রাধান্য পেয়েছে। দলের ত্যাগী নেতাদের বদলে আওয়ামী লীগের লোকজনও তালিকায় স্থান পেয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রাসেল চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “কত টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এই ডিলারশিপ বিক্রি হয়েছে তার জবাব দিতে হবে। অন্যথায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কৃষি অফিস ঘেরাও করা হবে।”

বাঁশখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রাসেল ইকবাল মিয়া বলেন, “নেতারা এখন টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। আগামীতে নেতাকর্মীদের নিয়ে এই অনিয়মের জবাব দেওয়া হবে।”

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, “সার ডিলার নিয়োগে কৃষি অফিসের কোনো কর্তৃত্ব নেই। কৃষি অফিস ঘেরাওয়ের আগে কারা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন, কারা অর্থ লেনদেন করেছেন সেটি বের করুন।”

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এই নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। তবুও ভুলক্রমে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর ডিলার নিয়োগ পেয়ে থাকলে তা তদন্ত করে বাতিল করা হবে।”




সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আহত একই পরিবারের ৪: বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা

সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আহত একই পরিবারের ৪: বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে উপজেলার নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা বাসটিতে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—সাতকানিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও তাঁর মেয়ে ওয়াসিফ (৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাতটার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ওয়াসিফের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে।

রাত আটটার দিকে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও বাঁধার মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রী যানবাহন থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও ধাওয়া করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় প্রথম স্ত্রীর করা মামলায় স্বামী মো. সাইদুল হককে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলার আমজুরহাট এলাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির অফিস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইদুল হক কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে। স্ত্রীর করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পটিয়ায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গাবতলী ফাসিয়াখালী এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে উম্মে কুলছুমের সঙ্গে একই উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে সাইদুল হকের ২০০৮ সালে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।

প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় সাইদুল হক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন পটিয়ায় অবস্থান করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্ত্রী উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে ২০২৪ সালে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৫/২০২৪। এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন সাইদুল হক। বৃহস্পতিবার সকালে ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উম্মে কুলছুম অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে তাঁর স্বামী সাইদুল হক কোনো খোঁজখবর রাখেন না এবং ভরণপোষণও দেন না। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে সাইদুল হক দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পটিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শামীম ভূঁইয়া জানান, সাইদুল হক পটিয়ার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পারিবারিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আমজুরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে চকরিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।