‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’— নাগরিক ঢেমশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’— নাগরিক ঢেমশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের

‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’— নাগরিক ঢেমশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। গতকাল ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত ৮টায় ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের পূজা মণ্ডপগুলোতে সফর করে তিনি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের সাথে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শেনেন। তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাদের উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান।

পূজা মণ্ডপগুলোতে উপস্থিত ভক্ত ও সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবু তাহের বলেন, “সনাতনীরা আমাদের প্রতিবেশী। অতীতে যেমন তাঁদের প্রতিটি সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, ঠিক তেমনই আগামীতেও তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করে যাব।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা কোনো সংখ্যালঘু নয়; আমরা সবাই এই দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং অভিন্ন বাংলাদেশি। তাঁদের সার্বিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে ধর্ম পালনের ব্যবস্থা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

সফরকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের ইউনিয়নের একাধিক ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির

  • পূর্ব শিলপাড়া দুর্গা মন্দির

  • মিলন চৌধুরীর দুর্গা মন্দির

  • মজুশ্রী চৌধুরী দুর্গা মন্দির

  • ডিকে চৌধুরী দুর্গা মন্দির

  • উত্তরপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পৌঁছালে তাঁকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফর শেষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের ঢেমশা ইউনিয়নের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।




বাঁশখালী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে উদ্ধার, আটক ৬

বাঁশখালী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে উদ্ধার, আটক ৬
বাঁশখালীতে উদ্ধার হওয়া অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসান।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি প্রেমবাজার থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসানকে (৩৬) ৩ দিন পর কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার আলীখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প (লেদা ক্যাম্প-২৫) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশ ও বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা সাবেক সেনা ও র‌্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সিসহ (৩২) ৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। আটককৃত অন্যরা হলো—মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রেমবাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এসআরবি পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাবেক সেনা ও র‌্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ভিকটিমের স্ত্রী এবং দোকানের ম্যানেজার মোজাফফর উদ্দিনকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিকটিমকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিল।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা নম্বর ২৭, তারিখ ১৯.১০.২০২৬ রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার তাদের গণমাধ্যমের মুখোমুখি করা হবে।




আনোয়ারায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ

আনোয়ারায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, বেসরকারী কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যারপর থেকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর অর্ধশতাধিক পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও আয়োজনের খোঁজখবর নেন তারা।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব রিদুওয়ানুল করিম হৃদয়, চট্টগ্রাম জেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল আলম শাহেদ, সহ দপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল, নারী বিষয়ক সম্পাদক ডালিয়া বড়ুয়া, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. নাঈম উদ্দীন, আনোয়ারা ছাত্রশক্তির আহবায়ক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার বিন হোসেন, মুখ্য সংগঠক আরমান মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফাত উদ্দীন আনিস, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) শাহাদাত হোসাইন আরমান, যুগ্ম সদস্য সচিব জুনায়েদ খান আলভী, মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিন, আশিকুর রহমান নয়ন, বোরহান উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, স্বপ্নীল বড়ুয়া মোহাম্মদ ছত্তারসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পরিদর্শনকালে দুই উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক পূজামন্ডপে পূজা উদযাপন কমিটির হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম মানিক।

এসময় তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়। শারদীয় দুর্গোৎসব যেন নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় সে জন্য সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আছি।




বৈরাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন কারানির্যাতিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. লোকমান শাহ্

বৈরাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন কারানির্যাতিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. লোকমান শাহ্
অ্যাডভোকেট লোকমান শাহ

ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং বিগত ১৭ বছর দলের নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম আদালতে আইনি সেবা দিয়ে কারামুক্ত করা প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. লোকমান শাহ্ এবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আনোয়ারা উপজেলার ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মনোনয়নপ্রত্যাশী। এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও জনসেবায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনে তিনি আনোয়ারা কলেজ থেকে এইচএসসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম (পাশ) এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম থেকে এলএল.বি ও এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (ঢাকা) ও জজ কোর্ট (চট্টগ্রাম)-এর আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিবিউটর হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মো. লোকমান শাহ্ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি মঞ্চ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক থাকাকালে শেখ হাসিনা পতন আন্দোলনের কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে কোতোয়ালী থানার একটি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর এক দফা আন্দোলনে ঢাকার মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হন।

পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। গত ১২ বছর ধরে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে সফলভাবে আইনি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির সময়কাল থেকেই তিনি বৈরাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিপদে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস না করার নীতিই তাঁর মূল শক্তি বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

মনোনয়নের ব্যাপারে মো. লোকমান শাহ্ বলেন, “বিগত দিনে দলে আমার ভূমিকা ও মানবসেবায় কাজের মূল্যায়ন করবে দল। আমি অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছি। আশা রাখছি দল এবার আমাকে মূল্যায়ন করবে। তবে দলের হাইকমান্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।”