লোহাগাড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, রয়েল ফার্মেসিকে জরিমানা
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

লোহাগাড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, রয়েল ফার্মেসিকে জরিমানা

লোহাগাড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, রয়েল ফার্মেসিকে জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে একটি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বটতলী মোটর স্টেশনের স্কুল রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ‘রয়েল ফার্মেসি’তে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এ সময় ফার্মেসির মালিক মিনহাজ উদ্দিনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অীভযান পরিচালনা করেন লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন। তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভোক্তাদের স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে লোহাগাড়া থানা পুলিশের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 




সাতকানিয়ার জোটপুকুরিয়া বাজারের নতুন কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক

সাতকানিয়ার জোটপুকুরিয়া বাজারের নতুন কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জোটপুকুরিয়া বাজার পরিচালনা কমিটির নতুন কমিটি ঘোষণা ও বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে জোটপুকুরিয়া বাজার প্রাঙ্গণে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মাহমুদুল হক সওদাগরের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক বিশু দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি শেখ আহমদ সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সওদাগর, উপদেষ্টা মীর আহমদ সওদাগর, জাগির সওদাগর, মোজাফফর সওদাগর, সমীর তালুকদার, শিক্ষক আতিকুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অভিষেক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির সভাপতি শেখ আহমদ সওদাগর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অসচ্ছল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন, বাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের নতুন কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। বাজারের অগ্রযাত্রায় আমরা সব ব্যবসায়ীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি।”

সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সওদাগর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের টিম সবসময় মাঠে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারটি কাঙ্ক্ষিত সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার আমরা সব ব্যবসায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

বাজারের প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মাহমুদুল হক সওদাগর নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও রাতে দোকানে কেউ না থাকার সুযোগে পেছনের দিক ভেঙে চুরি ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। তাই রাতের বেলা প্রতিটি দোকানে অন্তত একজন মালিক বা কর্মচারী অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এদিকে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা নতুন কমিটির প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, বাজারের নিরাপত্তা জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ব্যবসায়ীদের সার্বিক কল্যাণ ও বাজার সংস্কারে এ নতুন নেতৃত্ব জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলেও তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




সাতকানিয়ায় ছদাহা আফজল নগর তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন

সাতকানিয়ায় ছদাহা আফজল নগর তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে কুরআনে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সাতকানিয়ায় এক বর্ণাঢ্য হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার রাতে ছদাহা আফজল নগর তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে স্থানীয় এস ডি দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এই চমৎকার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী কার্যক্রম

তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রধান বক্তার মূল্যবান আলোচনা

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী আলোচনা পেশ করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ কাদেরী। তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজদের মর্যাদা ও ফজিলত তুলে ধরে বলেন,

"কুরআনের হাফেজদের আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত উঁচু মর্যাদা রয়েছে। বিচার দিবসে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তাঁরা নিজেদের পরিবারের এমন দশজন সদস্যকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন, যাঁদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের পিতা-মাতাকেও বিশেষ নূরানি মুকুট ও মর্যাদায় ভূষিত করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, দুনিয়াবি শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তুলতে হলে কুরআনের শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই আসুন, আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করে ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত কল্যাণ লাভ করি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে কুরআন শিক্ষার চর্চা এবং এ ধরনের হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ মেহমান হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোরশেদ আলমসহ এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রথিতযশা শিক্ষক ও আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরাম। বক্তারা কুরআন চর্চার গুরুত্ব এবং রিসার্চ সেন্টারের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পুরস্কার বিতরণ ও মোনাজাত

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। বিজয়ীদের পদচারণায় এবং উপস্থিত সবার মুখে বিজয়ের হাসিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন সাতবাড়িয়া দরবার শরীফের পীর শাহ আব্দুল হালিম রশীদি।




ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!

ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৩টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর। আগুনে তাদের ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগুন লাগার আগে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে জামাল উদ্দীন আহমদের ঘরের প্রায় ৫০ আঁড়ি ধান, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার বসতঘরও পুড়ে গেছে। তাঁর পরিবারের দাবি, এতে প্রায় এক লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে আবুল মনসুরের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বলেন, ‘আগুনে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ ও দুটি এনজিওর কিস্তি পরিশোধের জন্য জমানো আমার প্রায় ৭০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে।’

রাকিবের ভাই আকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন পাশের কয়েকজন ব্যক্তি। এ নিয়ে রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়।

আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ঘরের মধ্যে একটি সেমিপাকা, একটি বেড়ার এবং অন্যটি মাটির তৈরি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া আনোয়ারা থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।