স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, ফটিকছড়িতে শ্রেষ্ঠ আবদুল্লাহপুর
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, ফটিকছড়িতে শ্রেষ্ঠ আবদুল্লাহপুর

স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, ফটিকছড়িতে শ্রেষ্ঠ আবদুল্লাহপুর
ছবি সংগৃহীত।

পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদের ক্রেস্ট ও স্বীকৃতি সনদ তুলে দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমএএইচ মঈনুল। এ সময় আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদটিকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোতে ধারাবাহিক কার্যক্রম ও অবদানের ভিত্তিতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

এ অর্জনে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অহিদুল আলম জুয়েল। তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই এ স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।




নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসক হলেন সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসক হলেন সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ছবি সংগৃহীত।

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ১৩৬-এর উপধারা (১) প্রয়োগ করে বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওদের স্ব স্ব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নাম রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। এ দায়িত্ব পালনের জন্য বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন তাঁরা। তবে এ ভাতার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ভাতা বা সুবিধা পাওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নবগঠিত হওয়ায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসক হিসেবে ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার ফলে নতুন উপজেলা পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ তৈরি হলো।

এর মাধ্যমে নতুন উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের আওতাধীন বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও প্রশাসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পর্যালোচনার ব্যবস্থাও নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে আরও সুসংগঠিতভাবে করা সম্ভব হবে।

নতুন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের ফলে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার জনগণের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পৃথক উপজেলা কাঠামোর আওতায় আসবে।

প্রশাসক নিয়োগের ফলে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকলেন। পরবর্তী ধাপে নতুন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর, অবকাঠামো ও সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম কাজ।




ফটিকছড়িতে ধুরুং খালে অবৈধ বালু উত্তোলন, ১৩ হাজার ঘনফুট জব্দ

ফটিকছড়িতে ধুরুং খালে অবৈধ বালু উত্তোলন, ১৩ হাজার ঘনফুট জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধুরুং খাল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে মজুত রাখা ১৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চুরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বালু জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধুরুং খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কাঞ্চুরহাট এলাকায় মজুত করে রাখার খবর পায় প্রশাসন। পরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মজুত করে রাখা ১৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। জব্দ করা বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে  বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।




ফটিকছড়িতে বাড়িতে হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় চারজন কারাগারে

ফটিকছড়িতে বাড়িতে হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় চারজন কারাগারে
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে হত্যা, লাশ গুম ও বাড়ি দখলের হুমকির অভিযোগে করা মামলায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে চার আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার আবু ছালেক (৪৫), দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. হোসাইন (৪২), দক্ষিণ পাইন্দং এলাকার মো. সানাউল করিম (৪০) ও লেলাং এলাকার আবু তাহের মুহুরী (৪৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ অর রশিদ চৌধুরীর বাড়িতে চার আসামিসহ ২০ থেকে ৩০ জন প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে দা, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে ঢুকে তাঁরা মাসুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে মাসুদকে মারধর করে জখম করা হয়। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাঁর বোন সায়রা আক্তারকেও টানাহেঁচড়া করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের ঘরে আটকে রেখে বাড়ির গেটের দেয়াল, তালা ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মাসুদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা, লাশ গুম এবং বসতবাড়ি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পরও বাড়ির সামনে মহড়া দিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন মাসুদ অর রশীদ চৌধুরী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। বাদীপক্ষ প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখলে রয়েছে বলে এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। একই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।