লামায় আওয়ামী লীগ নেতার পিভিএন ইটভাটায় দেদার কাটা হচ্ছে পাহাড়
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

লামায় আওয়ামী লীগ নেতার পিভিএন ইটভাটায় দেদার কাটা হচ্ছে পাহাড়

লামায় আওয়ামী লীগ নেতার পিভিএন ইটভাটায় দেদার কাটা হচ্ছে পাহাড়
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা কাঁঠালছড়া এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরের মালিকানাধীন 'পিভিএন' ইটভাটায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। বুলডোজার ও এস্কেভেটর দিয়ে দিন-রাত পাহাড় কেটে সেই মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরির কাজে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে সংলগ্ন বসতি ও যাতায়াতের পথ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইয়াংছা কাঁঠালছড়া এলাকার পিভিএন ইটভাটা-সংলগ্ন উঁচু পাহাড়গুলো এক্সকাভেটর (ভেকু) ও বুলডোজার দিয়ে বেপরোয়াভাবে কাটা হচ্ছে। পাহাড় কেটে সমতল করার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসন বা পরিবেশ দপ্তরের কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের কয়েকটি পরিবার ও কৃষিজমি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইটভাটায় পাহাড়ের মাটি ব্যবহার ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে এভাবে বেপরোয়া পাহাড় কাটার ফলে প্রতি বর্ষায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পাহাড় কাটার কারণে প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট হচ্ছে এবং পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পলি জমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা অবিলম্বে এ অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী পিভিএন ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন জানান, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলা প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




দুর্ভোগের অবসান: রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প; ১২ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইসহ তৈরি হবে ৩টি সেতু ও ৪১টি কালভার্ট

দুর্ভোগের অবসান: রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক প্রশস্তকরণে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প; ১২ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইসহ তৈরি হবে ৩টি সেতু ও ৪১টি কালভার্ট
ছবি সংগৃহীত।

অবশেষে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়নে ১৯৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে রামুর রাবারবাগান এলাকায় নির্মাণসামগ্রী মজুতের কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টি কমলে মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩ দশমিক ৮১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতকরণ, ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট এবং ৮ দশমিক ৪১ কিলোমিটার সড়কে বিটুমিনাস সারফেসিং করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ৩টি নতুন সেতু ও ৪১টি কালভার্ট।

পাহাড়ি ঢল নামা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি সসার ড্রেন ও ইউ-ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্লোপ প্রটেকশন ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। পাহাড়ধস রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশগত সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সীমান্ত নিরাপত্তা, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার খবরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং রামুর কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়ার লাখো মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার বইছে।




বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা, আসামি গ্রেপ্তার

বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা, আসামি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল হাকিম (২৩) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন কিশোরীর মা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আলীকদম উপজেলার ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিবাতলী পাড়া এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে আব্দুল হাকিমের প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে আব্দুল হাকিম বিভিন্ন সময় কিশোরীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরীকে শাসন করা হয়। প্রায় সাত-আট মাস আগে আব্দুল হাকিম কিশোরীকে নিয়ে চকরিয়ায় চলে যান বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৩১ জুলাই কিশোরীর মা তার অসুস্থ ছোট ছেলেকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়ায় নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি ঘরের ভেতর আব্দুল হাকিমকে কিশোরীর সঙ্গে দেখতে পান। পরে কিশোরীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে অভিযোগ করে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আব্দুল হাকিম তাকে ধর্ষণ করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কিশোরীর সঙ্গে আব্দুল হাকিমের বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরদিন আব্দুল হাকিম কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্যত্র চলে যান। পরে তার পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় কিশোরীর মা আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আলীকদম থানার সাব-ইন্সপেক্টর উপন বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে আলীকদম থানায় মামলা হয়েছে (মামলা নম্বর-০৪, তারিখ-১৪/০৮/২০২৬, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১)) । আসামি আব্দুল হাকিমকে লামা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবাসহ এফডিএমএন সদস্য আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবাসহ এফডিএমএন সদস্য আটক
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা বড়িসহ মো. শহিদুল (১৯) নামে এক এফডিএমএন সদস্য আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড় ১০টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) ঘুমধুম বিওপির বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ৩১/২-আর থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মণ্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এফডিএমএন ক্যাম্প-৭, ব্লক-বি/২-এর বাসিন্দা মো. শহিদুলকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি আরও জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে ইয়াবাসহ তাকে থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।