সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
ছবি সংগৃহীত।


সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)


রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।




৮০ লাখ টাকার কাপড় নিয়ে উধাও, চারদিন পর খালি ট্রাক উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২

৮০ লাখ টাকার কাপড় নিয়ে উধাও, চারদিন পর খালি ট্রাক উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে নেওয়ার পথে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ১৯৭ রোল আমদানি করা কাপড় উধাও হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার বড়পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির দাবি, তারা গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানায় করা মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোহাম্মদ গোলাম রহমান মুন্না (৪৬) ও মোহাম্মদ আমানুল্লাহ (৬৩)। এসআরবি-৭, চট্টগ্রামের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের হালিশহর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘মাইশা এন্টারপ্রাইজ, শাহরিয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের কাজ করে। গত ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিষ্ঠানটির বেতনভুক্ত চালক মো. ইয়াসিন একটি মালবাহী গাড়িতে ১৯৭ রোল আমদানি করা কাপড় নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের উদ্দেশে রওনা হন। কাপড়গুলো ইপিক গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেডের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। এসব কাপড়ের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

পণ্যবাহী গাড়িটির অবস্থান জিপিআরএসের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছিল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানটি। ওই দিন রাত ১১টার দিকে গাড়িটির অবস্থান যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ। পরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে গাড়িটি তেজগাঁও এলাকায় রয়েছে বলে জানা যায়। নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে গাড়িটি ঢাকার দিকে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।

এরপর চালক ইয়াসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়ির বৈদ্যুতিক তারের সমস্যার কথা জানান। একই সঙ্গে তার মুঠোফোন নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে গত ১২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার মাছিমপুর এলাকায় কামারপাড়া-স্টেশন রোডে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফটকের পাশে গাড়িটি খুঁজে পায়। তবে গাড়িতে কোনো মালামাল ছিল না।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, চালক ইয়াসিন অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার-পাঁচজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাপড়গুলো সরিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেন। এ ঘটনায় ‘মাইশা এন্টারপ্রাইজ, শাহরিয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ১৩ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি মুন্না ও আমানুল্লাহ চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের বড়পুল এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের হালিশহর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 




ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও পাটওয়ারী

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও পাটওয়ারী
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার বিকালে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় দলটি।

এনসিপি জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং আওয়ামী লীগের ‘নাশকতামূলক তৎপরতার’ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় ঘোষিত দুই মেয়র প্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। সংসদ নির্বাচনের পর গত মার্চে পাঁচ সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল দলটি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর এনসিপির মিডিয়া কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা দক্ষিণ থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণের ভোটার হয়েছেন।

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে ওই সময় তিনি ওই এলাকার ভোটার না হওয়ায় সেখানে ভোট দিতে পারেননি। অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি।

নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে যেকোনো আসনের ভোটার হলেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে গত ২ সেপ্টেম্বর ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য পাঁচ দিন সময় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করার সুযোগ ছিল। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করেন। এরপরই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির নতুন প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করা হলো।




বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ

বান্দরবানে নিজেদের অর্থায়নে মানুষের পাশে একদল তরুণ, ৯০টির বেশি পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবান। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন সংকটময় সময়ে যখন অনেকেই নীরব, তখন কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে নয়; বরং নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবানের একদল তরুণ।
মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ক্যাচিংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ৯০টিরও বেশি দুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারের হাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ দেখে কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা ত্রাণসামগ্রী কিনে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
তাদের ভাষ্য, “এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। আমরা জানি, এই সহায়তা সব মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবুও যারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন, তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, দুর্যোগের সময় মানবতার কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তাহলে বান্দরবানের এই সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।”
তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো সংগঠন নই এবং কারও সহযোগিতার অপেক্ষায়ও ছিলাম না। নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এটি আমাদের কার্যক্রমের শুরু মাত্র। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উদ্যোক্তারা বান্দরবানের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সামর্থ্যবান সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও সবাই এগিয়ে এলে আরও বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।