সৌদি, তুরস্কের পর কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর পাকিস্তানের
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

সৌদি, তুরস্কের পর কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর পাকিস্তানের

সৌদি, তুরস্কের পর কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর পাকিস্তানের
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি ও কুয়েতের সঙ্গে ‘মক্কা জোট’ এবার মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক দেশ কুয়েতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার হয়েছে এ চুক্তি স্বাক্ষর।

প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য গতকাল কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল সাবাহ ইসলামাবাদ এসেছিলেন। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে দু’দেশের সহযোগিতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা।”

পাকিস্তান এবং কুয়েত— উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালিত করেছে ইরান। ইরানের এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েত।

অন্যদিকে এ যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যেস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য হয়েছে পাকিস্তান। সৌদির মক্কায় এ জোটের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে এটি পরিচিতি পায় ‘মক্কা জোট’ নামে। সৌদি আরবের অর্থায়ন, তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন এবং পাকিস্তানের সামরিক জনবল ও পরমাণু অস্ত্র মক্কা জোটের প্রধান শক্তি।

মক্কা জোটের সদস্য হওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যেই কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান।

সূত্র : দ্য ন্যাশনাল




নেপালে আকস্মিক বন্যা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২

নেপালে আকস্মিক বন্যা : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২
ছবি সংগৃহীত।

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ২ দিন আগে ঘটা আকস্মিক বন্যার পর এ পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ অবস্থা আছে এক হাজারের বেশি মানুষ।

আজ শুক্রবার ভোরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তরা আরও বলেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা।

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে গত ২৬ আগস্ট বুধবার সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় আঘাত হানে এ বন্যা। লাখ লাখ টন কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা, নিখোঁজ হন বহুসংখ্যক মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নেপাল ও চীনের সরকারি মুখপাত্রদের বরাতে জানা গিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং জেলায় নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৩৮৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮২৬ জন নেপালের এবং ৫৫৮ জন তিব্বতের।

এই নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ৫০০ জন এবং তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ২৬০ জন বিদেশি।

বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা- পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছেন নিখোঁজরা। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিতদের সন্ধান করেছে এবং শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে।

আর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান করছে, উদ্ধার মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছে।

বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে দিবগা তামাং ছিলেন অন্যতম। তাকে আরও তিনজনের সাথে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

তামাং বলেন, “আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।”




নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার আশঙ্কা : উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার আশঙ্কা : উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন
ছবি সংগৃহীত।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপাল-তিব্বত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ না কাটতেই সেই একই এলাকায় শিগগিরই আরও একটি বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন।

আজ শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছের নতুন একটি ‘বেরিয়ার হ্রদের’ সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামনের আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কাজ স্থগিত থাকবে।

‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ হলো এমন এক ধরনের হ্রদ, যা সাধারণত কোনও নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে তৈরি হয়। বুধবার নেপাল-তিব্বতে যে ভয়াবহ আকস্মিক বান দেখা দিলো, সেটির কারণও একটি ব্যারিয়ার হ্রদ। তুষার ধসের জেরে নেপাল চীন সীমন্তবর্তী ভোতি কোশি নদীর শাখানদী লেহেন্দে নদী একাংশ একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছিল। নদীর পানিপ্রবাহের প্রবল চাপে একসময় সেই হ্রদ ভেঙে পড়ে এবং আটকে থাকা লাখ লাখ ঘনমিটার মিটার পানি লেহেন্দ নদী থেকে প্রবেশ করে ভোতিকোশিতে। তার জেরেই বুধবার বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী জেলা গিরংয়ে।

ভয়াবহ সেই বন্যায় রাসুয়া ও গিরং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ এবং এখনও নিখোঁজ আছেন প্রায় ১ হাজর ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক। হড়পা বানের জেরে লাখ লাখ টন কাদা-পাথর-জঞ্জারের স্তূপের নীচে চাপা পড়েছে রাসুয়া, গিরং এবং এ দুই জেলার সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং নেপালে এখনও উদ্ধার কাজ চলছে।

নতুন যে ব্যারিয়ার লেকটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটির অবস্থান ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদটি থেকে আরও খানিকটা উজানে, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে।

বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হ্রদ থেকে জল উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে ঢুকতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে চিন।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হ্রদটির জলস্তর ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের উপরে নজরদারি বাড়িয়েছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিপজ্জনক এলাকায় থাকা গ্রামগুলোও খালি করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে বে্ইজিং এবং চেংদু থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান




আকস্মিক বন্যা : নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৪

আকস্মিক বন্যা : নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৪
ছবি সংগৃহীত।

ভোতি কোশি নদীর পানি বৃদ্ধির জেরে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপরপাশে চীনের তিব্বত প্রদেশে নিখোঁজদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে পৌঁছেছে। এই নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনই বিদেশি নাগরিক।

আজ বৃহস্পতিবার নেপাল এবং তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। নেপালের কর্মকর্তারা নিখোঁজদের মধ্যে ৮২৬ জন নেপালের। এই নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনই বিদেশি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পর্যটন বিভাগ।

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়া, ৩৩ জন ব্রিটেন, ২৫ জন কানাডীয়সহ দুই ডজন দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বন্যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমা কাদা ও পাথরের স্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, সামনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

“এই সংখ্যা বাড়বে, কারণ আমরা তল্লাশি পুনরায় শুরু করেছি এবং আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে,” রয়টার্সকে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে।

আর চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক আছেন ২৬০ জন। এছাড়া বন্যার ফলে সৃষ্ট কাদা-পাথর-আবর্জনারর ধ্বংস্তূপ থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সিসিটি টিভির প্রতিবেদনে।

নিখোঁজদের সবাই তিব্বতের গিরং জেলার। ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানের আঘাত এই জেলার ওপর দিয়েই গিয়েছে।

যাচাইকৃত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ কয়েক ডজন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ভাটির দিকে বয়ে যাওয়া স্রোতে নেপালে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে।

নেপালের আকস্মিক বন্যা আঘাত থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন কেশব প্রসাদ বরাল। তবে নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়স্ক কেশব রয়টার্সকে তিনি বলেন, “হঠাৎ দেখলাম, বিশাল এক কাদার স্রোত সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। যত এগিয়ে আসছিল, ততই উঁচু হচ্ছিল স্রোত। যখন দেখলাম এটি আমার বাড়িতে প্রায় ঢুকে পড়েছে, তখন আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু সে কাদার স্রোতে ভেসে যায়।”

চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে কেশবকে তার বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে।

“আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি”, রয়টার্সকে বলেন কেশব।

সূত্র : রয়টার্স