নাইক্ষ্যংছড়ির ফাত্রাঝিরিতে বিজিবির পক্ষ থেকে ৩৩০ জন মানুষের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির ফাত্রাঝিরিতে বিজিবির পক্ষ থেকে ৩৩০ জন মানুষের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

নাইক্ষ্যংছড়ির ফাত্রাঝিরিতে বিজিবির পক্ষ থেকে ৩৩০ জন মানুষের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কিয়াংয়ে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী এবং দুস্থদের মাঝে রেশনসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কিয়াংয়ে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী এবং দুস্থদের মাঝে রেশনসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের ভিশন—“সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক”—বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি-এর নেতৃত্বে দুজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজুপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ ফাত্রাঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৩৩০ জন অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়াও স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কিয়াংয়ে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী এবং দুস্থদের মাঝে রেশনসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি সীমান্ত পাহারা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সবসময় সীমান্তবর্তী অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”




লক্ষ্মীছড়িতে গাজী রাবার প্লান্টেশনের বিরুদ্ধে ভূমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

লক্ষ্মীছড়িতে গাজী রাবার প্লান্টেশনের বিরুদ্ধে ভূমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ২১৮ নম্বর জুর্গাছড়ি মৌজায় গাজী রাবার প্লান্টেশনের বিরুদ্ধে শত একর জমি জবরদখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজিসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, পুনর্বাসিত কৃষকদের জমির একটি অংশ ক্রয় করলেও একটি বড় অংশ জোরপূর্বক দখল করে রাবার বাগান করা হয়েছে। জমির মালিকরা নিজ জমিতে যেতে চাইলে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী, ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, আবদুর রউফ ও জাহাঙ্গীর আলম এসব জমি দখলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি দপ্তরে অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও প্রতিকার পাননি তারা। ভূমি সংক্রান্ত এই বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি তারা সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল কাদির, আফাজ উদ্দিন ও আব্দুর জলিল উপস্থিত ছিলেন।




নাইক্ষ্যংছড়ির কম্বোনিয়া থেকে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দ

নাইক্ষ্যংছড়ির কম্বোনিয়া থেকে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর চাকঢালা বিওপির টহলদল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৯৯৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

(২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার) দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাকঢালা বিওপির বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৪৪ থেকে ৪.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কম্বোনিয়া বাজার এলাকায় এ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯ হাজার ৯৯৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

উদ্ধারকৃত বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




সংবাদ প্রকাশের ১৩ দিনের মধ্যে সচল হলো লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট

সংবাদ প্রকাশের ১৩ দিনের মধ্যে সচল হলো লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার জলবায়ু সহনশীল লজিক (LoGIC) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সৌরচালিত ভূপ্রকৃষ্ঠ পানি পরিশোধন প্লান্ট উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অচল হয়ে পড়ার বিষয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে ‘উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সচল হয়েছে প্লান্টটি। প্রতিবেদন প্রকাশের ১৩ দিনের মধ্যে প্লান্টে ইনভার্টার স্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে দীর্ঘদিন পর সুপেয় পানি পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট পাড়ার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের Local Government Initiative on Climate Change (LoGIC) প্রকল্পের জলবায়ু সহনশীল স্কিমের আওতায় সৌরচালিত এই পানি পরিশোধন প্লান্টটি স্থাপন করা হয়। প্লান্টটির মাধ্যমে পাড়াবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্লান্টের ইনভার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে পাড়াবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।

এ নিয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে প্লান্টে নতুন ইনভার্টার স্থাপন করে দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় পানি সরবরাহ শুরু হলে স্বস্তি ফিরে আসে পাড়াবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির প্লান্টটি চালু হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট থাকায় এ ধরনের প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যাতে যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে আবারও পানি সরবরাহ বন্ধ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একজন পাড়াবাসী বলেন, “প্লান্টটি চালু হওয়ায় আমরা এখন নিয়মিত পানি পাচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে প্লান্টটি যেন নিয়মিত সচল থাকে, সেটিই এখন আমাদের প্রত্যাশা।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনভার্টার স্থাপনের পর পানি পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী স্থানীয় জনগণ যাতে নিয়মিত নিরাপদ পানি পায়, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। একই সঙ্গে পাড়াবাসীদের নিয়ে একটি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী দিনে তাঁরা নিজেরাই ছোটখাটো মেরামত বা প্লান্টটি সচল রাখতে সচেষ্ট হন।

এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জনস্বার্থের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।

পানির প্লান্ট সচল হওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর মেরামত নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির মান যাচাই এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ জরুরি। পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবার প্রকল্প যেন উদ্বোধনের পর অচল হয়ে না পড়ে, এটাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকার সচেতন মহলের প্রত্যাশা।