মির্জা আব্বাস: টাকার লোভে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

মির্জা আব্বাস: টাকার লোভে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক

মির্জা আব্বাস: টাকার লোভে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক
ছবি সংগৃহীত।

দলের ভেতরে থেকেই একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেছেন, বিএনপির কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে। দলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহজানপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার পাঁচ থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা শুনছি, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের ভেতরকার কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সাফ কথা—বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। দলের ভেতরের কেউ যদি এদের সহযোগিতা করেন, আমাদের জানাবেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতকারীদের হুঁশিয়ার করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তি না পেয়ে একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এমন অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করার অধিকার সবার রয়েছে। তারা রাজনীতি করুক, তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কেউ অপকর্ম করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু ভাবছেন। কিন্তু বিএনপি এখনো মাঠে নামে নাই। আজকে ছোট্ট পরিসরে এবং বৃষ্টির মধ্যে এই সভায় মানুষের যে বাঁধভাঙা সাড়া ও আবেগ দেখা গেছে, তা থেকে বুঝে রাখুন—ঢাকা শহরে বিএনপি মাঠে নামলে কী হবে।’

তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের মিত্ররা কখনো বিএনপির বন্ধু হতে পারে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ নিজের অবস্থান বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলে দল তাদের ছাড় দেবে না।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাদ মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সোহাগ ভূঁইয়াসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




সরকার পতন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

সরকার পতন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

সরকারের উদ্দেশে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা গণভোটের গণরায় অস্বীকার করেছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এর মাশুল আপনাদের দিতে হবে। আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। জনগণ রাজপথে নামলে দাবি আদায় করেই ছাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নিন। অন্যথায় এক দফার ডাক দেওয়া হবে। সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের যশোরের মুড়লীর মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

যশোর জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা নাহলে আবারও দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’

বক্তব্যে সরকারি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কারা কারা কার্ড পেয়েছেন হাত তোলেন। কিন্তু কারও হাত দেখতে না পেয়ে তিনি বলেন, ‘এই কার্ড কারও বাবার তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এখানে কেউই পাননি কেন? এই কার্ড সব পুকুরপাড়ে চলে গেছে।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জাতিকে নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। গণভোটের গণরায় নিয়ে আপনারা বেইমানি করেছেন। যা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমেছে। এই দাবি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এক দফার ওজন কেউ সহ্য করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না।’

দাবি বাস্তবায়নে অবিলম্বে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখনই মেনে নিন, ঘোষণা দিন।’

বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়েও সতর্ক করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।

জনগণের ওপর জুলুম ও অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

এর আগে দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়। ৩টা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো এলাকা। পথসভায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান, মুফতি শরাফত হোসেন প্রমুখ।

পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন যশোর যশোর-৬ আসনের এমপি মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ প্রমুখ।

যশোরের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চুড়ামনকাটি, সাতমাইল হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। এসময় রাস্তার দুই পাশে শত শত নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে: নাহিদ ইসলাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের মিছিল বড় হবে: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে মিছিল আরও বড় হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, মানুষের জীবন নাজেহাল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি পদত্যাগ না করেন, আমাদের মিছিল বড় হবে। আমরা দাবি আদায়ে মিছিল নিয়ে তারেক রহমানকে ঘেরাও করবো।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। আমরা দেখছি তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা আছে দুর্নীতি, চাঁজাবাজি, দখলবাজির। বিএনপির মধ্যে নব্য স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি।

এ সময় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ডিসেম্বরে নাকি পতিত স্বৈরাচার দেশে আসবে। বিএনপি তাদের রক্ষা করতে পারেনি। বিএনপি অতীতে নিজেদের নেতাকর্মীদের রক্ষা করতে পারেনি। জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে৷ সীমান্ত হত্য, হিন্দুদের নিয়ে ষড়যন্ত্র, পাহাড় অশান্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।




বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান

বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। আপনাদের দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, তাদের সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা রয়েছেন, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দেবেন। নিজের দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন। তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।

তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন? ৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন। অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে।

জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না। বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়।’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন?

তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান।

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি।

তিনি বলেন, জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেননি। আমরাও করব না, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, প্রিয় জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রথম লংমার্চ হয়েছে। এর আগে ভারত নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই। যে লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই, সেটি নিয়ে এত পেরেশানি কেন? সাড়া আছে কি না, জনগণই তার সাক্ষী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। কেউ যেন আমাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন।

তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।