সংবাদ প্রকাশের ১৩ দিনের মধ্যে সচল হলো লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট

বান্দরবানের থানচি উপজেলার জলবায়ু সহনশীল লজিক (LoGIC) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সৌরচালিত ভূপ্রকৃষ্ঠ পানি পরিশোধন প্লান্ট উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ার বিষয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে ‘উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সচল হয়েছে প্লান্টটি। প্রতিবেদন প্রকাশের ১৩ দিনের মধ্যে প্লান্টে ইনভার্টার স্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে দীর্ঘদিন পর সুপেয় পানি পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট পাড়ার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের Local Government Initiative on Climate Change (LoGIC) প্রকল্পের জলবায়ু সহনশীল স্কিমের আওতায় সৌরচালিত এই পানি পরিশোধন প্লান্টটি স্থাপন করা হয়। প্লান্টটির মাধ্যমে পাড়াবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্লান্টের ইনভার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে পাড়াবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
এ নিয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে প্লান্টে নতুন ইনভার্টার স্থাপন করে দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় পানি সরবরাহ শুরু হলে স্বস্তি ফিরে আসে পাড়াবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির প্লান্টটি চালু হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট থাকায় এ ধরনের প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যাতে যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে আবারও পানি সরবরাহ বন্ধ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
একজন পাড়াবাসী বলেন, “প্লান্টটি চালু হওয়ায় আমরা এখন নিয়মিত পানি পাচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে প্লান্টটি যেন নিয়মিত সচল থাকে, সেটিই এখন আমাদের প্রত্যাশা।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনভার্টার স্থাপনের পর পানি পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী স্থানীয় জনগণ যাতে নিয়মিত নিরাপদ পানি পায়, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। একই সঙ্গে পাড়াবাসীদের নিয়ে একটি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী দিনে তাঁরা নিজেরাই ছোটখাটো মেরামত বা প্লান্টটি সচল রাখতে সচেষ্ট হন।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জনস্বার্থের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।
পানির প্লান্ট সচল হওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর মেরামত নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির মান যাচাই এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ জরুরি। পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবার প্রকল্প যেন উদ্বোধনের পর অচল হয়ে না পড়ে, এটাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকার সচেতন মহলের প্রত্যাশা।










