শতভাগ পাসের হার নিয়ে সাফল্যের শীর্ষে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

শতভাগ পাসের হার নিয়ে সাফল্যের শীর্ষে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ

শতভাগ পাসের হার নিয়ে সাফল্যের শীর্ষে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরইয়ে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় আবারও শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে। ধারাবাহিক এই সাফল্য বজায় রাখায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে আনন্দের বন্যা বইছে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—এই তিন বিভাগে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শতভাগ পাসের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জনে আবারও নিজেদের সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ জন এ প্লাস (A+), ৪২ জন এ (A) এবং ১ জন এ মাইনাস (A-) গ্রেড পেয়েছেন। বিভাগভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

পাহাড়ি জনপদে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কোয়ান্টাম দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে।

পাহাড়ের শিক্ষাঙ্গনে কোয়ান্টামের এ অর্জন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, কঠোর অধ্যবসায়, সুশৃঙ্খল নিয়মকানুন এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁরা সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।




বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে কোথায় কত জিপিএ লাগবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে কোথায় কত জিপিএ লাগবে
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে শনিবার (৩১ অক্টোবর)। এখন শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে নভেম্বরে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তির আবেদনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর শর্ত ভিন্ন হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৬ থাকলেও আবেদন করা যাবে। আবার কোথাও প্রয়োজন মোট জিপিএ ৮ থেকে ৯। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট জিপিএর পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিষয়ে পৃথক গ্রেড পয়েন্টের শর্তও রয়েছে।

বুয়েট, ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনে কত জিপিএ প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষে ভর্তির আবেদন শুরু হবে আগামী ১১ নভেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে।

বিজ্ঞান ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ কমপক্ষে ৮ থাকতে হবে। পৃথকভাবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ৫০-এর কম হওয়া যাবে না। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ইউনিটে আবেদন করতে চাইলে মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ থাকতে হবে।

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৩ থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট জিপিএ ৮ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ প্রয়োজন।

ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটেও ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ ৮ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ প্রয়োজন।

চারুকলা ইউনিটে যে কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ থাকতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ জিপিএ শর্ত এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পৃথকভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩ এবং মোট জিপিএ ৭ থাকতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পৃথকভাবে কমপক্ষে ৩ এবং মোট জিপিএ ৭ প্রয়োজন।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ এবং মোট জিপিএ ৮ নির্ধারিত ছিল। সব ক্ষেত্রে চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ গণনা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি এবং মানবিক ইউনিটের পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়সূচি রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিগত বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ এবং কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫০ প্রয়োজন ছিল।

পৃথকভাবে এসএসসি ও এইচএসসিতে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হতো। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট জিপিএ ৮ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ নির্ধারিত ছিল।

গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৮ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৪ থাকতে হতো। জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৯ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ৪ প্রয়োজন ছিল।

চারুকলা ও নাট্যকলা সংশ্লিষ্ট ‘সি-১’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ নির্ধারিত ছিল।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘ই’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৮ প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে এসএসসিতে ন্যূনতম ৪ এবং এইচএসসিতে ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হতো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন আগামী ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচটি ইউনিটে আবেদনের জিপিএ শর্ত ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭ থাকতে হবে। পৃথকভাবে কোনো পরীক্ষায় ৩-এর কম থাকা যাবে না।

কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটে মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২ দশমিক ৭৫-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ থাকতে হবে। চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘ই’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৫ দশমিক ৫০ এবং পৃথকভাবে কমপক্ষে ২ দশমিক ৫০ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসির ফলের পাশাপাশি উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের গ্রেড পয়েন্ট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ বছর এখনো বুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা অনুযায়ী, বুয়েটে আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৪ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রয়োজন ছিল।

একই সঙ্গে এইচএসসিতে উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন- প্রতিটি বিষয়ে পৃথকভাবে গ্রেড পয়েন্ট ৫ থাকতে হতো। অর্থাৎ শুধু এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেই আবেদন করার যোগ্যতা অর্জিত হতো না; নির্দিষ্ট তিনটি বিষয়েও সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব শর্ত বহাল থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি বুয়েট কর্তৃপক্ষ। শিগগির এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাবে বুয়েট।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪ প্রয়োজন ছিল।

এইচএসসিতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পৃথকভাবে কমপক্ষে গ্রেড পয়েন্ট ৪ এবং ইংরেজিসহ চারটি বিষয়ে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৮ থাকতে হতো। নতুন শিক্ষাবর্ষে জিপিএ ও বিষয়ভিত্তিক গ্রেডের শর্ত চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (চুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪ প্রয়োজন ছিল।

চুয়েটে ভর্তি আবেদন করতে এইচএসসিতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৪ এবং ইংরেজিতে ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৩ থাকতে হতো।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞানে কমপক্ষে গ্রেড পয়েন্ট ৪-এর অতিরিক্ত শর্ত ছিল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো শর্ত নির্ধারণ করলে সেটিই কার্যকর হবে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকায় এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পাশাপাশি এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—এই তিন বিষয়ে মোট গ্রেড পয়েন্ট কমপক্ষে ১৪ থাকতে হতো।

নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষে এসব শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হলেও জিপিএর চূড়ান্ত শর্ত নতুন ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি উপ-কমিটি।

তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৮ প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে এসএসসিতে কমপক্ষে ৪ এবং এইচএসসিতে কমপক্ষে ৩ থাকতে হতো।

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ ৬ দশমিক ৫০ এবং বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৭ প্রয়োজন ছিল।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ ৭ এবং সমন্বিত ‘ডি’ ইউনিটে মোট জিপিএ ৭ দশমিক ৫০ নির্ধারিত ছিল।

গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়
সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত জিপিএ শর্ত এখনো নিশ্চিত হয়নি।

গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ এবং মোট জিপিএ ৭ প্রয়োজন ছিল।

মানবিক বিভাগের ‘বি’ ইউনিটে দুই পরীক্ষায় পৃথকভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৩ এবং মোট জিপিএ ৬ থাকতে হতো। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ‘সি’ ইউনিটে পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩ এবং মোট জিপিএ ৬ দশমিক ২৫ নির্ধারিত ছিল।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই ভর্তি পরীক্ষার ফল দিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান বিভাগের ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩ এবং মোট জিপিএ ৬ দশমিক ৫০ প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে এইচএসসিতে গণিতে কমপক্ষে গ্রেড পয়েন্ট ৩ থাকতে হতো।

‘বি’ ইউনিটে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩ এবং মোট জিপিএ ৬ থাকলে আবেদনের সুযোগ ছিল।

তবে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির জন্য উচ্চমাধ্যমিকে নির্দিষ্ট বিষয়ে অতিরিক্ত গ্রেড পয়েন্টের শর্ত রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে এসব যোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হবে।

কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছে আবেদনের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত ছিল।

একই সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় ছাড়া পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৪ এবং দুই পরীক্ষা মিলিয়ে কমপক্ষে জিপিএ ৮ দশমিক ৫০ থাকতে হতো।

নতুন শিক্ষাবর্ষে আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের এ শর্ত বহাল থাকবে কি না, তা চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে।

আবেদনের আগে যা জানা জরুরি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু এসএসসি ও এইচএসসির মোট জিপিএ দেখলেই হবে না। দুই পরীক্ষায় পৃথকভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএ থাকতে হবে। পাশাপাশি চতুর্থ বিষয়সহ বা চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ গণনা, নির্দিষ্ট বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সাল এবং বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষ করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে মোট জিপিএ ৮ প্রয়োজন হলেও পৃথকভাবে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০-এর শর্ত থাকলে শুধু মোট জিপিএ ৮ হলেই আবেদন করা যাবে না।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশ করেনি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আগের শিক্ষাবর্ষের শর্তকে চূড়ান্ত ধরে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যোগ্যতা ও সময়সূচি মিলিয়ে নিতে হবে।




টানা দুই বছর ‘ফল বিপর্যয়’, এবার ফেল প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী

টানা দুই বছর ‘ফল বিপর্যয়’, এবার ফেল প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী
ছবি সংগৃহীত।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় টানা দুই বছর ধরে ফল বিপর্যয়ের চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পর এবার তা আরও কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা। চলতি বছরের পরীক্ষায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ হাজার ৫৯২ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাকি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছিলেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে বছর ফেল করেছিলেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সে হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট। ধারাবাহিক এই পতন শিক্ষা ব্যবস্থার মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

২০২৫ সালের ফল বিপর্যয়ের পর শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা শিক্ষাঙ্গনের অস্থির পরিবেশ, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষায় বিনিয়োগের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দুর্বলতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এবারও ফল বিপর্যয়ের চিত্র অব্যাহত থাকায় গত বছর চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে নেওয়া উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়েছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এবারের ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের পাসের হার কম। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। সব বোর্ড মিলিয়ে উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও উদ্বেগজনক। এ বছর ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ২০২টি।

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৬৯ হাজার ৯৭। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন। দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন।




এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে : শিক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের যেন আরও একটি বছর নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এক বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনের পরীক্ষা নিতে হবে। এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।

তিনি বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।’

পরীক্ষার সময় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত বা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকবে। আবার পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে তাদের ভর্তি কার্যক্রমেও প্রভাব পড়বে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। গত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছিল। সেগুলো যাচাই করে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছিল। প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছিল এবং ৩ হাজার ৭৯ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং খাতা মূল্যায়নে বেশি ভুল হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ হচ্ছে। আগামী দিনে যেন স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় এবং সঠিক ফল প্রকাশ করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে।’

এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একটি বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা যায়, সে জন্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

এবার পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন না। শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে। প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা যায় কি না, তা ভাবা হচ্ছে। তবে এতে শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়াতে হবে, বাড়িতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এবং বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।

আগের বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকার বিষয়ে তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা আরও পরিষ্কার হবে। পরীক্ষক ও শিক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও দেখা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু মান বজায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবাই পাবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের ঘটনা তার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পাল্টে দেওয়া হয়েছে এবং সংঘবদ্ধভাবে ফল পরিবর্তনের অপচেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে, বাকিগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষক এবং প্রশ্নপত্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে চিহ্নিত করা হচ্ছে।