সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি
ছবি সংগৃহীত।

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন করলেও তা তুলতে আসছেন না অনেক গ্রাহক। আবেদনকারীদের তুলনায় প্রতিদিনই কম সংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলন করছেন। উল্টো ব্যাংকে নতুন করে অর্থের প্রবাহ এবং স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থা বাড়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা উত্তোলনের জন্য মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকার আবেদন করেছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহক ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

অর্থাৎ, টাকা উত্তোলনের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় অর্ধেকই এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ উত্তোলন করেননি। একইভাবে আবেদন করা অর্থেরও বড় একটি অংশ ব্যাংকেই রয়ে গেছে।

এদিকে, একই সময়ে (১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত এসেছে। এর বাইরে ব্যাংকটিতে নতুন হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটিতে নতুন করে ৩২ হাজার ৭৪টি হিসাব খোলা হয়েছে। এসব নতুন হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের একটি অংশ টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ তুলছেন। ফলে আবেদন করা অর্থের পুরোটা একসঙ্গে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। একই সময়ে নতুন আমানত আসা এবং নতুন হিসাব খোলার বিষয়টি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পূর্ণ সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে ব্যাংকটি এখন স্বাভাবিক কার্যক্রমের দিকে ফিরছে এবং গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে পুনর্বহাল হচ্ছে।




বৈশ্বিক বাজারে কমেছে তেলের দাম, ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন

বৈশ্বিক বাজারে কমেছে তেলের দাম, ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গত ১১ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআিই)— উভয়ের দাম কমেছে।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই প্রতি লিটারে ২ দশমিক ১৫ ডলার কমেছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে এবং প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বররের পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।  

জ্বালনি পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে এই সপ্তাহে হয়তো কোনো কূটনৈতিক পথ বেরিয়ে আসবে—এমন আশার কারণে তেলের দাম থেকে কিছুটা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।"

“সেই আশা কতখানি যৌক্তিক, তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।”

চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী; উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ানের এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে আসার কথা রয়েছে।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্তাবলী তুলে ধরেছে ইরান।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলন ও বিপনন কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। স্থাপনাটি লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত এবং তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে, যা তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় এতদিন ইয়ানাবু থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করত সৌদি; কিন্তু কয়েক দিন আগে আরামকোর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হুথিদের হামলার কারণে ইয়ানাবু থেকে তেলের চালান পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ এবং তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে।

সূত্র : রয়টার্স




বাড়ল সোনার দাম

বাড়ল সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা; যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।

সোনার দামের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা।




তিতাসে নতুন কূপ উদ্বোধন, দৈনিক মিলবে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

তিতাসে নতুন কূপ উদ্বোধন, দৈনিক মিলবে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
ছবি সংগৃহীত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কূপটির উদ্বোধন করা হয়।

বিজিএফসিএলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৫টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়েছে।

চীনের সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় কূপটির খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রায় ছয় মাসের কাজ শেষে ২০২৬ সালের ১১ জুন এর খননকাজ সম্পন্ন হয়।

বিজিএফসিএল জানায়, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি)। কূপটির কমপ্লিশন কাজ শেষ হওয়ার পর ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) ও প্রোডাকশন টেস্টিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

কূপটি খনন ও সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পরীক্ষার পর কূপটি থেকে দৈনিক ১১–১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

বিজিএফসিএলের মতে, নতুন এই কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস-সংকট কিছুটা কমবে। পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১১টি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।